ঢাকা   রোববার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

চানখারপুলে রক্তাক্ত জুলাই

ছয় হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড



ছয় হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

চানখারপুলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার ঘোষিত রায়ে যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনার সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ আলমকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনজনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন কর্মকর্তা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

রায়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমরুল হাসানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল সুজন, ইমন ও নাসিরুলকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে। রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারমুখী হয়ে ওঠে। আন্দোলন দমনের নামে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালায় পুলিশ। এতে স্কুল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আনাসসহ ছয়জন নিহত হন। আন্দোলনে নামার আগে আনাস তার মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি রেখে যান, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

ঘটনার দিনই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এই মামলার রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, কিছু আসামির ক্ষেত্রে কম সাজা হওয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি এবং রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত আনাস ও ইয়াকুবের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, এই রায়ে প্রকৃত ন্যায়বিচার হয়নি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দ্বিতীয় রায়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্ঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ক্ষেত্রে এটি প্রথম রায় হিসেবে বিচারিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকল।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ছয় হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

চানখারপুলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার ঘোষিত রায়ে যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনার সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ আলমকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনজনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন কর্মকর্তা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।


রায়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমরুল হাসানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল সুজন, ইমন ও নাসিরুলকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে। রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারমুখী হয়ে ওঠে। আন্দোলন দমনের নামে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালায় পুলিশ। এতে স্কুল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আনাসসহ ছয়জন নিহত হন। আন্দোলনে নামার আগে আনাস তার মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি রেখে যান, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।


ঘটনার দিনই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়।


দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এই মামলার রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, কিছু আসামির ক্ষেত্রে কম সাজা হওয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি এবং রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।


এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত আনাস ও ইয়াকুবের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, এই রায়ে প্রকৃত ন্যায়বিচার হয়নি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।


উল্লেখ্য, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দ্বিতীয় রায়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্ঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ক্ষেত্রে এটি প্রথম রায় হিসেবে বিচারিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকল।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত