ঢাকা   বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

কর্মীর লাশ, নেতার নীরবতা

পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে তৃণমূলের আর্তনাদ



পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে তৃণমূলের আর্তনাদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে সস্তা জিনিসটি আজ তৃণমূল কর্মীর জীবন। আর সবচেয়ে দামি ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা নীরবতা।

শেখ তন্ময়রা বড় হয়েছেন পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির আরামে। রাজনীতির মাঠ নয়, তাদের পরিচয় গড়ে উঠেছে উত্তরাধিকার সূত্রে। আন্দোলন, গ্রেপ্তার, জেল-এসব তাদের অভিজ্ঞতার তালিকায় নেই। অথচ ক্ষমতার সুফল ভোগে তারাই সবচেয়ে বেশি।

এই বৈষম্যের নির্মম উদাহরণ হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের সদর থানার ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের পরিবার।


একদিকে-সাদ্দাম মাসের পর মাস কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি। অন্যদিকে-বাইরে তার স্ত্রী সন্তানসহ চরম অনিশ্চয়তা, অর্থকষ্ট আর অবহেলার মধ্যে দিন গুনছে।

শেষ পর্যন্ত সেই অনিশ্চয়তা পরিণত হয় এক মর্মান্তিক পরিণতিতে-সন্তানসহ স্ত্রীর আত্মহত্যা।

প্রশ্ন ওঠে-

এই মৃত্যু কি হঠাৎ?

নাকি এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, উপেক্ষা আর নেতৃত্বের নিষ্ঠুর উদাসীনতার ফল?

শেখ তন্ময় ওই এলাকার সংসদ সদস্য। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বলে যে অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত, তা অজানা নয়। কিন্তু সেই বিত্তশালী এমপি কি একবারও খোঁজ নিয়েছেন তার দলের একজন থানাপর্যায়ের সভাপতির পরিবার কেমন আছে? কারাগারে থাকা কর্মীর স্ত্রী-সন্তান কীভাবে বেঁচে আছে? এর কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই।

যদি খোঁজ নেওয়া হতো, যদি ন্যূনতম আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হতো-তবে কি একটি পরিবার এভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত? রাজনীতিতে বলা হয়, কর্মীরাই দলের শক্তি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়-সংকটে কর্মী একা। গ্রেপ্তার হলে একা, মামলা খেলেও একা, পরিবার বিপর্যস্ত হলেও একা।


নেতারা তখন কোথায়?

তখন তারা বৈঠকে ব্যস্ত, ক্ষমতার হিসাব কষতে ব্যস্ত, নিজেদের নিরাপত্তা আর সম্পদের পাহারা দিতে ব্যস্ত সাদ্দামের পরিবারের নিথর দেহের ছবি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়-এটি একটি দলের ভেতরের ভয়াবহ বৈষম্যের দলিল। যেখানে কর্মীর জীবন মূল্যহীন, আর নেতার নীরবতা কৌশল।

যদি সত্যিই ছাত্রলীগের একজন থানার সভাপতির স্ত্রী-সন্তান অর্থকষ্ট ও অসহায়ত্বে প্রাণ হারিয়ে থাকে, তবে এই রাজনীতি আত্মসমালোচনার যোগ্য নয়-এটি ঘৃণার যোগ্য।

এই ঘটনায় শেখ হেলাল ও শেখ তন্ময়ের নৈতিক দায় অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা শুধু ব্যক্তি নন-তারা ক্ষমতার প্রতীক, সিদ্ধান্তের কেন্দ্র।

দলের দুঃসময়ে যারা কর্মীদের পাশে দাঁড়ায় না, সুবিধার সময়েই শুধু যাদের দেখা যায়-তারা নেতা নয়, তারা রাজনৈতিক সুবিধাভোগী।

আজ যারা কর্মীর লাশের দায় নিতে ভয় পায়, ইতিহাসের আদালতে তারাই প্রথম কাঠগড়ায় দাঁড়াবে। কারণ কর্মীর রক্ত দিয়ে যে রাজনীতি টিকে থাকে, সেই রাজনীতির বিচার একদিন হবেই।

লেখক: মোহাম্মদ আলী সুমন, সাংবাদিক ও সংগঠক।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে তৃণমূলের আর্তনাদ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে সস্তা জিনিসটি আজ তৃণমূল কর্মীর জীবন। আর সবচেয়ে দামি ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা নীরবতা।

শেখ তন্ময়রা বড় হয়েছেন পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির আরামে। রাজনীতির মাঠ নয়, তাদের পরিচয় গড়ে উঠেছে উত্তরাধিকার সূত্রে। আন্দোলন, গ্রেপ্তার, জেল-এসব তাদের অভিজ্ঞতার তালিকায় নেই। অথচ ক্ষমতার সুফল ভোগে তারাই সবচেয়ে বেশি।

এই বৈষম্যের নির্মম উদাহরণ হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের সদর থানার ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের পরিবার।


একদিকে-সাদ্দাম মাসের পর মাস কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি। অন্যদিকে-বাইরে তার স্ত্রী সন্তানসহ চরম অনিশ্চয়তা, অর্থকষ্ট আর অবহেলার মধ্যে দিন গুনছে।


শেষ পর্যন্ত সেই অনিশ্চয়তা পরিণত হয় এক মর্মান্তিক পরিণতিতে-সন্তানসহ স্ত্রীর আত্মহত্যা।


প্রশ্ন ওঠে-

এই মৃত্যু কি হঠাৎ?

নাকি এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, উপেক্ষা আর নেতৃত্বের নিষ্ঠুর উদাসীনতার ফল?


শেখ তন্ময় ওই এলাকার সংসদ সদস্য। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বলে যে অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত, তা অজানা নয়। কিন্তু সেই বিত্তশালী এমপি কি একবারও খোঁজ নিয়েছেন তার দলের একজন থানাপর্যায়ের সভাপতির পরিবার কেমন আছে? কারাগারে থাকা কর্মীর স্ত্রী-সন্তান কীভাবে বেঁচে আছে? এর কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই।


যদি খোঁজ নেওয়া হতো, যদি ন্যূনতম আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হতো-তবে কি একটি পরিবার এভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত? রাজনীতিতে বলা হয়, কর্মীরাই দলের শক্তি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়-সংকটে কর্মী একা। গ্রেপ্তার হলে একা, মামলা খেলেও একা, পরিবার বিপর্যস্ত হলেও একা।


নেতারা তখন কোথায়?

তখন তারা বৈঠকে ব্যস্ত, ক্ষমতার হিসাব কষতে ব্যস্ত, নিজেদের নিরাপত্তা আর সম্পদের পাহারা দিতে ব্যস্ত সাদ্দামের পরিবারের নিথর দেহের ছবি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়-এটি একটি দলের ভেতরের ভয়াবহ বৈষম্যের দলিল। যেখানে কর্মীর জীবন মূল্যহীন, আর নেতার নীরবতা কৌশল।


যদি সত্যিই ছাত্রলীগের একজন থানার সভাপতির স্ত্রী-সন্তান অর্থকষ্ট ও অসহায়ত্বে প্রাণ হারিয়ে থাকে, তবে এই রাজনীতি আত্মসমালোচনার যোগ্য নয়-এটি ঘৃণার যোগ্য।


এই ঘটনায় শেখ হেলাল ও শেখ তন্ময়ের নৈতিক দায় অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা শুধু ব্যক্তি নন-তারা ক্ষমতার প্রতীক, সিদ্ধান্তের কেন্দ্র।


দলের দুঃসময়ে যারা কর্মীদের পাশে দাঁড়ায় না, সুবিধার সময়েই শুধু যাদের দেখা যায়-তারা নেতা নয়, তারা রাজনৈতিক সুবিধাভোগী।


আজ যারা কর্মীর লাশের দায় নিতে ভয় পায়, ইতিহাসের আদালতে তারাই প্রথম কাঠগড়ায় দাঁড়াবে। কারণ কর্মীর রক্ত দিয়ে যে রাজনীতি টিকে থাকে, সেই রাজনীতির বিচার একদিন হবেই।



লেখক: মোহাম্মদ আলী সুমন, সাংবাদিক ও সংগঠক।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত