ঢাকা   বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

মুন্সিগঞ্জ বিএনপিতে নজিরবিহীন ভাঙন, দু’দিনে দল ছাড়লেন ১৫০ নেতা কর্মী



মুন্সিগঞ্জ বিএনপিতে নজিরবিহীন ভাঙন, দু’দিনে দল ছাড়লেন ১৫০ নেতা কর্মী

মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দলীয় বহিষ্কার, ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং তৃণমূলের মতামত উপেক্ষার অভিযোগে জেলায় শুরু হয়েছে নজিরবিহীন গণপদত্যাগ।

সর্বশেষ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটের ৬৭ জন শীর্ষ নেতা একযোগে স্বেচ্ছায় বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে ও পরে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে আরও ৮৩ জন সাধারণ নেতাকর্মী দল ত্যাগ করায় মোট পদত্যাগকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ জনে। এতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি বড় ধরনের চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারীদের পক্ষে যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (পদত্যাগকারী) আতোয়ার হোসেন বাবুল।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—

সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান ওরফে ছোট বিজয়, মুন্সিগঞ্জ শহর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশ্রাফুজ্জামান অভি, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর মাদবর, জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান খান, মিরকাদিম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল, মিরকাদিম পৌর মহিলা দলের সদস্য সচিব জিয়াসমিন আক্তার ময়না, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ,জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আলমগীর সামি, এছাড়াও আধারা ইউনিয়নের মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আতোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, এই পদত্যাগের ঢেউ এখানেই থেমে যাবে—এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। আগামী দিনে আরও অনেক নেতাকর্মী দল ছাড়তে পারেন।

তিনি আরও বলেন,নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন গণপদত্যাগ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।

যদিও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টিকে ‘সাময়িক অসন্তোষ’ হিসেবে দেখার চেষ্টা করছে, তবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে বাস্তব চিত্র অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মুন্সিগঞ্জ বিএনপিতে নজিরবিহীন ভাঙন, দু’দিনে দল ছাড়লেন ১৫০ নেতা কর্মী

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দলীয় বহিষ্কার, ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং তৃণমূলের মতামত উপেক্ষার অভিযোগে জেলায় শুরু হয়েছে নজিরবিহীন গণপদত্যাগ।


সর্বশেষ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটের ৬৭ জন শীর্ষ নেতা একযোগে স্বেচ্ছায় বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে ও পরে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে আরও ৮৩ জন সাধারণ নেতাকর্মী দল ত্যাগ করায় মোট পদত্যাগকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ জনে। এতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি বড় ধরনের চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারীদের পক্ষে যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (পদত্যাগকারী) আতোয়ার হোসেন বাবুল।


পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—

সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান ওরফে ছোট বিজয়, মুন্সিগঞ্জ শহর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশ্রাফুজ্জামান অভি, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর মাদবর, জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান খান, মিরকাদিম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল, মিরকাদিম পৌর মহিলা দলের সদস্য সচিব জিয়াসমিন আক্তার ময়না, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ,জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আলমগীর সামি, এছাড়াও আধারা ইউনিয়নের মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আতোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, এই পদত্যাগের ঢেউ এখানেই থেমে যাবে—এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। আগামী দিনে আরও অনেক নেতাকর্মী দল ছাড়তে পারেন।


তিনি আরও বলেন,নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন গণপদত্যাগ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।


যদিও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টিকে ‘সাময়িক অসন্তোষ’ হিসেবে দেখার চেষ্টা করছে, তবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে বাস্তব চিত্র অনেক বেশি উদ্বেগজনক।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত