ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাথরঘাটায় জেলেদের ওপর হামলা ও লুটতরাজের অভিযোগ

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও কুচক্রী মহলের হাতে সাধারণ জেলেরা চরমভাবে লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ এলাকায় চাঁদাবাজদের বাধা দিতে গেলে তিন জেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার করা হয়েছে।
​হামলার বিস্তারিত ঘটনা

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জালাল খা এবং তার সহযোগী জেলেদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল। আজ সেই বিরোধের জেরে বিবাদী পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাধারণ জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনজকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয় এবং একজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
​এর আগে পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মোঃ বাবুল খান (৫৫), মোঃ সিরাজ (৫০), মোঃ জসিম (৩৫) এবং মোঃ শাহিন (৪০)-সহ একটি চক্র নদী ও এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।

​সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো হলো: ​অযৌক্তিক চাঁদা দাবি: নদীতে জাল পাতার বিনিময়ে জেলেদের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে নদীতে নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

​মালামাল লুট: ইতিপূর্বে বিবাদীরা জেলেদের প্রায় ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা মূল্যের জাল ও দড়ি লুট করে নিয়ে যায়।
​হুমকি ও হয়রানি: বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আইন-কানুন বা সামাজিক কোনো রীতিনীতি তারা মানছে না।

​নিরাপত্তাহীনতায় গ্রামবাসী হামলার পর থেকে ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, থানায় জিডি করার পরেও সন্ত্রাসীদের দাপট কমেনি, বরং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আজ প্রকাশ্যে মারধর ও পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় পুরো জেলে পল্লীতে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

​প্রশাসনের প্রতি দাবি
​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষে মোঃ জালাল খা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যে:
১. এই হামলার সাথে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
২. লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ সাধারণ জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে এই অরাজকতা বন্ধ করতে হবে।

​এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

পাথরঘাটায় জেলেদের ওপর হামলা ও লুটতরাজের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:২১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও কুচক্রী মহলের হাতে সাধারণ জেলেরা চরমভাবে লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ এলাকায় চাঁদাবাজদের বাধা দিতে গেলে তিন জেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার করা হয়েছে।
​হামলার বিস্তারিত ঘটনা

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জালাল খা এবং তার সহযোগী জেলেদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল। আজ সেই বিরোধের জেরে বিবাদী পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাধারণ জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনজকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয় এবং একজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
​এর আগে পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মোঃ বাবুল খান (৫৫), মোঃ সিরাজ (৫০), মোঃ জসিম (৩৫) এবং মোঃ শাহিন (৪০)-সহ একটি চক্র নদী ও এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।

​সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো হলো: ​অযৌক্তিক চাঁদা দাবি: নদীতে জাল পাতার বিনিময়ে জেলেদের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে নদীতে নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

​মালামাল লুট: ইতিপূর্বে বিবাদীরা জেলেদের প্রায় ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা মূল্যের জাল ও দড়ি লুট করে নিয়ে যায়।
​হুমকি ও হয়রানি: বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আইন-কানুন বা সামাজিক কোনো রীতিনীতি তারা মানছে না।

​নিরাপত্তাহীনতায় গ্রামবাসী হামলার পর থেকে ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, থানায় জিডি করার পরেও সন্ত্রাসীদের দাপট কমেনি, বরং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আজ প্রকাশ্যে মারধর ও পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় পুরো জেলে পল্লীতে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

​প্রশাসনের প্রতি দাবি
​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষে মোঃ জালাল খা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যে:
১. এই হামলার সাথে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
২. লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ সাধারণ জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে এই অরাজকতা বন্ধ করতে হবে।

​এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।