ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রূপসায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত Logo আমতলীতে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে আসার পথে ব্রীজ ভেঙ্গে ৯জন নিহত Logo বরুড়ায় আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত Logo চাঁপাই নবাবগঞ্জে ১৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার সহ দুইজন গ্রেফতার Logo সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে কালীগঞ্জে মানববন্ধন Logo গলাচিপায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন Logo তোমাকে যে ধরতে আমি চাই Logo নওগাঁ থেকে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo মুরাদনগরে রোহিঙ্গাকে জন্ম নিবন্ধন করে দেওয়ায় ইউপি সচিব গ্রেফতার Logo ছিংহাই-তিব্বত মালভূমির পরিবেশ রক্ষা ও উচ্চ-মানের উন্নয়নে জোর দিয়েছেন সি চিন পিং

কুমেক হাসপাতালে প্রতারণার অভিযোগে দুই নারী দালাল আটক

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার, কুমিল্লা

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে এবার নারী দালালের ফাঁদে রোগীরা কমিশনের টাকার বিনিময়ে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিকে সরবরাহ করার দালাল চক্র সবসময় সক্রিয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ সরল রোগীদের টার্গেট করে সেবার নামে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারকচক্র। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সক্রিয় এই চক্রে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম লিখে ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে রোগীদের কাছে ঘেষেন তারা। দ্রুত ডাক্তার দেখিয়ে দেয়া এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে নারীদের এই চক্রটি রোগীদের নিয়ে যায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে নানান ভাবে ঠকে ফিরতে হয় রোগীদের।
সোমবার(৩ জুন) দুপুরে নানান প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই নারী দালালকে আটক করেছে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা। তাসলিমা বেগম ও ইক্বরা আক্তার নামে ওই দুই নারীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোশারফ হোসেন ভ্রাম্যমান আদালতে তাসলিমা বেগমকে ১০ দিনের জেল এবং কলেজ শিক্ষার্থী হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় ইক্বরা আক্তারকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আনসার কমান্ডার মোঃ মোসলেম উদ্দিন জানান, চাঁদপুর জেলার কচুয়া এলাকা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন আবদুর রহমান। এসময় আবদুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তাসলিমা বেগম নামে ওই নারী আবদুর রহমানের স্ত্রী ও মেয়েকে ভুলিয়ে পাশের একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ৬টি পরীক্ষা করানোর কথা বলে ৪টি পরীক্ষা করিয়ে তাদেরকে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে তাসলিমা বেগম নামে ওই নারীকে খুঁজে না পেয়ে আনসারের সহযোগিতা নেয়া হয়। পরে আনসার সদস্যরা তাসলিমা বেগমকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী আবদুর রহমান জানান, আমরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি পাশের জেলা চাঁদপুর থেকে। আমার স্ত্রী অসুস্থ। হাসপাতালে আসার পর এক নারী আমাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লেখা একটা কার্ড দিয়ে জানায়- সে দ্রুত ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে দিবে। আমার মেয়ে তাতে রাজি হলে – আমরা সেখানে যাই। পরে সেখানে ৬টা পরীক্ষার জন্য আমার কাছ থেকে ৩ হাজার ৬ শ টাকা রাখা হয়। পরে দেখি আমাকে ৪টি পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। আমরা তো কিছু চিনি না, একজন এসে যখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লেখা কার্ড দিয়েছে ভাবলাম তিনি এখানকার কেউ।

আটক তাসলিমা বেগম জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেই হেলথ্ ভিউ ডায়গনস্টিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন তিনি। তার কাজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীদের নিয়ে ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া।

অপরদিকে রোগীদের চিকিৎসক দেখিয়ে দেবার কথা বলে অগ্রিম টাকা তোলার অপরাধে ইক্বরা আক্তার নামে এক তরুনীকে আটক করা হয়। সে জানায়, রোগীদের বুঝিয়ে ডাক্তার দেখানোর সিরিয়াল দেয়ার কাজ দেয়া হয়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, আটকৃতদের মধ্যে একজনকে ১০ দিনের জেল দেয়া হয়েছে এবং অপর একজনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বেশ কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোঁখ ফাঁকি দিতে এখন নারীদের ব্যবহার করছে দালালরা। যাদের খপ্পরে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা জানান, আমরা দালাল নির্মূলে কাজ করছি। অনেককে ধরে পুলিশে দিয়েছি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপসায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

কুমেক হাসপাতালে প্রতারণার অভিযোগে দুই নারী দালাল আটক

আপডেট সময় ০৩:১০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার, কুমিল্লা

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে এবার নারী দালালের ফাঁদে রোগীরা কমিশনের টাকার বিনিময়ে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিকে সরবরাহ করার দালাল চক্র সবসময় সক্রিয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ সরল রোগীদের টার্গেট করে সেবার নামে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারকচক্র। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সক্রিয় এই চক্রে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম লিখে ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে রোগীদের কাছে ঘেষেন তারা। দ্রুত ডাক্তার দেখিয়ে দেয়া এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে নারীদের এই চক্রটি রোগীদের নিয়ে যায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে নানান ভাবে ঠকে ফিরতে হয় রোগীদের।
সোমবার(৩ জুন) দুপুরে নানান প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই নারী দালালকে আটক করেছে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা। তাসলিমা বেগম ও ইক্বরা আক্তার নামে ওই দুই নারীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোশারফ হোসেন ভ্রাম্যমান আদালতে তাসলিমা বেগমকে ১০ দিনের জেল এবং কলেজ শিক্ষার্থী হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় ইক্বরা আক্তারকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আনসার কমান্ডার মোঃ মোসলেম উদ্দিন জানান, চাঁদপুর জেলার কচুয়া এলাকা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন আবদুর রহমান। এসময় আবদুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তাসলিমা বেগম নামে ওই নারী আবদুর রহমানের স্ত্রী ও মেয়েকে ভুলিয়ে পাশের একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ৬টি পরীক্ষা করানোর কথা বলে ৪টি পরীক্ষা করিয়ে তাদেরকে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে তাসলিমা বেগম নামে ওই নারীকে খুঁজে না পেয়ে আনসারের সহযোগিতা নেয়া হয়। পরে আনসার সদস্যরা তাসলিমা বেগমকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী আবদুর রহমান জানান, আমরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি পাশের জেলা চাঁদপুর থেকে। আমার স্ত্রী অসুস্থ। হাসপাতালে আসার পর এক নারী আমাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লেখা একটা কার্ড দিয়ে জানায়- সে দ্রুত ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে দিবে। আমার মেয়ে তাতে রাজি হলে – আমরা সেখানে যাই। পরে সেখানে ৬টা পরীক্ষার জন্য আমার কাছ থেকে ৩ হাজার ৬ শ টাকা রাখা হয়। পরে দেখি আমাকে ৪টি পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। আমরা তো কিছু চিনি না, একজন এসে যখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লেখা কার্ড দিয়েছে ভাবলাম তিনি এখানকার কেউ।

আটক তাসলিমা বেগম জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেই হেলথ্ ভিউ ডায়গনস্টিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন তিনি। তার কাজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীদের নিয়ে ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া।

অপরদিকে রোগীদের চিকিৎসক দেখিয়ে দেবার কথা বলে অগ্রিম টাকা তোলার অপরাধে ইক্বরা আক্তার নামে এক তরুনীকে আটক করা হয়। সে জানায়, রোগীদের বুঝিয়ে ডাক্তার দেখানোর সিরিয়াল দেয়ার কাজ দেয়া হয়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, আটকৃতদের মধ্যে একজনকে ১০ দিনের জেল দেয়া হয়েছে এবং অপর একজনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বেশ কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোঁখ ফাঁকি দিতে এখন নারীদের ব্যবহার করছে দালালরা। যাদের খপ্পরে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা জানান, আমরা দালাল নির্মূলে কাজ করছি। অনেককে ধরে পুলিশে দিয়েছি।