মুক্তির লড়াই

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

বরুড়ায় ১০০০ চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ১০০ জনের অপারেশনের ব্যবস্থা

বরুড়ায় ১০০০ চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ১০০ জনের অপারেশনের ব্যবস্থা

চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। অথচ অর্থের অভাবে অনেক মানুষ সময়মতো চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসা অনেক সময় হয়ে ওঠে ব্যয়বহুল ও কঠিন। এমন মানুষের পাশে দাঁড়াতে কুমিল্লার বরুড়ায় আয়োজন করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও রোগী বাছাই কার্যক্রম।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পেরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চোখের নানা সমস্যা নিয়ে ছুটে আসেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। প্রায় এক হাজার রোগীর চোখ পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, রোগী বাছাই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রদান করা হয়।


চিকিৎসা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহ আলম।

এ সময় তিনি বলেন, বরুড়া জনকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বন্যা, শীত ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমটি অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করে বরুড়ার প্রতিটি ইউনিয়নে সারা বছরব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা মানুষের জন্য এ আয়োজন ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা নিতে আসা পয়েলগাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চোখের সমস্যায় ভুগছেন। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারেননি। বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার চোখে ছানি ধরা পড়েছে এবং অপারেশনের জন্য তাকে কুমিল্লার চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ চিকিৎসা কার্যক্রমে ১8 জন চিকিৎসকের একটি বিশেষজ্ঞ টিম রোগীদের সেবা দেয়।

চিকিৎসকরা জানান, চোখের ছোটখাটো সমস্যাকেও অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে অনেক ক্ষেত্রে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।


এদিকে, শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এ আয়োজন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে যাদের চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন, তাদের মধ্য থেকে প্রায় ১০০ জন রোগীকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিল্লার আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপারেশনের পাশাপাশি এসব রোগীর যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, ওষুধ এবং চশমা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য চোখের চিকিৎসার বড় একটি প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এ মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে আরবিস ইন্টারন্যাশনাল। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা। আর পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা।

আয়োজনটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন। চিকিৎসা কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে বরুড়ার আরও ইউনিয়নে সম্প্রসারিত হবে। এতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত আরও অসংখ্য মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বরুড়ায় ১০০০ চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ১০০ জনের অপারেশনের ব্যবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। অথচ অর্থের অভাবে অনেক মানুষ সময়মতো চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসা অনেক সময় হয়ে ওঠে ব্যয়বহুল ও কঠিন। এমন মানুষের পাশে দাঁড়াতে কুমিল্লার বরুড়ায় আয়োজন করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও রোগী বাছাই কার্যক্রম।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পেরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চোখের নানা সমস্যা নিয়ে ছুটে আসেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। প্রায় এক হাজার রোগীর চোখ পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, রোগী বাছাই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রদান করা হয়।


চিকিৎসা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহ আলম।

এ সময় তিনি বলেন, বরুড়া জনকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বন্যা, শীত ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি কাজ করছে।



তিনি আরও বলেন, চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমটি অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করে বরুড়ার প্রতিটি ইউনিয়নে সারা বছরব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।



চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা মানুষের জন্য এ আয়োজন ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



চিকিৎসা নিতে আসা পয়েলগাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চোখের সমস্যায় ভুগছেন। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারেননি। বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার চোখে ছানি ধরা পড়েছে এবং অপারেশনের জন্য তাকে কুমিল্লার চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


এ চিকিৎসা কার্যক্রমে ১8 জন চিকিৎসকের একটি বিশেষজ্ঞ টিম রোগীদের সেবা দেয়।


চিকিৎসকরা জানান, চোখের ছোটখাটো সমস্যাকেও অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে অনেক ক্ষেত্রে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।


এদিকে, শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এ আয়োজন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে যাদের চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন, তাদের মধ্য থেকে প্রায় ১০০ জন রোগীকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিল্লার আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপারেশনের পাশাপাশি এসব রোগীর যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, ওষুধ এবং চশমা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য চোখের চিকিৎসার বড় একটি প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে।



আয়োজকদের ভাষ্য, প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এ মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে আরবিস ইন্টারন্যাশনাল। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা। আর পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা।



আয়োজনটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন। চিকিৎসা কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে বরুড়ার আরও ইউনিয়নে সম্প্রসারিত হবে। এতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত আরও অসংখ্য মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই