ঢাকা   শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

আটকে আছে ১৪২ জাহাজ; হুমকিতে বাণিজ্য ও বাজার

অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর



অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। ইঞ্জিনের গর্জনহীন, ট্রাকশূন্য বন্দরে নেমে এসেছে ভূতুড়ে নীরবতা।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল-জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও এনসিটি-সম্পূর্ণ জনশূন্য। পণ্য ওঠানামার সব যন্ত্রপাতি বন্ধ, জেটিতে আটকা পড়ে আছে ১৪টি জাহাজ। জেটি ও বহির্নোঙর মিলিয়ে মোট ১৪২টি জাহাজ পণ্য খালাস কিংবা বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি।


নতুন করে কোনো জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো যাচ্ছে না। আন্দোলনকারীরা বন্দরের সব প্রবেশপথে অবস্থান নেওয়ায় কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি। স্বাভাবিক সময়ে ব্যস্ত ৪ নম্বর গেট ছিল তালাবদ্ধ, আমদানি-রপ্তানির কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি।

বর্তমানে বন্দরে আটকা পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কনটেইনার, যা ধারণক্ষমতার প্রায় সমান। এর মধ্যে জেটি, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক খালি ও পণ্যভর্তি কনটেইনার। বেসরকারি ডিপোগুলোতে আটকে আছে ১০ হাজার ৮১৭ টিইইউস রপ্তানি ও সাত হাজার ৯১০ টিইইউস আমদানি পণ্য।

এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দৈনিক গড়ে ১৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কর্মবিরতির কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কনটেইনার খালাস নেমে এসেছে এক-তৃতীয়াংশে। রপ্তানি পণ্য সময়মতো পাঠানো না গেলে তৈরি পোশাক খাতের শত শত কোটি টাকার ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো নিত্যপণ্যবাহী জাহাজ আটকে থাকায় রমজান সামনে রেখে বাজারে সরবরাহ সংকট ও দাম বাড়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, “এনসিটি ইজারা বাতিল ও বদলি আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত টার্মিনাল সচল হবে না।

শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান না হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। ইঞ্জিনের গর্জনহীন, ট্রাকশূন্য বন্দরে নেমে এসেছে ভূতুড়ে নীরবতা।


বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল-জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও এনসিটি-সম্পূর্ণ জনশূন্য। পণ্য ওঠানামার সব যন্ত্রপাতি বন্ধ, জেটিতে আটকা পড়ে আছে ১৪টি জাহাজ। জেটি ও বহির্নোঙর মিলিয়ে মোট ১৪২টি জাহাজ পণ্য খালাস কিংবা বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি।


নতুন করে কোনো জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো যাচ্ছে না। আন্দোলনকারীরা বন্দরের সব প্রবেশপথে অবস্থান নেওয়ায় কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি। স্বাভাবিক সময়ে ব্যস্ত ৪ নম্বর গেট ছিল তালাবদ্ধ, আমদানি-রপ্তানির কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি।


বর্তমানে বন্দরে আটকা পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কনটেইনার, যা ধারণক্ষমতার প্রায় সমান। এর মধ্যে জেটি, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক খালি ও পণ্যভর্তি কনটেইনার। বেসরকারি ডিপোগুলোতে আটকে আছে ১০ হাজার ৮১৭ টিইইউস রপ্তানি ও সাত হাজার ৯১০ টিইইউস আমদানি পণ্য।


এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দৈনিক গড়ে ১৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কর্মবিরতির কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কনটেইনার খালাস নেমে এসেছে এক-তৃতীয়াংশে। রপ্তানি পণ্য সময়মতো পাঠানো না গেলে তৈরি পোশাক খাতের শত শত কোটি টাকার ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো নিত্যপণ্যবাহী জাহাজ আটকে থাকায় রমজান সামনে রেখে বাজারে সরবরাহ সংকট ও দাম বাড়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।


আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, “এনসিটি ইজারা বাতিল ও বদলি আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত টার্মিনাল সচল হবে না।


শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান না হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত