ঢাকা   শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
মুক্তির লড়াই

টাকা দিলে মুক্তি, না দিলে জেল: ওসি আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ



টাকা  দিলে মুক্তি, না দিলে জেল: ওসি আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে সিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মুক্তি, টাকা না দিলে একাধিক মামলায় চালান, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক টাকা আদায়, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা, বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগ বানিয়ে হয়রানিসহ ১১ ক্যাটাগরির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ হেডকোয়াটার্স।


এর আগে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ সদর দপ্তর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একে একে মুখ খুলতে শুরু করে ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে হেডকোয়াটার্স সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিলে দায়িত্ব পড়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হুমায়ুন কবিরের ওপর। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে সিএমপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংস্থা পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট (পিআইও) ওসি বাবুল আজাদ নগরীর ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালন করার সময় বিভিন্ন অভিযোগ পায়। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ পৃষ্টার একটি প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেয় পিআইও। সেই প্রতিবেদনটি তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর সিএমপিতে তদন্তের জন্য পুনরায় পাঠায়। ওই প্রতিবেদনের একটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।


এতে দেখা যায় বাবুলের বিরুদ্ধে ১১ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। নির্বাচনের আগে বাবুল আজাদ চকবাজার থানায় বদলি হন।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক কারবারি ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারীদের সঙ্গে সখ্যতা ও মাসোয়ারা আদায়, ভুয়া মামলায় নিরিহ মানুষদের আটক রেখে নির্যাতন, উৎকোচ নিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্যাতন ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের সময় দুই জামায়াত কর্মী ও এক ছাত্রদল কর্মী হত্যার অভিযোগ রয়েছে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদনটির সূত্রে জানা যায়, ডবলমুরিং থানার ওসি থাকাকালে বাবুল আজাদ আগ্রাবাদের পানওয়ালা পাড়া নিয়মিত জুয়ার বোর্ড বসাতেন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এএসআই সেলিম সরকারের মাধ্যমে প্রতি মাসে সেখান থেকে ১ লাখ টাকা, ৩ জন শীর্ষ মাদক কারবারি থেকে ২ লাখ টাকা, হালিশহর, আগ্রাবাদ, বড়পুল, দেওয়ানহাটসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা অন্তত ১০টি জুয়ার বোর্ড থেকে মাসিক ভিত্তিতে কয়েক লাখ টাকা মাসোয়ারা আদায় করতেন তিনি।

এতে বলা হয়, গত বছরের ১১ জুলাই ৭ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডবলমুরিং থানা। পরে নগর ছাত্রদলের একজন শীর্ষ নেতার তদবিরে দুই লাখ টাকা দিয়ে চারজনকে ছেড়ে দেন ওসি। এরপর সে বছরের সেপ্টেম্বরে বিএনপি নেতা ও সিটিজেন ফোরামের সদস্য মাহবুব আলমকে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের মামলায় ঢুকিয়ে দেন ওসি বাবুল। পরে তার কাছ থেকে মামলা বাবদ দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দূর্গা পূজা বাবদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। একই বছর মুনসুরাবাদের বিকাশ ব্যবসায়ী এমরান হোসেন শাকিলকে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ধনে আনেন এসআই মোবিনুল ইসলাম। পরে দেনদরবার করে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে আগ্রাবাদের বাসিন্দা সাগির আহমদকে আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে থানায় ধরে এনে জামিন অযোগ্য মামলায় জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে চার লাখ টাকা আদায় করা হয়। টাকার অংক কম হওয়ায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ওই ব্যক্তিকে আদালতে পাঠান বাবুল আজাদ।

বাবুলের বিরুদ্ধে তদন্তে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যম কে জানান, থানাকে রীতিমতো জায়গা জমির সালিশ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন বাবুল আজাদ। এএসআই সেলিম, এসআই মানিক ঘোষ, এসআই জাহেদ হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ অফিসার তার অপকর্মের সহযোগী থাকেন সব কর্মস্থলে। পাহাড়তলী থানার পর ডবলমুরিংয়ে বদলি হয়ে আসলে তার ঘনিষ্ঠ অফিসারদেরও তিনি বদলি করান একই থানায়।

গত ৩০ আগস্ট জাহেদ ইকবাল নামে এক ব্যক্তিকে জমি জমা সংক্রান্ত বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার করে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। গত ৬ অক্টোবর মো. হাসান নামে একজন চুরির ঘটনায় মামলা করতে গেলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন বাবুল আজাদ। তাছাড়াও মামুন আলীসহ একাধিক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ বাবুলের বিরুদ্ধে বেশ পুরোনো। জানা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩০ তম আউটসাইট ক্যাডেট ব্যাচ হিসেবে যোগদান করেন বাবুল আজাদ। ২০১৫ সালে কক্সবাজারে মানবপাচারে জড়িত ২৪ পুলিশ কর্তার নামের সাথে তার নামও ওঠে আসে।

জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এণ্ড অপারেশন্স) ফয়সাল আহমেদ জানান, আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন। সেখানে কি আছে আমার জানা নেই।


নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে সিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মুক্তি, টাকা না দিলে একাধিক মামলায় চালান, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক টাকা আদায়, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা, বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগ বানিয়ে হয়রানিসহ ১১ ক্যাটাগরির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ হেডকোয়াটার্স।

এর আগে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ সদর দপ্তর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একে একে মুখ খুলতে শুরু করে ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে হেডকোয়াটার্স সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিলে দায়িত্ব পড়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হুমায়ুন কবিরের ওপর। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে সিএমপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংস্থা পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট (পিআইও) ওসি বাবুল আজাদ নগরীর ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালন করার সময় বিভিন্ন অভিযোগ পায়। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ পৃষ্টার একটি প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেয় পিআইও। সেই প্রতিবেদনটি তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর সিএমপিতে তদন্তের জন্য পুনরায় পাঠায়। ওই প্রতিবেদনের একটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

এতে দেখা যায় বাবুলের বিরুদ্ধে ১১ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। নির্বাচনের আগে বাবুল আজাদ চকবাজার থানায় বদলি হন।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক কারবারি ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারীদের সঙ্গে সখ্যতা ও মাসোয়ারা আদায়, ভুয়া মামলায় নিরিহ মানুষদের আটক রেখে নির্যাতন, উৎকোচ নিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্যাতন ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের সময় দুই জামায়াত কর্মী ও এক ছাত্রদল কর্মী হত্যার অভিযোগ রয়েছে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদনটির সূত্রে জানা যায়, ডবলমুরিং থানার ওসি থাকাকালে বাবুল আজাদ আগ্রাবাদের পানওয়ালা পাড়া নিয়মিত জুয়ার বোর্ড বসাতেন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এএসআই সেলিম সরকারের মাধ্যমে প্রতি মাসে সেখান থেকে ১ লাখ টাকা, ৩ জন শীর্ষ মাদক কারবারি থেকে ২ লাখ টাকা, হালিশহর, আগ্রাবাদ, বড়পুল, দেওয়ানহাটসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা অন্তত ১০টি জুয়ার বোর্ড থেকে মাসিক ভিত্তিতে কয়েক লাখ টাকা মাসোয়ারা আদায় করতেন তিনি।

এতে বলা হয়, গত বছরের ১১ জুলাই ৭ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডবলমুরিং থানা। পরে নগর ছাত্রদলের একজন শীর্ষ নেতার তদবিরে দুই লাখ টাকা দিয়ে চারজনকে ছেড়ে দেন ওসি। এরপর সে বছরের সেপ্টেম্বরে বিএনপি নেতা ও সিটিজেন ফোরামের সদস্য মাহবুব আলমকে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের মামলায় ঢুকিয়ে দেন ওসি বাবুল। পরে তার কাছ থেকে মামলা বাবদ দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দূর্গা পূজা বাবদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। একই বছর মুনসুরাবাদের বিকাশ ব্যবসায়ী এমরান হোসেন শাকিলকে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ধনে আনেন এসআই মোবিনুল ইসলাম। পরে দেনদরবার করে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে আগ্রাবাদের বাসিন্দা সাগির আহমদকে আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে থানায় ধরে এনে জামিন অযোগ্য মামলায় জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে চার লাখ টাকা আদায় করা হয়। টাকার অংক কম হওয়ায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ওই ব্যক্তিকে আদালতে পাঠান বাবুল আজাদ।

বাবুলের বিরুদ্ধে তদন্তে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যম কে জানান, থানাকে রীতিমতো জায়গা জমির সালিশ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন বাবুল আজাদ। এএসআই সেলিম, এসআই মানিক ঘোষ, এসআই জাহেদ হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ অফিসার তার অপকর্মের সহযোগী থাকেন সব কর্মস্থলে। পাহাড়তলী থানার পর ডবলমুরিংয়ে বদলি হয়ে আসলে তার ঘনিষ্ঠ অফিসারদেরও তিনি বদলি করান একই থানায়।

গত ৩০ আগস্ট জাহেদ ইকবাল নামে এক ব্যক্তিকে জমি জমা সংক্রান্ত বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার করে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। গত ৬ অক্টোবর মো. হাসান নামে একজন চুরির ঘটনায় মামলা করতে গেলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন বাবুল আজাদ। তাছাড়াও মামুন আলীসহ একাধিক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ বাবুলের বিরুদ্ধে বেশ পুরোনো। জানা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩০ তম আউটসাইট ক্যাডেট ব্যাচ হিসেবে যোগদান করেন বাবুল আজাদ। ২০১৫ সালে কক্সবাজারে মানবপাচারে জড়িত ২৪ পুলিশ কর্তার নামের সাথে তার নামও ওঠে আসে।

জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এণ্ড অপারেশন্স) ফয়সাল আহমেদ জানান, আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন। সেখানে কি আছে আমার জানা নেই।


আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬


টাকা দিলে মুক্তি, না দিলে জেল: ওসি আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে সিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দিয়েছেন।


সূত্র জানিয়েছে, বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মুক্তি, টাকা না দিলে একাধিক মামলায় চালান, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক টাকা আদায়, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা, বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগ বানিয়ে হয়রানিসহ ১১ ক্যাটাগরির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ হেডকোয়াটার্স।


এর আগে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ সদর দপ্তর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একে একে মুখ খুলতে শুরু করে ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে হেডকোয়াটার্স সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিলে দায়িত্ব পড়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হুমায়ুন কবিরের ওপর। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে সিএমপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংস্থা পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট (পিআইও) ওসি বাবুল আজাদ নগরীর ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালন করার সময় বিভিন্ন অভিযোগ পায়। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ পৃষ্টার একটি প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেয় পিআইও। সেই প্রতিবেদনটি তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর সিএমপিতে তদন্তের জন্য পুনরায় পাঠায়। ওই প্রতিবেদনের একটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।


এতে দেখা যায় বাবুলের বিরুদ্ধে ১১ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। নির্বাচনের আগে বাবুল আজাদ চকবাজার থানায় বদলি হন।


প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক কারবারি ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারীদের সঙ্গে সখ্যতা ও মাসোয়ারা আদায়, ভুয়া মামলায় নিরিহ মানুষদের আটক রেখে নির্যাতন, উৎকোচ নিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্যাতন ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের সময় দুই জামায়াত কর্মী ও এক ছাত্রদল কর্মী হত্যার অভিযোগ রয়েছে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে।


প্রতিবেদনটির সূত্রে জানা যায়, ডবলমুরিং থানার ওসি থাকাকালে বাবুল আজাদ আগ্রাবাদের পানওয়ালা পাড়া নিয়মিত জুয়ার বোর্ড বসাতেন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এএসআই সেলিম সরকারের মাধ্যমে প্রতি মাসে সেখান থেকে ১ লাখ টাকা, ৩ জন শীর্ষ মাদক কারবারি থেকে ২ লাখ টাকা, হালিশহর, আগ্রাবাদ, বড়পুল, দেওয়ানহাটসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা অন্তত ১০টি জুয়ার বোর্ড থেকে মাসিক ভিত্তিতে কয়েক লাখ টাকা মাসোয়ারা আদায় করতেন তিনি।



এতে বলা হয়, গত বছরের ১১ জুলাই ৭ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডবলমুরিং থানা। পরে নগর ছাত্রদলের একজন শীর্ষ নেতার তদবিরে দুই লাখ টাকা দিয়ে চারজনকে ছেড়ে দেন ওসি। এরপর সে বছরের সেপ্টেম্বরে বিএনপি নেতা ও সিটিজেন ফোরামের সদস্য মাহবুব আলমকে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের মামলায় ঢুকিয়ে দেন ওসি বাবুল। পরে তার কাছ থেকে মামলা বাবদ দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দূর্গা পূজা বাবদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। একই বছর মুনসুরাবাদের বিকাশ ব্যবসায়ী এমরান হোসেন শাকিলকে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ধনে আনেন এসআই মোবিনুল ইসলাম। পরে দেনদরবার করে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে আগ্রাবাদের বাসিন্দা সাগির আহমদকে আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে থানায় ধরে এনে জামিন অযোগ্য মামলায় জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে চার লাখ টাকা আদায় করা হয়। টাকার অংক কম হওয়ায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ওই ব্যক্তিকে আদালতে পাঠান বাবুল আজাদ।


বাবুলের বিরুদ্ধে তদন্তে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যম কে জানান, থানাকে রীতিমতো জায়গা জমির সালিশ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন বাবুল আজাদ। এএসআই সেলিম, এসআই মানিক ঘোষ, এসআই জাহেদ হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ অফিসার তার অপকর্মের সহযোগী থাকেন সব কর্মস্থলে। পাহাড়তলী থানার পর ডবলমুরিংয়ে বদলি হয়ে আসলে তার ঘনিষ্ঠ অফিসারদেরও তিনি বদলি করান একই থানায়।


গত ৩০ আগস্ট জাহেদ ইকবাল নামে এক ব্যক্তিকে জমি জমা সংক্রান্ত বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার করে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। গত ৬ অক্টোবর মো. হাসান নামে একজন চুরির ঘটনায় মামলা করতে গেলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন বাবুল আজাদ। তাছাড়াও মামুন আলীসহ একাধিক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ বাবুলের বিরুদ্ধে বেশ পুরোনো। জানা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩০ তম আউটসাইট ক্যাডেট ব্যাচ হিসেবে যোগদান করেন বাবুল আজাদ। ২০১৫ সালে কক্সবাজারে মানবপাচারে জড়িত ২৪ পুলিশ কর্তার নামের সাথে তার নামও ওঠে আসে।


জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এণ্ড অপারেশন্স) ফয়সাল আহমেদ জানান, আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন। সেখানে কি আছে আমার জানা নেই।


নিজস্ব প্রতিবেদক 


চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে সিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দিয়েছেন।


সূত্র জানিয়েছে, বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মুক্তি, টাকা না দিলে একাধিক মামলায় চালান, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক টাকা আদায়, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা, বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগ বানিয়ে হয়রানিসহ ১১ ক্যাটাগরির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তদন্তে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ হেডকোয়াটার্স।

এর আগে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ সদর দপ্তর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একে একে মুখ খুলতে শুরু করে ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে হেডকোয়াটার্স সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিলে দায়িত্ব পড়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হুমায়ুন কবিরের ওপর। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে সিএমপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংস্থা পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট (পিআইও) ওসি বাবুল আজাদ নগরীর ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালন করার সময় বিভিন্ন অভিযোগ পায়। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ পৃষ্টার একটি প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেয় পিআইও। সেই প্রতিবেদনটি তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর সিএমপিতে তদন্তের জন্য পুনরায় পাঠায়। ওই প্রতিবেদনের একটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।


এতে দেখা যায় বাবুলের বিরুদ্ধে ১১ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। নির্বাচনের আগে বাবুল আজাদ চকবাজার থানায় বদলি হন।


প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক কারবারি ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারীদের সঙ্গে সখ্যতা ও মাসোয়ারা আদায়, ভুয়া মামলায় নিরিহ মানুষদের আটক রেখে নির্যাতন, উৎকোচ নিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্যাতন ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের সময় দুই জামায়াত কর্মী ও এক ছাত্রদল কর্মী হত্যার অভিযোগ রয়েছে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে।


প্রতিবেদনটির সূত্রে জানা যায়, ডবলমুরিং থানার ওসি থাকাকালে বাবুল আজাদ আগ্রাবাদের পানওয়ালা পাড়া নিয়মিত জুয়ার বোর্ড বসাতেন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এএসআই সেলিম সরকারের মাধ্যমে প্রতি মাসে সেখান থেকে ১ লাখ টাকা, ৩ জন শীর্ষ মাদক কারবারি থেকে ২ লাখ টাকা, হালিশহর, আগ্রাবাদ, বড়পুল, দেওয়ানহাটসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা অন্তত ১০টি জুয়ার বোর্ড থেকে মাসিক ভিত্তিতে কয়েক লাখ টাকা মাসোয়ারা আদায় করতেন তিনি।



এতে বলা হয়, গত বছরের ১১ জুলাই ৭ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডবলমুরিং থানা। পরে নগর ছাত্রদলের একজন শীর্ষ নেতার তদবিরে দুই লাখ টাকা দিয়ে চারজনকে ছেড়ে দেন ওসি। এরপর সে বছরের সেপ্টেম্বরে বিএনপি নেতা ও সিটিজেন ফোরামের সদস্য মাহবুব আলমকে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের মামলায় ঢুকিয়ে দেন ওসি বাবুল। পরে তার কাছ থেকে মামলা বাবদ দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দূর্গা পূজা বাবদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। একই বছর মুনসুরাবাদের বিকাশ ব্যবসায়ী এমরান হোসেন শাকিলকে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ধনে আনেন এসআই মোবিনুল ইসলাম। পরে দেনদরবার করে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে আগ্রাবাদের বাসিন্দা সাগির আহমদকে আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে থানায় ধরে এনে জামিন অযোগ্য মামলায় জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে চার লাখ টাকা আদায় করা হয়। টাকার অংক কম হওয়ায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ওই ব্যক্তিকে আদালতে পাঠান বাবুল আজাদ।


বাবুলের বিরুদ্ধে তদন্তে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যম কে জানান, থানাকে রীতিমতো জায়গা জমির সালিশ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন বাবুল আজাদ। এএসআই সেলিম, এসআই মানিক ঘোষ, এসআই জাহেদ হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ অফিসার তার অপকর্মের সহযোগী থাকেন সব কর্মস্থলে। পাহাড়তলী থানার পর ডবলমুরিংয়ে বদলি হয়ে আসলে তার ঘনিষ্ঠ অফিসারদেরও তিনি বদলি করান একই থানায়।


গত ৩০ আগস্ট জাহেদ ইকবাল নামে এক ব্যক্তিকে জমি জমা সংক্রান্ত বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার করে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। গত ৬ অক্টোবর মো. হাসান নামে একজন চুরির ঘটনায় মামলা করতে গেলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন বাবুল আজাদ। তাছাড়াও মামুন আলীসহ একাধিক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ বাবুলের বিরুদ্ধে বেশ পুরোনো। জানা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩০ তম আউটসাইট ক্যাডেট ব্যাচ হিসেবে যোগদান করেন বাবুল আজাদ। ২০১৫ সালে কক্সবাজারে মানবপাচারে জড়িত ২৪ পুলিশ কর্তার নামের সাথে তার নামও ওঠে আসে।


জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এণ্ড অপারেশন্স) ফয়সাল আহমেদ জানান, আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন। সেখানে কি আছে আমার জানা নেই।



মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত