মুক্তির লড়াই

রাজনীতি

মোংলায় মাদক, চাঁদাবাজি ও নারী হয়রানির অভিযোগ এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

মোংলায় মাদক, চাঁদাবাজি ও নারী হয়রানির অভিযোগ এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ডের  উলুবুনিয়া এলাকায় সরকারি বরাদ্দকৃত আবাসনে ওই বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ মাদক সেবন, নারীদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে আবাসনের বর্তমান বাসিন্দারা একযোগে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলুবুনিয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পে মোট ২৫টি ঘর রয়েছে। আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ জাহিদ শেখ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আবাসনের অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবাসনের বাসিন্দা মোসাঃ হেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন। একই এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগমের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে কলহ, ভয়ভীতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৭ মে ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সালমা বেগম তার বসতঘরের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিকে আবাসনের একাধিক নারী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে আবাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং আবাসনের নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে আবাসন থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন নারী অভিযোগ করে আরও বলেন, মোঃ জাহিদ শেখের ছেলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, মোঃ জাহিদ শেখ ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আবাসনে অবস্থানরত পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এলাকাবাসীর দেওয়া সূত্র মতে জানা যায়, বিএনপির পদ ব্যবহার করে মোঃ জাহিদ শেখ সোনাইলতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

এ অভিযোগের বিষয়ে ওই বিএনপি নেতা মোঃ জাহিদ শেখের কাছে জানতে চাইলেন তিনি বলেন, এ অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা করেন।

এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, “আবাসনের বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


মোংলায় মাদক, চাঁদাবাজি ও নারী হয়রানির অভিযোগ এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ডের  উলুবুনিয়া এলাকায় সরকারি বরাদ্দকৃত আবাসনে ওই বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ মাদক সেবন, নারীদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে আবাসনের বর্তমান বাসিন্দারা একযোগে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলুবুনিয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পে মোট ২৫টি ঘর রয়েছে। আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ জাহিদ শেখ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আবাসনের অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবাসনের বাসিন্দা মোসাঃ হেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন। একই এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগমের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে কলহ, ভয়ভীতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৭ মে ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সালমা বেগম তার বসতঘরের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


এদিকে আবাসনের একাধিক নারী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে আবাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং আবাসনের নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে আবাসন থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।


স্থানীয় কয়েকজন নারী অভিযোগ করে আরও বলেন, মোঃ জাহিদ শেখের ছেলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, মোঃ জাহিদ শেখ ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আবাসনে অবস্থানরত পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এলাকাবাসীর দেওয়া সূত্র মতে জানা যায়, বিএনপির পদ ব্যবহার করে মোঃ জাহিদ শেখ সোনাইলতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।


এ অভিযোগের বিষয়ে ওই বিএনপি নেতা মোঃ জাহিদ শেখের কাছে জানতে চাইলেন তিনি বলেন, এ অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা করেন।


এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, “আবাসনের বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই