সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাওয়া বাজার ইউনিয়নে ফসলি জমির উর্বর মাটি বা 'টপসয়েল' চুরির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। জেলা প্রশাসনের জারি করা কঠোর প্রজ্ঞাপন ও নতুন ভূমি আইনকে তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী চক্র দিনরাত এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে হাওরের কৃষি জমির উপরি-স্তর কেটে সাবাড় করছে। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদন যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাওয়া বাজার ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের পশ্চিম পাশের হাওরে গত কয়েকদিন ধরে বেপরোয়াভাবে মাটি কাটার কাজ চলছে। এলাকার চিহ্নিত প্রভাবশালী চক্রের সদস্য শাহীন চৌধুরী, নলু মেম্বার ও আসমত মিয়া সহ আরও বেশ কয়েকজন এই ধ্বংসযজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাতের আঁধারে কাজ শুরু হলেও বর্তমানে তারা প্রকাশ্য দিবালোকেই শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসন থেকে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। যাতে বলা হয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে কৃষি জমির উপরি-স্তর কর্তন বা ভরাট করা সম্পূর্ণ অবৈধ। 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩' এর ১৩ ধারা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য জমির মাটি কাটা একটি গুরুতর অপরাধ। যার শাস্তি হিসেবে অনধিক ০২ (দুই) বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দৌলতপুর গ্রামের পশ্চিম পাশের হাওরে একাধিক এস্কেভেটর দিয়ে জমির ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশের জমির মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের জমিও এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, জমির যে স্তরে উর্বরতা থাকে, তা কেটে নিয়ে যাওয়ায় এই জমিতে আগামী কয়েক দশকেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দৌলতপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, "প্রশাসন শুধু কাগজে-কলমে আদেশ দেয়, কিন্তু বাস্তবে এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কেউ পদক্ষেপ নেয় না। তারা এতই শক্তিশালী যে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি নষ্ট করছে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।"
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরি-ভাগের ৬-৯ ইঞ্চির মধ্যেই ফসলের মূল পুষ্টিগুণ থাকে। এটি কেটে ফেললে জমি স্থায়ীভাবে অনুর্বর হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে সুনামগঞ্জের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল খাদ্য সংকটে পড়বে।
এই বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাওয়া বাজার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই মাটি দস্যুদের হাত থেকে কৃষি জমি রক্ষায় অবিলম্বে র্যাব ও পুলিশের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাওয়া বাজার ইউনিয়নে ফসলি জমির উর্বর মাটি বা 'টপসয়েল' চুরির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। জেলা প্রশাসনের জারি করা কঠোর প্রজ্ঞাপন ও নতুন ভূমি আইনকে তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী চক্র দিনরাত এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে হাওরের কৃষি জমির উপরি-স্তর কেটে সাবাড় করছে। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদন যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাওয়া বাজার ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের পশ্চিম পাশের হাওরে গত কয়েকদিন ধরে বেপরোয়াভাবে মাটি কাটার কাজ চলছে। এলাকার চিহ্নিত প্রভাবশালী চক্রের সদস্য শাহীন চৌধুরী, নলু মেম্বার ও আসমত মিয়া সহ আরও বেশ কয়েকজন এই ধ্বংসযজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাতের আঁধারে কাজ শুরু হলেও বর্তমানে তারা প্রকাশ্য দিবালোকেই শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসন থেকে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। যাতে বলা হয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে কৃষি জমির উপরি-স্তর কর্তন বা ভরাট করা সম্পূর্ণ অবৈধ। 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩' এর ১৩ ধারা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য জমির মাটি কাটা একটি গুরুতর অপরাধ। যার শাস্তি হিসেবে অনধিক ০২ (দুই) বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দৌলতপুর গ্রামের পশ্চিম পাশের হাওরে একাধিক এস্কেভেটর দিয়ে জমির ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশের জমির মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের জমিও এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, জমির যে স্তরে উর্বরতা থাকে, তা কেটে নিয়ে যাওয়ায় এই জমিতে আগামী কয়েক দশকেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দৌলতপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, "প্রশাসন শুধু কাগজে-কলমে আদেশ দেয়, কিন্তু বাস্তবে এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কেউ পদক্ষেপ নেয় না। তারা এতই শক্তিশালী যে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি নষ্ট করছে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।"
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরি-ভাগের ৬-৯ ইঞ্চির মধ্যেই ফসলের মূল পুষ্টিগুণ থাকে। এটি কেটে ফেললে জমি স্থায়ীভাবে অনুর্বর হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে সুনামগঞ্জের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল খাদ্য সংকটে পড়বে।
এই বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাওয়া বাজার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই মাটি দস্যুদের হাত থেকে কৃষি জমি রক্ষায় অবিলম্বে র্যাব ও পুলিশের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন