মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী যুব সংঘের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী যুব সংঘের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে “মাদক বিরোধী যুব সংঘ” নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বীরনোয়াকান্দী কোনাপাড়া গ্রামে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

এলাকার মুরুব্বি মোঃ গোলাপ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং মাদক বিরোধী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংঘটনের সভাপতি সোহাগ মিয়া, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স আজিজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব নয়। তারা তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম তরুণদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এসএসসি পাসের আগে শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিপথে নিয়ে যায় এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কটিয়াদী মডেল থানায় যোগদানের পর তিনি জানতে পারেন, এলাকায় কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কেউ ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লিটনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন, যাকে গত তিন বছরেও কেউ আটক করতে পারেনি।

ওসি বলেন, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা বাইরের কেউ নয়, তারা স্থানীয়দেরই পরিচিত—কারও ভাই, কারও সন্তান। তাই শুধু পুলিশের পক্ষে একা মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক মাসে থানায় ১২টি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে কটিয়াদীকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমার রিজিক যদি কটিয়াদীতে থাকে এবং জনগণ যদি আমাকে সহযোগিতা করে, তাহলে মাদক নির্মূল করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। আপনারা বীরনোয়াকান্দি কোনাপাড়ায় ২৭ সদস্যের মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেছেন। একটি গ্রামে ২৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নেই, কিন্তু ২৭ জন সচেতন মানুষ এগিয়ে এসেছেন—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”

কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি যতদিন কটিয়াদীতে আছি, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস হবে না। কোনো মাদক কারবারি যদি আমাকে ‘ধর্মের বাপ’ বলেও সম্বোধন করে, তারপরও তার সঙ্গে কোনো আপস হবে না। কোনো নেতা যদি কোনো মাদক কারবারির পক্ষে তদবির করেন, সে বাংলাদেশের যত বড় নেতাই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমি এই থানায় না-ও থাকতে পারি, কিন্তু মাদকের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না।”

অনুষ্ঠানে এলাকার তরুণ, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সভা শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী যুব সংঘের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে “মাদক বিরোধী যুব সংঘ” নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বীরনোয়াকান্দী কোনাপাড়া গ্রামে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

এলাকার মুরুব্বি মোঃ গোলাপ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং মাদক বিরোধী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংঘটনের সভাপতি সোহাগ মিয়া, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স আজিজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব নয়। তারা তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম তরুণদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এসএসসি পাসের আগে শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিপথে নিয়ে যায় এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কটিয়াদী মডেল থানায় যোগদানের পর তিনি জানতে পারেন, এলাকায় কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কেউ ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লিটনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন, যাকে গত তিন বছরেও কেউ আটক করতে পারেনি।

ওসি বলেন, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা বাইরের কেউ নয়, তারা স্থানীয়দেরই পরিচিত—কারও ভাই, কারও সন্তান। তাই শুধু পুলিশের পক্ষে একা মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক মাসে থানায় ১২টি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে কটিয়াদীকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমার রিজিক যদি কটিয়াদীতে থাকে এবং জনগণ যদি আমাকে সহযোগিতা করে, তাহলে মাদক নির্মূল করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। আপনারা বীরনোয়াকান্দি কোনাপাড়ায় ২৭ সদস্যের মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেছেন। একটি গ্রামে ২৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নেই, কিন্তু ২৭ জন সচেতন মানুষ এগিয়ে এসেছেন—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”

কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি যতদিন কটিয়াদীতে আছি, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস হবে না। কোনো মাদক কারবারি যদি আমাকে ‘ধর্মের বাপ’ বলেও সম্বোধন করে, তারপরও তার সঙ্গে কোনো আপস হবে না। কোনো নেতা যদি কোনো মাদক কারবারির পক্ষে তদবির করেন, সে বাংলাদেশের যত বড় নেতাই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমি এই থানায় না-ও থাকতে পারি, কিন্তু মাদকের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না।”

অনুষ্ঠানে এলাকার তরুণ, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সভা শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই