ঢাকা   রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

শোকের ছায়া পুরো দেশ

কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত



কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত

কুমিল্লার ভয়াবহ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর রেজিস্ট্রার বইতে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩); ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৪); চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬); যশোরের চৌগাছার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩); লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯); ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০); মাগুরার মোহাম্মদপুরের ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।


এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং এলাকায় ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায়, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।

দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। সকাল ৮টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।

দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি প্রায় ৫ ঘন্টা পর রেললাইন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ট্রেনটি। 

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। একসঙ্গে এতগুলো প্রাণহানি আবারও দেশের রেলক্রসিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার ভয়াবহ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর রেজিস্ট্রার বইতে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।


নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩); ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৪); চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬); যশোরের চৌগাছার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩); লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯); ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০); মাগুরার মোহাম্মদপুরের ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।


এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং এলাকায় ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায়, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।


দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। সকাল ৮টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।


এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।

দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি প্রায় ৫ ঘন্টা পর রেললাইন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ট্রেনটি। 


এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। একসঙ্গে এতগুলো প্রাণহানি আবারও দেশের রেলক্রসিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত