ঢাকা   বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

নিখোঁজের ১৫ দিন পর সন্তানের সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিল



নিখোঁজের ১৫ দিন পর সন্তানের সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিল

১৫ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া আনিসুর রহমান (মুছা) (৮) নামের এক শিশু অবশেষে ফিরে পেল তার পরিবার। 

ডেমরার একটি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া এই শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী শিশু উন্নয়ন ও শিশু অধিকার বাস্তবায়ন সংগঠন লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।

দীর্ঘ ১৫ দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে শিশুটির পরিবার। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুগদা থানার ১৭৭ নং সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু মুছাকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন লিডোর প্রতিনিধিরা। এ সময় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শিশুটির বাবা-মা। চোখের পানি, হাসি আর কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে চারপাশের পরিবেশ—এক হৃদয়ছোঁয়া মানবিক মুহূর্তের সাক্ষী হয় উপস্থিত সবাই।


শিশু আনিসুর রহমান (মুছা) কিশোরগঞ্জ জেলার পিটুয়া গ্রামের মোঃ ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

লিডোর ট্রানজিশনাল শেল্টার ‘সেতুবন্ধন’, কমলাপুর শাখার সমাজকর্মীরা জানান, লিডো দীর্ঘদিন ধরে পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের নিয়ে কাজ করে আসছে। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবার খুঁজে বের করে পুনর্মিলন, অনাথ ও এতিম শিশুদের পুনর্বাসন, শিশুদের অধিকার বাস্তবায়ন এবং সার্বিক উন্নয়ন এসবই তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।

তারা আরও জানান, গত ২১ জানুয়ারি মুগদা থানার ১২৭৫ নং জিডির মাধ্যমে শিশু মুছাকে উদ্ধার করে সেতুবন্ধন শেল্টার কমলাপুরে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হয়। উদ্ধারের সময় থানায় শিশুটির সঙ্গে কাউন্সেলিং করে জানা যায়, সে মাদ্রাসায় আর পড়তে না চাওয়ায় অন্য এক শিশুর সহযোগিতায় সেখান থেকে পালিয়ে আসে। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে শিশুটির পরিবারের খুজে বের করা হয় ।

শিশু মুছার পরিবার জানায়, গত ২০ জানুয়ারি হঠাৎ করেই সে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালানো হয় এবং পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয় পত্রিকায় নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয়। অবশেষে লিডোর সহযোগিতায় সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারটি গভীর আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করে।


শিশুটির পরিবার লিডোর এই মানবিক ও মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

শিশু মুছাকে হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন মুগদা থানার ডিউটি অফিসার, নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা এসআই হাসনা হেনা, লিডোর কমলাপুর শেল্টারের সমাজকর্মী জনাব মাহফুজুর রহমান, সাহেলা খান, রিমু এবং মাসুদ মাহাতাব।

উল্লেখ্য, লিডো দীর্ঘদিন ধরে পথশিশুদের সুরক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনর্বাসনে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের উদ্ধার, পরিবারে পুনর্মিলন, পুনর্বাসন, মোবাইল স্কুল, পথশালা এবং নানাবিধ সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি মানবিক সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


নিখোঁজের ১৫ দিন পর সন্তানের সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

১৫ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া আনিসুর রহমান (মুছা) (৮) নামের এক শিশু অবশেষে ফিরে পেল তার পরিবার। 


ডেমরার একটি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া এই শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী শিশু উন্নয়ন ও শিশু অধিকার বাস্তবায়ন সংগঠন লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।


দীর্ঘ ১৫ দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে শিশুটির পরিবার। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুগদা থানার ১৭৭ নং সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু মুছাকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন লিডোর প্রতিনিধিরা। এ সময় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শিশুটির বাবা-মা। চোখের পানি, হাসি আর কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে চারপাশের পরিবেশ—এক হৃদয়ছোঁয়া মানবিক মুহূর্তের সাক্ষী হয় উপস্থিত সবাই।


শিশু আনিসুর রহমান (মুছা) কিশোরগঞ্জ জেলার পিটুয়া গ্রামের মোঃ ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।


লিডোর ট্রানজিশনাল শেল্টার ‘সেতুবন্ধন’, কমলাপুর শাখার সমাজকর্মীরা জানান, লিডো দীর্ঘদিন ধরে পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের নিয়ে কাজ করে আসছে। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবার খুঁজে বের করে পুনর্মিলন, অনাথ ও এতিম শিশুদের পুনর্বাসন, শিশুদের অধিকার বাস্তবায়ন এবং সার্বিক উন্নয়ন এসবই তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।


তারা আরও জানান, গত ২১ জানুয়ারি মুগদা থানার ১২৭৫ নং জিডির মাধ্যমে শিশু মুছাকে উদ্ধার করে সেতুবন্ধন শেল্টার কমলাপুরে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হয়। উদ্ধারের সময় থানায় শিশুটির সঙ্গে কাউন্সেলিং করে জানা যায়, সে মাদ্রাসায় আর পড়তে না চাওয়ায় অন্য এক শিশুর সহযোগিতায় সেখান থেকে পালিয়ে আসে। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে শিশুটির পরিবারের খুজে বের করা হয় ।


শিশু মুছার পরিবার জানায়, গত ২০ জানুয়ারি হঠাৎ করেই সে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালানো হয় এবং পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয় পত্রিকায় নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয়। অবশেষে লিডোর সহযোগিতায় সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারটি গভীর আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করে।


শিশুটির পরিবার লিডোর এই মানবিক ও মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।


শিশু মুছাকে হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন মুগদা থানার ডিউটি অফিসার, নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা এসআই হাসনা হেনা, লিডোর কমলাপুর শেল্টারের সমাজকর্মী জনাব মাহফুজুর রহমান, সাহেলা খান, রিমু এবং মাসুদ মাহাতাব।


উল্লেখ্য, লিডো দীর্ঘদিন ধরে পথশিশুদের সুরক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনর্বাসনে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের উদ্ধার, পরিবারে পুনর্মিলন, পুনর্বাসন, মোবাইল স্কুল, পথশালা এবং নানাবিধ সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি মানবিক সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত