মুক্তির লড়াই

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে বিষয়ভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসাসেবায় সমৃদ্ধ *মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের* শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।বুধবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি।বরুড়া উপজেলার মানুষের জন্য উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।মরহুম এ কে এম আবু তাহে'র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছিন। একই সঙ্গে হাসপাতালটি যেন মানুষের কল্যাণে কার্যকর ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।[TECHTARANGA-POST:7198]বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডাঃ মোহাম্মদ জুলকারনাইন  মজুমদারের সভাপতিত্বে ও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার এটিএম গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম, সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।তিনি বলেন, বরুড়ায় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের দিয়েও তিনি বিরতিহীনভাবে কাজ করিয়ে যাচ্ছেন এবং নিয়মিত কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আমরা বরুড়ার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”হাসপাতালটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রয়াত এ কে এম আবু তাহেরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি। হাসপাতালটি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ, বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকসহ চিকিৎসক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি পদায়নকৃত চিকিৎসক রয়েছেন একজন, সংযুক্ত চিকিৎসক দুইজন, সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনজন, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার দুইজন, ওয়ার্ডবয় একজন এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট একজন। সীমিত জনবল নিয়েই প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শুরুর দিকে হাসপাতালে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে না এবং সার্জারি কার্যক্রমও চালু হচ্ছে না। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন