ঢাকা   শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

সাংবাদিকদের জন্য ‘জাতীয় অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের প্রতিশ্রুতি বিএনপির



সাংবাদিকদের জন্য ‘জাতীয় অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের প্রতিশ্রুতি বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সাংবাদিকদের জন্য ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা।

ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, “সাংবাদিকেরা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।” দলটি দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদের কাজের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বিএনপির এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার উপস্থাপন করেন।

পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত ইশতেহারে বিভিন্ন খাতের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি গণমাধ্যম বিষয়ে একটি পৃথক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিএনপি নির্ভীক, স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক—এমন মন্তব্য করে দলটি জানায়, সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।


ইশতেহারে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্নিরীক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব ধরনের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক ও মিডিয়া অফিসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গণমাধ্যমের ওপর যেকোনো হামলা, ভয়ভীতি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমে নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গুজব ও ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধ, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার দমনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকদের অনলাইনে অভিযোগ দাখিলের সুযোগ থাকবে এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা হবে।

সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও রয়েছে ইশতেহারে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাংবাদিক নির্যাতন রোধে একটি বিশেষ সেল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।


ঘোষিত ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’–এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থিক সহায়তা এবং নানামুখী কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সাংবাদিকদের জন্য ‘জাতীয় অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের প্রতিশ্রুতি বিএনপির

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সাংবাদিকদের জন্য ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা।


ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, “সাংবাদিকেরা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।” দলটি দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদের কাজের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বিএনপির এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার উপস্থাপন করেন।


পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত ইশতেহারে বিভিন্ন খাতের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি গণমাধ্যম বিষয়ে একটি পৃথক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিএনপি নির্ভীক, স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক—এমন মন্তব্য করে দলটি জানায়, সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।


ইশতেহারে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্নিরীক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব ধরনের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক ও মিডিয়া অফিসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গণমাধ্যমের ওপর যেকোনো হামলা, ভয়ভীতি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমে নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গুজব ও ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধ, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার দমনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকদের অনলাইনে অভিযোগ দাখিলের সুযোগ থাকবে এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা হবে।


সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও রয়েছে ইশতেহারে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাংবাদিক নির্যাতন রোধে একটি বিশেষ সেল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।


ঘোষিত ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’–এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থিক সহায়তা এবং নানামুখী কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত