ঢাকা   শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

প্রথমবার একসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট

২৯৯ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু



২৯৯ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট নেওয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে এবং সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলো।

ইসির তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন। তবে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ওই আসনের চার লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। ফলে আজ ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন ভোটার।


দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনের ১২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে; সেখানে পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

প্রার্থী ও দলীয় অংশগ্রহণ

নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে এবার অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন—এর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন; দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন। বিএনপির নারী প্রার্থী ১০ জন, তবে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী নেই।

২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী রয়েছেন ২৯০ জন। বাকি নয়টি আসনে জোটের প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক রয়েছে ২২৮টি আসনে। সাতটি আসনে প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন করা হলেও সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তা বহাল থাকে।


নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ সদস্য মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, আনসারের পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ এবং বিএনসিসির এক হাজার ৯২২ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সারা দেশে ৮৫০টির বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পর্যবেক্ষক ও ফলাফল

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৩৯২ জন বিদেশি ও প্রায় ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন দেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যাদের মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক প্রায় ১৫৬ জন।


জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্রের প্রাথমিক ফল রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে কমিশনে পাঠানো হবে। অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

সারাদেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


২৯৯ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট নেওয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে এবং সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলো।


ইসির তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন। তবে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ওই আসনের চার লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। ফলে আজ ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন ভোটার।


দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনের ১২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে; সেখানে পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।


প্রার্থী ও দলীয় অংশগ্রহণ


নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে এবার অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন—এর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন; দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন। বিএনপির নারী প্রার্থী ১০ জন, তবে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী নেই।


২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী রয়েছেন ২৯০ জন। বাকি নয়টি আসনে জোটের প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক রয়েছে ২২৮টি আসনে। সাতটি আসনে প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন করা হলেও সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তা বহাল থাকে।


নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা


ভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ সদস্য মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, আনসারের পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ এবং বিএনসিসির এক হাজার ৯২২ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।


নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সারা দেশে ৮৫০টির বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও জানান তিনি।


পর্যবেক্ষক ও ফলাফল


নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৩৯২ জন বিদেশি ও প্রায় ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন দেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যাদের মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক প্রায় ১৫৬ জন।


জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্রের প্রাথমিক ফল রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে কমিশনে পাঠানো হবে। অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।


সারাদেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত