ঢাকা   রোববার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

সকাল



সকাল

ননিতা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে।সে প্রতিদিন ভোর ছয়টায় ঘুম থেকে ওঠে।উঠেই সূর্যের জন্য আকাশে তাকায়। তারপর সে 

হাত মুখ ধুয়ে দুটো বিস্কুট খেয়ে পড়তে বসে।ননিতা‌র বাড়িতে সবাই উঠে যায় পাঁচটায়।এইটুকু বাচ্চাকেও উঠিয়ে দেয়।ননিতা মা বাবার কথা শোনে।তার মা বাবা তাকে শিখিয়েছে সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠাকুর নমস্কার করে পড়তে বসতে।সে তাই করে।তবে ঘুম থেকে উঠেই তার আকাশের সাথে‌ তাকিয়ে অনেক কথা বলতে হয়।

তবে ঐ পড়তে বসার আগে যতোটুকু সময় পায়।গ্রামে বাড়ি,

সবুজ সাড়ি সাড়ি।সাথে আকাশের মুক্ত দিগন্ত।ঐ ছোট্ট বাচ্চার বেশ বন্ধুত্ব হয়ে উঠেছে আকাশের সাথে। প্রতিদিন তাদের প্রথম কথা হয়।তার পর যে যার কাজে ব্যস্ত।

ননিতা পড়াশোনা,স্কুল যাওয়া, খেলাধুলা করতে ব্যস্ত।আকাশ ব্যস্ত সূর্যি মামার আলো ছড়ানো,মেঘেদের সাথে খেলা, সাথে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে।সকাল আর বিকেলে দুবার আকাশের সাথে চোখে চোখ ও মুখে মুখ রেখে কথা হয় ননিতার।ননিতার বেশ ভালোই লাগে আকাশ পানে তাকাতে।পড়তেও ভালো লাগে।

সকালে ওঠার অভ্যাস ননিতাকে ভীষণ ভালো রাখে।

চলল প্রতিদিনের রুটিন।

             একদিন ক্লাসে বিজ্ঞান শিক্ষক ননিতাকে জিজ্ঞেস করল কটার সময় উঠিস ঘুম থেকে? ননিতা বলল সকাল ছয়টায়।তারপর কি করিস? ছোট্ট ননিতা বলল ঘুম থেকে উঠে আকাশের দিকে তাকাই।আকাশের সাথে কথা বলি।এই কথাটা ক্লাসে থাকা প্রতিটি বাচ্চাকে নাড়া দিলো।একেকজন বাচ্চা ভাবছে যে তারা আকাশ দেখে,আকাশের যাবতীয় বিষয় যেমন আকাশ আকাশী,আকাশে মেঘ হয়,মেঘ ভেসে বেড়ায়,আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ে সব দেখে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই কখনো আকাশের সাথে কথা বলা হয়নি।আর এত সকালে কোনো কোনো বাচ্চার ওঠার অভ্যাস নেই।ননিতাকে স্যার জিজ্ঞেস করল কি কথা বলিস? ননিতা বলল সারাদিন কি করব সেটাই বলি স্যার।কিন্তু ননিতার মুখের কথাগুলো কিছু সহপাঠির অন্তরে গেঁথে গেলো।তারপর স্যার অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীদেরটা জানল। কিন্তু সেদিন আর কোনো ছাত্র ননিতার মতো উত্তর দেয়নি।সেদিনকার মতো সেখানে ক্লাস শেষ হয়ে যায়।

           তিনমাস পর আবার সেই স্যার একই প্রশ্ন করলে কিছু ছাত্র-ছাত্রী যাদের অন্তরে ননিতার কথাগুলো গেথে গিয়েছিলো তারা একই উত্তর দিলো। অর্থাৎ ননিতা প্রথম যে কথাগুলো বলেছিলো।আবার অধিক সংখ্যক সহপাঠীদের মুখে একই কথা অন্য ছাত্ররা শুনে মনে মনে ভাবল আমরাও তাই করব।

       তার তিনমাস পর ঐ স্যার একই প্রশ্ন ছাত্রদের করলে চতুর্থ শ্রেণীর বেশিরভাগ ছাত্র একই উত্তর দিলো - সকাল ছটায় ঘুম থেকে উঠে আকাশের সাথে কথা বলে পরিষ্কার হই। আবার অনেকে বলল দাঁত মাজি আর আকাশের সাথে কথা বলি।তারপর পড়তে বসি।বাবা মায়ের কথা শুনি।ক্রমেই এই প্রসঙ্গ স্কুলের সমস্ত ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো।

এই শুনে নীচু শ্রেনীর ছাত্ররাও তাই করতে লাগল।

         ননিতা তার মা-বাবাকে বলল জানো মা-বাবা আমি সকালে উঠে আকাশের সাথে কথা বলি আগে,তারপর

পড়তে বসি,মা-বাবার সমস্ত কথা শুনি এই কথাগুলো স্যার জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেই।এখন এই কথাগুলো পুরো বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে গেছে।নীচু ক্লাস থেকে উঁচু ক্লাসের বেশির ভাগ ছাত্ররাই আমার মতো ঘুম থেকে উঠে আকাশের সাথে কথা বলে।তারপর পড়তে বসে,মা-বাবার সমস্ত কথাই শোনে।

ননিতার মা-বাবা বলল সারাজীবন এমন কাজ কোরো যাতে সবাই তোমায় অনুকরণ, অনুসরণ করে এবং তোমার রাস্তায় হাঁটতে ও চলতে চায়।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সকাল

প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ননিতা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে।সে প্রতিদিন ভোর ছয়টায় ঘুম থেকে ওঠে।উঠেই সূর্যের জন্য আকাশে তাকায়। তারপর সে 

হাত মুখ ধুয়ে দুটো বিস্কুট খেয়ে পড়তে বসে।ননিতা‌র বাড়িতে সবাই উঠে যায় পাঁচটায়।এইটুকু বাচ্চাকেও উঠিয়ে দেয়।ননিতা মা বাবার কথা শোনে।তার মা বাবা তাকে শিখিয়েছে সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠাকুর নমস্কার করে পড়তে বসতে।সে তাই করে।তবে ঘুম থেকে উঠেই তার আকাশের সাথে‌ তাকিয়ে অনেক কথা বলতে হয়।

তবে ঐ পড়তে বসার আগে যতোটুকু সময় পায়।গ্রামে বাড়ি,

সবুজ সাড়ি সাড়ি।সাথে আকাশের মুক্ত দিগন্ত।ঐ ছোট্ট বাচ্চার বেশ বন্ধুত্ব হয়ে উঠেছে আকাশের সাথে। প্রতিদিন তাদের প্রথম কথা হয়।তার পর যে যার কাজে ব্যস্ত।

ননিতা পড়াশোনা,স্কুল যাওয়া, খেলাধুলা করতে ব্যস্ত।আকাশ ব্যস্ত সূর্যি মামার আলো ছড়ানো,মেঘেদের সাথে খেলা, সাথে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে।সকাল আর বিকেলে দুবার আকাশের সাথে চোখে চোখ ও মুখে মুখ রেখে কথা হয় ননিতার।ননিতার বেশ ভালোই লাগে আকাশ পানে তাকাতে।পড়তেও ভালো লাগে।

সকালে ওঠার অভ্যাস ননিতাকে ভীষণ ভালো রাখে।

চলল প্রতিদিনের রুটিন।


             একদিন ক্লাসে বিজ্ঞান শিক্ষক ননিতাকে জিজ্ঞেস করল কটার সময় উঠিস ঘুম থেকে? ননিতা বলল সকাল ছয়টায়।তারপর কি করিস? ছোট্ট ননিতা বলল ঘুম থেকে উঠে আকাশের দিকে তাকাই।আকাশের সাথে কথা বলি।এই কথাটা ক্লাসে থাকা প্রতিটি বাচ্চাকে নাড়া দিলো।একেকজন বাচ্চা ভাবছে যে তারা আকাশ দেখে,আকাশের যাবতীয় বিষয় যেমন আকাশ আকাশী,আকাশে মেঘ হয়,মেঘ ভেসে বেড়ায়,আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ে সব দেখে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই কখনো আকাশের সাথে কথা বলা হয়নি।আর এত সকালে কোনো কোনো বাচ্চার ওঠার অভ্যাস নেই।ননিতাকে স্যার জিজ্ঞেস করল কি কথা বলিস? ননিতা বলল সারাদিন কি করব সেটাই বলি স্যার।কিন্তু ননিতার মুখের কথাগুলো কিছু সহপাঠির অন্তরে গেঁথে গেলো।তারপর স্যার অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীদেরটা জানল। কিন্তু সেদিন আর কোনো ছাত্র ননিতার মতো উত্তর দেয়নি।সেদিনকার মতো সেখানে ক্লাস শেষ হয়ে যায়।


           তিনমাস পর আবার সেই স্যার একই প্রশ্ন করলে কিছু ছাত্র-ছাত্রী যাদের অন্তরে ননিতার কথাগুলো গেথে গিয়েছিলো তারা একই উত্তর দিলো। অর্থাৎ ননিতা প্রথম যে কথাগুলো বলেছিলো।আবার অধিক সংখ্যক সহপাঠীদের মুখে একই কথা অন্য ছাত্ররা শুনে মনে মনে ভাবল আমরাও তাই করব।


       তার তিনমাস পর ঐ স্যার একই প্রশ্ন ছাত্রদের করলে চতুর্থ শ্রেণীর বেশিরভাগ ছাত্র একই উত্তর দিলো - সকাল ছটায় ঘুম থেকে উঠে আকাশের সাথে কথা বলে পরিষ্কার হই। আবার অনেকে বলল দাঁত মাজি আর আকাশের সাথে কথা বলি।তারপর পড়তে বসি।বাবা মায়ের কথা শুনি।ক্রমেই এই প্রসঙ্গ স্কুলের সমস্ত ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো।

এই শুনে নীচু শ্রেনীর ছাত্ররাও তাই করতে লাগল।


         ননিতা তার মা-বাবাকে বলল জানো মা-বাবা আমি সকালে উঠে আকাশের সাথে কথা বলি আগে,তারপর

পড়তে বসি,মা-বাবার সমস্ত কথা শুনি এই কথাগুলো স্যার জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেই।এখন এই কথাগুলো পুরো বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে গেছে।নীচু ক্লাস থেকে উঁচু ক্লাসের বেশির ভাগ ছাত্ররাই আমার মতো ঘুম থেকে উঠে আকাশের সাথে কথা বলে।তারপর পড়তে বসে,মা-বাবার সমস্ত কথাই শোনে।

ননিতার মা-বাবা বলল সারাজীবন এমন কাজ কোরো যাতে সবাই তোমায় অনুকরণ, অনুসরণ করে এবং তোমার রাস্তায় হাঁটতে ও চলতে চায়।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত