ঢাকা   শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
মুক্তির লড়াই

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে

শিক্ষা-সংস্কৃতিতে রাজনীতির ছায়া নয়, চাই মুক্তচিন্তার বিকাশ: তারেক রহমান



শিক্ষা-সংস্কৃতিতে রাজনীতির ছায়া নয়, চাই মুক্তচিন্তার বিকাশ:  তারেক রহমান

শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা ও সাহিত্যচর্চায় রাজনীতিকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে দৃঢ় মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রকে দলীয় সংকীর্ণতার গণ্ডিতে আবদ্ধ করা হলে জাতির অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়; বরং এগুলোকে হতে হবে মুক্তচিন্তা, উদারতা ও নৈতিকতার উর্বর ভূমি।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজনদের হাতে পদক তুলে দেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। এই পদক কেবল সম্মাননা নয়; এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারাবাহিক স্মারক। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও গবেষণায় যারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের চর্চা আগামী দিনে আরও শানিত ও বিকশিত হবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্র ও সরকার তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন—শিক্ষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে অযাচিত রাজনীতিকরণ কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। দেশকে জ্ঞানের সব শাখায় এগিয়ে নিতে নৈতিক মানসম্পন্ন, উদার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।


ফেব্রুয়ারি মাসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক, আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার অনির্বাণ শিখা। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যেমন এই দিনের মূল সুর, তেমনি এটি ছিল অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণীয় আন্দোলন। “ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় অনুধাবনের মাস, শেকড় সন্ধানের মাস, উল্লেখ করেন তিনি।

গুণীজনদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জ্ঞানী-গুণীদের কর্মময় জীবন ও অবদান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের সৃজনশীলতা ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশগঠনে অনুপ্রাণিত করবে।


ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাদের শাহাদাত কবুল করেন এবং জাতিকে তাদের আদর্শ অনুসরণের তাওফিক দান করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মনোনীত ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট নাগরিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬


শিক্ষা-সংস্কৃতিতে রাজনীতির ছায়া নয়, চাই মুক্তচিন্তার বিকাশ: তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা ও সাহিত্যচর্চায় রাজনীতিকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে দৃঢ় মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রকে দলীয় সংকীর্ণতার গণ্ডিতে আবদ্ধ করা হলে জাতির অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়; বরং এগুলোকে হতে হবে মুক্তচিন্তা, উদারতা ও নৈতিকতার উর্বর ভূমি।


বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজনদের হাতে পদক তুলে দেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। এই পদক কেবল সম্মাননা নয়; এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারাবাহিক স্মারক। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও গবেষণায় যারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।


তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের চর্চা আগামী দিনে আরও শানিত ও বিকশিত হবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্র ও সরকার তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন—শিক্ষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে অযাচিত রাজনীতিকরণ কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। দেশকে জ্ঞানের সব শাখায় এগিয়ে নিতে নৈতিক মানসম্পন্ন, উদার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।


ফেব্রুয়ারি মাসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক, আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার অনির্বাণ শিখা। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যেমন এই দিনের মূল সুর, তেমনি এটি ছিল অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণীয় আন্দোলন। “ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় অনুধাবনের মাস, শেকড় সন্ধানের মাস, উল্লেখ করেন তিনি।


গুণীজনদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জ্ঞানী-গুণীদের কর্মময় জীবন ও অবদান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের সৃজনশীলতা ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশগঠনে অনুপ্রাণিত করবে।


ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাদের শাহাদাত কবুল করেন এবং জাতিকে তাদের আদর্শ অনুসরণের তাওফিক দান করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মনোনীত ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট নাগরিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত