দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ ও মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা—কারা পাচ্ছেন মন্ত্রিসভার ডাক?
দলীয় সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পরই মন্ত্রিত্ব বণ্টনের ঘোষণা আসতে পারে। দেশের নবম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় অগ্রাধিকার পেতে পারেন উচ্চশিক্ষিত, বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগসম্পন্ন নেতারা।
দলের ভেতরে জোর আলোচনা রয়েছে—দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-কে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আইনমন্ত্রীর তালিকায় আছেন ঝালকাঠি থেকে নির্বাচিত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, যিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সংবিধান বিশ্লেষণে পারদর্শী। অর্থমন্ত্রীর আলোচনায় রয়েছেন হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, যিনি দীর্ঘদিন International Monetary Fund-এ কর্মরত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় হুমায়ুন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ মন্ত্রণালয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ড. এম এ মুহিতের নাম আলোচনায় রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও সমাজসেবায় তাঁর আন্তর্জাতিক কাজ এবং স্বাস্থ্যখাতে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যেও সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খানের নাম শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-র নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নজরুল ইসলাম খান-এর নামও বিবেচনায় আছে। নতুন মুখ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্র্যাট) এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি-র নাম ঘুরছে আলোচনায়।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি। সে আলোচনায় আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূর, মাহমুদুর রহমান মান্না-র নামও রাজনৈতিক অঙ্গনে উচ্চারিত হচ্ছে।
তবে সবই এখনো সম্ভাব্যতার পর্যায়ে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে শপথের পর। নতুন মন্ত্রিসভার গঠনই নির্ধারণ করবে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ ও মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা—কারা পাচ্ছেন মন্ত্রিসভার ডাক?
দলীয় সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পরই মন্ত্রিত্ব বণ্টনের ঘোষণা আসতে পারে। দেশের নবম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় অগ্রাধিকার পেতে পারেন উচ্চশিক্ষিত, বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগসম্পন্ন নেতারা।
দলের ভেতরে জোর আলোচনা রয়েছে—দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-কে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আইনমন্ত্রীর তালিকায় আছেন ঝালকাঠি থেকে নির্বাচিত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, যিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সংবিধান বিশ্লেষণে পারদর্শী। অর্থমন্ত্রীর আলোচনায় রয়েছেন হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, যিনি দীর্ঘদিন International Monetary Fund-এ কর্মরত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় হুমায়ুন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ মন্ত্রণালয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ড. এম এ মুহিতের নাম আলোচনায় রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও সমাজসেবায় তাঁর আন্তর্জাতিক কাজ এবং স্বাস্থ্যখাতে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যেও সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খানের নাম শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-র নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নজরুল ইসলাম খান-এর নামও বিবেচনায় আছে। নতুন মুখ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্র্যাট) এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি-র নাম ঘুরছে আলোচনায়।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি। সে আলোচনায় আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূর, মাহমুদুর রহমান মান্না-র নামও রাজনৈতিক অঙ্গনে উচ্চারিত হচ্ছে।
তবে সবই এখনো সম্ভাব্যতার পর্যায়ে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে শপথের পর। নতুন মন্ত্রিসভার গঠনই নির্ধারণ করবে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন