ঢাকা   বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ , আহত ৩০, জামায়াত নেতার মৃত্যু



শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে তার মৃত্যু হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দলটির দাবি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে তার মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। পাশাপাশি তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন,

“আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। বিচার না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”


এর আগে বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মঞ্চে বসার চেয়ার নিয়ে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা দুইজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ , আহত ৩০, জামায়াত নেতার মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে তার মৃত্যু হয়।


জামায়াতের পক্ষ থেকে রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দলটির দাবি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে তার মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। পাশাপাশি তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।


জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন,

“আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। বিচার না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”


এর আগে বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মঞ্চে বসার চেয়ার নিয়ে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।


একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা দুইজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত