মুক্তির লড়াই

অপরাধ

বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তায়কোয়ানডো বিভাগের কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের আড়ালে নারী পাচার, উদীয়মান খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রতারণার পাহাড়সমান অভিযোগ উঠেছে। গত অক্টোবর ২০২৪-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত "The Global Think Tank Summit"-এ তায়কোয়ানডো সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে তাজনূর আক্তার ও ফারজানা জান্নাত রুমা নামের দুই নারীকে সাথে নিয়ে গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে রেখে আসার মাধ্যমে তিনি সরাসরি মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এই কোচ নিজেই কোরিয়ার আয়োজক কমিটির কাছে লিখিত চিঠিতে ওই দুই নারীর অবৈধ অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। কেবল বিদেশে লোক পাচারই নয়, আন্তর্জাতিক'কুক্কিয়ন ড্যান' সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সর্বমোট ৭১,৪৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার দাবি, টাকা নেওয়ার পর তিনি সনদ প্রদান করেননি এবং টাকা ফেরত চাইলে তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অশালীন আচরণ করেন।


মোঃ রাশিদুল হাসানের অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তিনি তায়কোয়ানডো ইউনিয়নের  সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নানের ডিজিটাল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে। এই জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবং অপরাধের দায়ভার থেকে বাঁচতে মোঃ আব্দুল মান্নান ০৮ই মার্চ ২০২৬ইং তারিখে এবং মুমিত হাসান ১১ই মে ২০২৬ইং তারিখে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, বিকেএসপির একজন স্থায়ী বেতনভুক্ত কোচ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই 'বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ইউনিয়ন'-এর নীতিনির্ধারণী পদ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান পদবি ব্যবহার করে তিনি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বর্তমানে এই সকল অপকর্মের নথিপত্র তায়কোয়ানডো ফেডারেশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। 

তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় মোঃ রাশিদুল হাসান কে ফেডারেশন থেকে ১বছর আগেই বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলি জানার পরে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন বিকেএসপি কোচের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা ধুলিসাৎ করছে এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তায়কোয়ানডো বিভাগের কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের আড়ালে নারী পাচার, উদীয়মান খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রতারণার পাহাড়সমান অভিযোগ উঠেছে। গত অক্টোবর ২০২৪-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত "The Global Think Tank Summit"-এ তায়কোয়ানডো সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে তাজনূর আক্তার ও ফারজানা জান্নাত রুমা নামের দুই নারীকে সাথে নিয়ে গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে রেখে আসার মাধ্যমে তিনি সরাসরি মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 


এই কোচ নিজেই কোরিয়ার আয়োজক কমিটির কাছে লিখিত চিঠিতে ওই দুই নারীর অবৈধ অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। কেবল বিদেশে লোক পাচারই নয়, আন্তর্জাতিক'কুক্কিয়ন ড্যান' সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সর্বমোট ৭১,৪৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার দাবি, টাকা নেওয়ার পর তিনি সনদ প্রদান করেননি এবং টাকা ফেরত চাইলে তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অশালীন আচরণ করেন।


মোঃ রাশিদুল হাসানের অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তিনি তায়কোয়ানডো ইউনিয়নের  সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নানের ডিজিটাল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে। এই জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবং অপরাধের দায়ভার থেকে বাঁচতে মোঃ আব্দুল মান্নান ০৮ই মার্চ ২০২৬ইং তারিখে এবং মুমিত হাসান ১১ই মে ২০২৬ইং তারিখে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, বিকেএসপির একজন স্থায়ী বেতনভুক্ত কোচ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই 'বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ইউনিয়ন'-এর নীতিনির্ধারণী পদ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান পদবি ব্যবহার করে তিনি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বর্তমানে এই সকল অপকর্মের নথিপত্র তায়কোয়ানডো ফেডারেশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। 

তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় মোঃ রাশিদুল হাসান কে ফেডারেশন থেকে ১বছর আগেই বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলি জানার পরে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন বিকেএসপি কোচের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা ধুলিসাৎ করছে এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।




মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই