বরগুনার পাথরঘাটায় ৬ বছরের এক শিশু কন্যাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও মামলা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল এবং অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাথরঘাটা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মামলার বাদী মো. আনোয়ার (৬৮) উপজেলার পূর্ব কালমেঘা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪, পাথরঘাটায় দায়ের করা নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কৃষি কাজের কথা বলে বসবাস করছিল এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ধর্মীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করে তারা বাদীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করে। পরে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাদের শিশু পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে সন্দেহ করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা মাঠে মুগডাল তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তার ৬ বছরের মেয়ে মোসা. ইতি মনি ওরফে হাজেরা বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত সেলিম খন্দকার ও তার স্ত্রী শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের দিকে যেতে দেখা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, শিশুটিকে জামাকাপড় কিনে দেওয়ার জন্য বাজারে নেওয়া হয়েছে এবং কিছুক্ষণ পর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটিকে বাড়িতে না ফেরানোয় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাদী আনোয়ার অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই তিনি পাথরঘাটা থানায় গিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ অপহরণকারীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ছাড়া মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। এমনকি অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর সচল থাকার তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পরও থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না নেওয়ায় আমরা চরম হতাশ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”
পরদিন স্বজনদের নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরাও তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এদিকে পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ হলে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মো. সেলিম খন্দকার, তার স্ত্রী পল্লী বেগম ও সানজিদা বেগমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৬৪(ক), ৩৮৫ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দেন। পরে পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অপহৃত শিশু ইতি মনি ওরফে হাজেরাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শিশু অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা জরুরি। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
বরগুনার পাথরঘাটায় ৬ বছরের এক শিশু কন্যাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও মামলা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল এবং অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাথরঘাটা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মামলার বাদী মো. আনোয়ার (৬৮) উপজেলার পূর্ব কালমেঘা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪, পাথরঘাটায় দায়ের করা নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কৃষি কাজের কথা বলে বসবাস করছিল এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ধর্মীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করে তারা বাদীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করে। পরে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাদের শিশু পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে সন্দেহ করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা মাঠে মুগডাল তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তার ৬ বছরের মেয়ে মোসা. ইতি মনি ওরফে হাজেরা বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত সেলিম খন্দকার ও তার স্ত্রী শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের দিকে যেতে দেখা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, শিশুটিকে জামাকাপড় কিনে দেওয়ার জন্য বাজারে নেওয়া হয়েছে এবং কিছুক্ষণ পর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটিকে বাড়িতে না ফেরানোয় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাদী আনোয়ার অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই তিনি পাথরঘাটা থানায় গিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ অপহরণকারীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ছাড়া মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। এমনকি অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর সচল থাকার তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পরও থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না নেওয়ায় আমরা চরম হতাশ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”
পরদিন স্বজনদের নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরাও তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এদিকে পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ হলে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মো. সেলিম খন্দকার, তার স্ত্রী পল্লী বেগম ও সানজিদা বেগমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৬৪(ক), ৩৮৫ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দেন। পরে পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অপহৃত শিশু ইতি মনি ওরফে হাজেরাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শিশু অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা জরুরি। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন