ঢাকা   সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র জোয়ার

দ্বিকক্ষ সংসদসহ সংবিধানে বড় পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ



দ্বিকক্ষ সংসদসহ সংবিধানে বড় পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় নিশ্চিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বীকৃত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ভোটারদের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ সমর্থন দিয়েছেন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরাই একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৪ কোটি ৮২ হাজার ৬৬০টি ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি ‘না’ ভোট পড়ে। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ফলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ উল্লিখিত সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল।


১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার:

সরকার জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নেবেন—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এক বছরের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়, যার মধ্যে ৪৮টি ছিল সংবিধান সংশ্লিষ্ট।

কী কী পরিবর্তন আসছে:

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ায় সংবিধানে যেসব বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ: নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্ধারণ হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।


প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা বাড়বে।

এছাড়া সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্বে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ ৩০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

গণভোটকে ‘জনরায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়নে সব দলকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।


অন্যদিকে বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, এটি কেবল সরকারের নয়, রাষ্ট্রের এজেন্ডা। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন ভারসাম্য:

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, শুধু নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এককভাবে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে। উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় সাংবিধানিক পরিবর্তনে বৃহত্তর ঐকমত্য প্রয়োজন হবে।

তবে নির্ধারিত ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে-এ বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন নজর সংসদের প্রথম অধিবেশন ও সংস্কার কার্যক্রমের গতিপথে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


দ্বিকক্ষ সংসদসহ সংবিধানে বড় পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় নিশ্চিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বীকৃত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ভোটারদের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ সমর্থন দিয়েছেন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরাই একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন।


নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৪ কোটি ৮২ হাজার ৬৬০টি ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি ‘না’ ভোট পড়ে। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ফলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ উল্লিখিত সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল।


১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার:


সরকার জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নেবেন—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।


জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এক বছরের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়, যার মধ্যে ৪৮টি ছিল সংবিধান সংশ্লিষ্ট।


কী কী পরিবর্তন আসছে:


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ায় সংবিধানে যেসব বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ: নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্ধারণ হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।


প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা বাড়বে।


এছাড়া সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্বে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ ৩০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করবে।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:


গণভোটকে ‘জনরায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়নে সব দলকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।


অন্যদিকে বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, এটি কেবল সরকারের নয়, রাষ্ট্রের এজেন্ডা। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন।


সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন ভারসাম্য:


নতুন কাঠামো অনুযায়ী, শুধু নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এককভাবে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে। উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় সাংবিধানিক পরিবর্তনে বৃহত্তর ঐকমত্য প্রয়োজন হবে।


তবে নির্ধারিত ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে-এ বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন নজর সংসদের প্রথম অধিবেশন ও সংস্কার কার্যক্রমের গতিপথে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত