ঢাকা   বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

চট্টগ্রাম বন্দরে অস্থিরতা: দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি সমাধান, ভোগান্তি চরমে



চট্টগ্রাম বন্দরে অস্থিরতা: দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি সমাধান, ভোগান্তি চরমে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে খোলা পণ্য ও কনটেইনার ওঠা-নামা কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া বন্দরে পণ্য ডেলিভারির জন্য বিভিন্ন ধরনের কভার্ড ভ্যান, লরি ও ট্রেলার প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এতে বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।


এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনি ও রোববার ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শনিবারও কর্মবিরতির কারণে বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রথম দিন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মসূচি দেওয়া হলেও পরে জানানো হয়, এই কর্মসূচি চলবে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর নামে।

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি চলছে। সকাল থেকে বিভিন্ন জেটি পরিদর্শন করা হয়েছে। কোথাও শ্রমিকরা কাজ করছেন না। কোনো জাহাজে পণ্য বা কনটেইনার ওঠা-নামা হচ্ছে না এবং কোনো যানবাহন বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করছে না। বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। এরপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ অপারেটর ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, আজও জেটিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়নি। পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে।

প্রথম দিনের কর্মবিরতির পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী চারজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করে। পাশাপাশি একদিনের কর্মবিরতিতে কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।


এদিকে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকায় শনিবার রাত ১২টা থেকে এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ।

শনিবার আন্দোলনকারীরা বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করলেও রোববার কর্মবিরতির মধ্যে তারা কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশ করছে না।

হুমায়ুন কবির বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। বিকেলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


চট্টগ্রাম বন্দরে অস্থিরতা: দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি সমাধান, ভোগান্তি চরমে

প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।


রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে খোলা পণ্য ও কনটেইনার ওঠা-নামা কার্যত বন্ধ রয়েছে।


এছাড়া বন্দরে পণ্য ডেলিভারির জন্য বিভিন্ন ধরনের কভার্ড ভ্যান, লরি ও ট্রেলার প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এতে বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।


এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনি ও রোববার ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শনিবারও কর্মবিরতির কারণে বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।


প্রথম দিন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মসূচি দেওয়া হলেও পরে জানানো হয়, এই কর্মসূচি চলবে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর নামে।


সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি চলছে। সকাল থেকে বিভিন্ন জেটি পরিদর্শন করা হয়েছে। কোথাও শ্রমিকরা কাজ করছেন না। কোনো জাহাজে পণ্য বা কনটেইনার ওঠা-নামা হচ্ছে না এবং কোনো যানবাহন বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করছে না। বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। এরপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ অপারেটর ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, আজও জেটিতে কাজ করার জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়নি। পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে।


প্রথম দিনের কর্মবিরতির পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী চারজনকে তাৎক্ষণিক বদলি করে। পাশাপাশি একদিনের কর্মবিরতিতে কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।


এদিকে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকায় শনিবার রাত ১২টা থেকে এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ।


শনিবার আন্দোলনকারীরা বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করলেও রোববার কর্মবিরতির মধ্যে তারা কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশ করছে না।


হুমায়ুন কবির বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। বিকেলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত