শিল্প যখন মানুষের রুচি তৈরি না করে বরং কুরুচিকে পুঁজি করে ব্যবসা শুরু করে, তখন বুঝতে হবে সেই জাতির সাংস্কৃতিক মৃত্যু ঘণ্টা বেজে গেছে। আমাদের দেশের নাটকের একটা সুদীর্ঘ এবং গৌরবময় ইতিহাস আছে। বিশেষ করে নব্বই দশকের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা ভাবলে আজ বুক ফেটে দীর্ঘশ্বাস বের হয়। তখন টিভির পর্দা মানেই ছিল সাহিত্যের সুবাস, শুদ্ধ ভাষার চর্চা আর এক টুকরো প্রশান্তি। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ আমাদের সামনে এমন কিছু অভিনেতা এবং নির্মাতার আবির্ভাব ঘটেছে, যারা নাটককে ড্রয়িংরুম থেকে টেনে হিঁচড়ে নর্দমায় নামিয়ে এনেছেন। নাম না নিলেও আপনারা চেনেন সেই ‘বিখ্যাত’ অভিনেতাকে, যার মুখ খুললেই ভাষার সৌন্দর্য নয়, বরং নর্দমার দুর্গন্ধ বের হয়।
আজকাল এক শ্রেণির অভিনেতার কাছে অভিনয় মানেই হলো উচ্চস্বরে চিল্লানো আর অনর্গল সস্তা গালিগালাজ করা। তারা দাবি করেন, তারা নাকি সমাজের ‘রিয়েলিস্টিক’ বা বাস্তব চিত্র তুলে ধরছেন। আমার প্রশ্ন হলো, বাস্তবতার সংজ্ঞায় কি কেবল গালিগালাজ আর অন্ধকার জগতই পড়ে? সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে কি ভালোবাসা নেই? শ্রদ্ধাবোধ নেই? শুদ্ধ ভাষার কি কোনো স্থান নেই?
নব্বই দশকে হুমায়ূন ফরিদী যখন খলচরিত্রে অভিনয় করতেন, তার চোখের এক চাউনিতেই হাজারটা গালি ফুটে উঠত। অথচ তিনি কখনো মুখের ভাষা কলুষিত করেননি। আর আজকের এই ‘নতুন যুগের’ নায়করা মনে করেন, পর্দায় যত বেশি ‘সোদানির ফো...’ বা এই জাতীয় কুৎসিত শব্দ উচ্চারণ করা যাবে, অভিনয় নাকি তত বেশি ‘ন্যাচারাল’ হবে। এই যে মানসিক বিকৃতি, একে শিল্প বলা তো দূরের কথা, সাধারণ বিনোদন বলাও পাপ।
নাটক মানেই ছিল পরিবারের মিলনমেলা। অথচ আজ অবস্থা এমন হয়েছে যে, সেই অভিনেতার মুখ স্ক্রিনে দেখা গেলেই রিমোটের মিউট বাটন খুঁজতে হয় অথবা চ্যানেল পাল্টে দিতে হয়। কারণ, কখন কোন গালি দিয়ে বসবেন, তার কোনো ঠিক নেই। যারা নিজেকে বড় অভিনেতা দাবি করেন, তাদের কি একবারও মনে হয় না যে এই নাটকগুলো তাদের নিজের মা, বোন বা সন্তানরাও দেখতে পারে?
যে অভিনেতা পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো পরিবেশ বজায় রাখতে পারেন না, তিনি কিসের শিল্পী? শিল্প তো মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরায়, আর এরা মানুষকে নর্দমায় নামিয়ে দিচ্ছে। নব্বই দশকের নাটকের ভাষা ছিল আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। সেই আভিজাত্যকে যারা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য গালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, তারা আসলে আমাদের সংস্কৃতির ক্যানসার।
রাস্তার মোড়ের আড্ডা আর নাটকের সংলাপের মধ্যে একটা পার্থক্য থাকা উচিত। একজন রিকশাচালক বা একজন অপরাধী যখন রাস্তায় গালি দেয়, সেটা তার ব্যক্তিগত দীনতা। কিন্তু সেই একই গালি যখন বড় বাজেটের নাটকে একজন অভিনেতা গর্বের সাথে উচ্চারণ করেন, তখন সেটা আর কেবল গালি থাকে না, সেটা হয়ে যায় অপরাধের সামাজিকীকরণ। এই তথাকথিত ‘বিখ্যাত’ অভিনেতাটি তার ক্যারিয়ারের বড় অংশই পার করছেন এমন সব চরিত্রে অভিনয় করে, যেখানে তার একমাত্র যোগ্যতা হলো তিনি কত সাবলীলভাবে কুৎসিত গালি দিতে পারেন।
তার ভক্তরা হয়তো বলবেন, “ভাই অভিনয়টা তো ফাটাফাটি!” আরে ভাই, গালি দেওয়া কি অভিনয়ের অংশ? গালি তো সাধারণ মানুষও দেয়, তাহলে তারাও কি অভিনেতা? অভিনয় হলো সূক্ষ্ম কারুকার্য, সেখানে গালির কোনো স্থান নেই। অথচ এই মানুষগুলো আমাদের নাটকের চিরচেনা সুন্দর পরিবেশটাকে বিষিয়ে তুলেছেন। এদের কারণেই আজ শিক্ষিত সমাজ নাটক দেখা ছেড়ে দিয়ে নেটফ্লিক্স বা বিদেশি কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকছে।
নব্বই দশকের নাটকে যখন আসাদুজ্জামান নূর বা সুবর্ণা মুস্তাফারা সংলাপ বলতেন, তখন দর্শক মুগ্ধ হয়ে শুনত। ভাষার সেই লালিত্য আজ বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানের এই অভিনেতা এবং তার বলয়ের নির্মাতারা নাটককে একটা বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করেছেন, যেখানে রুচির চেয়ে সুড়সুড়ি দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভাবেন, তরুণ প্রজন্ম গালি শুনতে পছন্দ করে, তাই গালি দিতে হবে। এটা স্রেফ এক ধরনের সস্তা ধান্দাবাজি।
শিল্পের মূল কাজ রুচি তৈরি করা, দর্শকদের নিচু রুচির কাছে আত্মসমর্পণ করা নয়। এই অভিনেতাটি যেভাবে নিজেকে ‘পাওয়ার হাউস পারফর্মার’ হিসেবে জাহির করেন, আসলে তার অভিনয়ের মূল খুঁটিই হলো উগ্রতা। অথচ উগ্রতা আর অভিনয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। যারা নব্বই দশকের অভিনয় দেখে বড় হয়েছেন, তারা জানেন প্রকৃত অভিনয়ের ওজন কতটুকু।
আমরা কি আমাদের সন্তানদের এমন এক নাট্য সংস্কৃতির হাতে ছেড়ে দেব যেখানে বড়দের সম্মান নেই, ভাষার মর্যাদা নেই? ওই অভিনেতাটি যখন পর্দায় বীরদর্পে গালি দেন, তখন কিশোর-তরুণরা সেটাকেই ফ্যাশন মনে করে। তারা ভাবে, গালি দেওয়া বোধহয় স্মার্টনেস। এই সামাজিক অবক্ষয়ের দায় কে নেবে? এই অভিনেতারা কি নেবেন? না, তারা কেবল তাদের পকেট ভারী করবেন এবং সস্তা হাততালিতে গা ভাসাবেন।
আমাদের নাট্যাঙ্গন আজ এক গভীর সংকটে। একপাশে আছে নব্বই দশকের সেই শুদ্ধতা আর অন্যপাশে এই বর্তমানের কর্দমাক্ত গালি-সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি যদি বন্ধ না হয়, তবে আমাদের নাটক কেবল পর্নোগ্রাফির চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে দাঁড়াবে।
শিল্পের নামে যারা নর্দমা ছড়াচ্ছে, তাদের সময় ফুরিয়ে আসছে। মানুষ আর কতদিন এই গালিগালাজকে অভিনয় হিসেবে গ্রহণ করবে? নাম না নিলেও আপনারা বোঝেন, কারা এই নোংরামির কারিগর। আমাদের উচিত এই ‘গালি-সম্রাটদের’ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা। আমরা সেই নাটক ফিরে পেতে চাই যেখানে গালি থাকবে না, থাকবে মায়া। আমরা সেই পরিবেশ ফিরে পেতে চাই যেখানে বাবা-মেয়ে একসাথে বসে টিভি দেখতে পারবে।
যিনি মনে করেন গালি দিয়েই তিনি বাংলা নাটক জয় করে ফেলেছেন, তার উদ্দেশ্যে একটাই কথা—রুচিহীনতা কখনো অমর হয় না। আসাদুজ্জামান নূররা বেঁচে থাকবেন তাদের আভিজাত্যে, আর আপনারা হারিয়ে যাবেন সময়ের আস্তাকুঁড়ে, কারণ আপনাদের হাতে কোনো শিল্প নেই, আছে কেবল বিকৃতি। নাটকের পরিবেশ যারা নষ্ট করে, তাদের জন্য ঘৃণা ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিল্প যখন মানুষের রুচি তৈরি না করে বরং কুরুচিকে পুঁজি করে ব্যবসা শুরু করে, তখন বুঝতে হবে সেই জাতির সাংস্কৃতিক মৃত্যু ঘণ্টা বেজে গেছে। আমাদের দেশের নাটকের একটা সুদীর্ঘ এবং গৌরবময় ইতিহাস আছে। বিশেষ করে নব্বই দশকের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা ভাবলে আজ বুক ফেটে দীর্ঘশ্বাস বের হয়। তখন টিভির পর্দা মানেই ছিল সাহিত্যের সুবাস, শুদ্ধ ভাষার চর্চা আর এক টুকরো প্রশান্তি। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ আমাদের সামনে এমন কিছু অভিনেতা এবং নির্মাতার আবির্ভাব ঘটেছে, যারা নাটককে ড্রয়িংরুম থেকে টেনে হিঁচড়ে নর্দমায় নামিয়ে এনেছেন। নাম না নিলেও আপনারা চেনেন সেই ‘বিখ্যাত’ অভিনেতাকে, যার মুখ খুললেই ভাষার সৌন্দর্য নয়, বরং নর্দমার দুর্গন্ধ বের হয়।
আজকাল এক শ্রেণির অভিনেতার কাছে অভিনয় মানেই হলো উচ্চস্বরে চিল্লানো আর অনর্গল সস্তা গালিগালাজ করা। তারা দাবি করেন, তারা নাকি সমাজের ‘রিয়েলিস্টিক’ বা বাস্তব চিত্র তুলে ধরছেন। আমার প্রশ্ন হলো, বাস্তবতার সংজ্ঞায় কি কেবল গালিগালাজ আর অন্ধকার জগতই পড়ে? সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে কি ভালোবাসা নেই? শ্রদ্ধাবোধ নেই? শুদ্ধ ভাষার কি কোনো স্থান নেই?
নব্বই দশকে হুমায়ূন ফরিদী যখন খলচরিত্রে অভিনয় করতেন, তার চোখের এক চাউনিতেই হাজারটা গালি ফুটে উঠত। অথচ তিনি কখনো মুখের ভাষা কলুষিত করেননি। আর আজকের এই ‘নতুন যুগের’ নায়করা মনে করেন, পর্দায় যত বেশি ‘সোদানির ফো...’ বা এই জাতীয় কুৎসিত শব্দ উচ্চারণ করা যাবে, অভিনয় নাকি তত বেশি ‘ন্যাচারাল’ হবে। এই যে মানসিক বিকৃতি, একে শিল্প বলা তো দূরের কথা, সাধারণ বিনোদন বলাও পাপ।
নাটক মানেই ছিল পরিবারের মিলনমেলা। অথচ আজ অবস্থা এমন হয়েছে যে, সেই অভিনেতার মুখ স্ক্রিনে দেখা গেলেই রিমোটের মিউট বাটন খুঁজতে হয় অথবা চ্যানেল পাল্টে দিতে হয়। কারণ, কখন কোন গালি দিয়ে বসবেন, তার কোনো ঠিক নেই। যারা নিজেকে বড় অভিনেতা দাবি করেন, তাদের কি একবারও মনে হয় না যে এই নাটকগুলো তাদের নিজের মা, বোন বা সন্তানরাও দেখতে পারে?
যে অভিনেতা পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো পরিবেশ বজায় রাখতে পারেন না, তিনি কিসের শিল্পী? শিল্প তো মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরায়, আর এরা মানুষকে নর্দমায় নামিয়ে দিচ্ছে। নব্বই দশকের নাটকের ভাষা ছিল আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। সেই আভিজাত্যকে যারা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য গালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, তারা আসলে আমাদের সংস্কৃতির ক্যানসার।
রাস্তার মোড়ের আড্ডা আর নাটকের সংলাপের মধ্যে একটা পার্থক্য থাকা উচিত। একজন রিকশাচালক বা একজন অপরাধী যখন রাস্তায় গালি দেয়, সেটা তার ব্যক্তিগত দীনতা। কিন্তু সেই একই গালি যখন বড় বাজেটের নাটকে একজন অভিনেতা গর্বের সাথে উচ্চারণ করেন, তখন সেটা আর কেবল গালি থাকে না, সেটা হয়ে যায় অপরাধের সামাজিকীকরণ। এই তথাকথিত ‘বিখ্যাত’ অভিনেতাটি তার ক্যারিয়ারের বড় অংশই পার করছেন এমন সব চরিত্রে অভিনয় করে, যেখানে তার একমাত্র যোগ্যতা হলো তিনি কত সাবলীলভাবে কুৎসিত গালি দিতে পারেন।
তার ভক্তরা হয়তো বলবেন, “ভাই অভিনয়টা তো ফাটাফাটি!” আরে ভাই, গালি দেওয়া কি অভিনয়ের অংশ? গালি তো সাধারণ মানুষও দেয়, তাহলে তারাও কি অভিনেতা? অভিনয় হলো সূক্ষ্ম কারুকার্য, সেখানে গালির কোনো স্থান নেই। অথচ এই মানুষগুলো আমাদের নাটকের চিরচেনা সুন্দর পরিবেশটাকে বিষিয়ে তুলেছেন। এদের কারণেই আজ শিক্ষিত সমাজ নাটক দেখা ছেড়ে দিয়ে নেটফ্লিক্স বা বিদেশি কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকছে।
নব্বই দশকের নাটকে যখন আসাদুজ্জামান নূর বা সুবর্ণা মুস্তাফারা সংলাপ বলতেন, তখন দর্শক মুগ্ধ হয়ে শুনত। ভাষার সেই লালিত্য আজ বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানের এই অভিনেতা এবং তার বলয়ের নির্মাতারা নাটককে একটা বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করেছেন, যেখানে রুচির চেয়ে সুড়সুড়ি দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভাবেন, তরুণ প্রজন্ম গালি শুনতে পছন্দ করে, তাই গালি দিতে হবে। এটা স্রেফ এক ধরনের সস্তা ধান্দাবাজি।
শিল্পের মূল কাজ রুচি তৈরি করা, দর্শকদের নিচু রুচির কাছে আত্মসমর্পণ করা নয়। এই অভিনেতাটি যেভাবে নিজেকে ‘পাওয়ার হাউস পারফর্মার’ হিসেবে জাহির করেন, আসলে তার অভিনয়ের মূল খুঁটিই হলো উগ্রতা। অথচ উগ্রতা আর অভিনয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। যারা নব্বই দশকের অভিনয় দেখে বড় হয়েছেন, তারা জানেন প্রকৃত অভিনয়ের ওজন কতটুকু।
আমরা কি আমাদের সন্তানদের এমন এক নাট্য সংস্কৃতির হাতে ছেড়ে দেব যেখানে বড়দের সম্মান নেই, ভাষার মর্যাদা নেই? ওই অভিনেতাটি যখন পর্দায় বীরদর্পে গালি দেন, তখন কিশোর-তরুণরা সেটাকেই ফ্যাশন মনে করে। তারা ভাবে, গালি দেওয়া বোধহয় স্মার্টনেস। এই সামাজিক অবক্ষয়ের দায় কে নেবে? এই অভিনেতারা কি নেবেন? না, তারা কেবল তাদের পকেট ভারী করবেন এবং সস্তা হাততালিতে গা ভাসাবেন।
আমাদের নাট্যাঙ্গন আজ এক গভীর সংকটে। একপাশে আছে নব্বই দশকের সেই শুদ্ধতা আর অন্যপাশে এই বর্তমানের কর্দমাক্ত গালি-সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি যদি বন্ধ না হয়, তবে আমাদের নাটক কেবল পর্নোগ্রাফির চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে দাঁড়াবে।
শিল্পের নামে যারা নর্দমা ছড়াচ্ছে, তাদের সময় ফুরিয়ে আসছে। মানুষ আর কতদিন এই গালিগালাজকে অভিনয় হিসেবে গ্রহণ করবে? নাম না নিলেও আপনারা বোঝেন, কারা এই নোংরামির কারিগর। আমাদের উচিত এই ‘গালি-সম্রাটদের’ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা। আমরা সেই নাটক ফিরে পেতে চাই যেখানে গালি থাকবে না, থাকবে মায়া। আমরা সেই পরিবেশ ফিরে পেতে চাই যেখানে বাবা-মেয়ে একসাথে বসে টিভি দেখতে পারবে।
যিনি মনে করেন গালি দিয়েই তিনি বাংলা নাটক জয় করে ফেলেছেন, তার উদ্দেশ্যে একটাই কথা—রুচিহীনতা কখনো অমর হয় না। আসাদুজ্জামান নূররা বেঁচে থাকবেন তাদের আভিজাত্যে, আর আপনারা হারিয়ে যাবেন সময়ের আস্তাকুঁড়ে, কারণ আপনাদের হাতে কোনো শিল্প নেই, আছে কেবল বিকৃতি। নাটকের পরিবেশ যারা নষ্ট করে, তাদের জন্য ঘৃণা ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

আপনার মতামত লিখুন