মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তায়কোয়ানডো বিভাগের কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের আড়ালে নারী পাচার, উদীয়মান খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রতারণার পাহাড়সমান অভিযোগ উঠেছে। গত অক্টোবর ২০২৪-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত "The Global Think Tank Summit"-এ তায়কোয়ানডো সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে তাজনূর আক্তার ও ফারজানা জান্নাত রুমা নামের দুই নারীকে সাথে নিয়ে গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে রেখে আসার মাধ্যমে তিনি সরাসরি মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কোচ নিজেই কোরিয়ার আয়োজক কমিটির কাছে লিখিত চিঠিতে ওই দুই নারীর অবৈধ অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। কেবল বিদেশে লোক পাচারই নয়, আন্তর্জাতিক'কুক্কিয়ন ড্যান' সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সর্বমোট ৭১,৪৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার দাবি, টাকা নেওয়ার পর তিনি সনদ প্রদান করেননি এবং টাকা ফেরত চাইলে তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অশালীন আচরণ করেন।মোঃ রাশিদুল হাসানের অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তিনি তায়কোয়ানডো ইউনিয়নের  সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নানের ডিজিটাল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে। এই জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবং অপরাধের দায়ভার থেকে বাঁচতে মোঃ আব্দুল মান্নান ০৮ই মার্চ ২০২৬ইং তারিখে এবং মুমিত হাসান ১১ই মে ২০২৬ইং তারিখে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, বিকেএসপির একজন স্থায়ী বেতনভুক্ত কোচ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই 'বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ইউনিয়ন'-এর নীতিনির্ধারণী পদ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান পদবি ব্যবহার করে তিনি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বর্তমানে এই সকল অপকর্মের নথিপত্র তায়কোয়ানডো ফেডারেশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় মোঃ রাশিদুল হাসান কে ফেডারেশন থেকে ১বছর আগেই বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলি জানার পরে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন বিকেএসপি কোচের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা ধুলিসাৎ করছে এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

ফিরছে হারানো ইতিহাস / পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছেন খালেদা জিয়া ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ

দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবইয়ে এক বিশাল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ‘ইতিহাস’ এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে এই ঐতিহাসিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে দীর্ঘদিনের আংশিক বা বিতর্কিত ইতিহাসের অবসান ঘটিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।পড়ুয়ারা জানবে ‘আপসহীন’ খালেদা জিয়ার অবদানএই সংস্কারের অন্যতম আলোচিত দিক হলো—সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০-পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষ করে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান এখন থেকে নতুন প্রজন্মের পাঠ্যতালিকায় স্থান পাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ বুঝতে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ করা অপরিহার্য।৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ২০২৪পাঠ্যবইয়ে এবার গুরুত্বের সাথে ফিরছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর ঐতিহাসিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি দীর্ঘ সময় পাঠ্যসূচিতে অনুপস্থিত ছিল। এর পাশাপাশি সমসাময়িক ইতিহাসের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, এর প্রভাব এবং আন্দোলনের বীরত্বগাথাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ইতিহাস সচেতনতা তৈরি করবে।ইতিহাসের পাতায় সম্রাট গোপাল থেকে জিয়াউর রহমানবিজিএস বইয়ে এবার ইতিহাসের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে। যেখানে প্রাচীন বাংলার সম্রাট গোপাল (পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা) থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পর্যন্ত ১০-১২ জন ক্ষণজন্মা পুরুষের জীবনী ও অবদান বর্ণনা করা হবে। এই তালিকায় সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী ও রাজনৈতিক দর্শনও স্থান পাচ্ছে।ভারী বোঝা কমিয়ে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা লার্নিং জয়এনসিটিবি কেবল তথ্য পরিবর্তন নয়, বরং পাঠ্যবইয়ের উপস্থাপনা ও ভাষাতেও আমূল পরিবর্তন আনছে। বর্তমানের জটিল ও মুখস্থনির্ভর পদ্ধতির বদলে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণা প্রবর্তন করা হচ্ছে। অপ্রাসঙ্গিক ও কঠিন তথ্যের চাপ কমিয়ে ভাষাকে করা হচ্ছে সহজবোধ্য ও প্রাণবন্ত। এ বিষয়ে এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানান, লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার চাপে পিষ্ট না হয়ে আনন্দের সাথে দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও বাস্তবতা শিখতে পারে।লক্ষ্য: জানুয়ারি ২০২৭-এর নতুন বইএনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, পরিমার্জন ও সম্পাদনার কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলমান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সকল কাজ শেষ করে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে এই বস্তুনিষ্ঠ ও পরিমার্জিত বইগুলো তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল একটি পাঠ্যবই সংস্কার নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক সত্যকে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার একটি প্রয়াস।

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছেন খালেদা জিয়া ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ

জাপান যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরেক বন্ধু / কুমিল্লায় বাসের চাপায় ঝরে গেল দুই তরুণের প্রাণ

তারা ছিল তিন বন্ধু, কিন্তু সম্পর্কটা ছিল আপন ভাইয়ের মতো। একই ভবনের ভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাস, একই শিক্ষাজীবন, একই স্বপ্ন আর একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার। উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের নতুন দিগন্ত খুলতে তারা একসঙ্গে সম্পন্ন করেছিল আইইএলটিএস (IELTS)। লক্ষ্য ছিল—আগামী আগস্টে জাপানে পাড়ি জমানো।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নীলাচল পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস মুহূর্তেই তিন বন্ধুর স্বপ্ন রক্তাক্ত করে দেয়। প্রাণ হারান দুই বন্ধু, আরেকজন এখনো হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।গত ১ মে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে আলেখারচর বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন প্রান্ত, নাহন ও সিয়াম। পথে আমতলী এলাকায় একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে নীলাচল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।ঘটনাস্থলেই নিহত হন মোটরসাইকেলের চালক প্রান্ত। তিনি আদর্শ সদর উপজেলার শিমপুর এলাকার সার্জেন্ট নজরুল ইসলামের ছেলে। গুরুতর আহত হন নাহন ও সিয়াম।আহত নাহন হোসেনকে দ্রুত কুমিল্লা থেকে ঢাকার অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ১২ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।নিহত নাহন (২২) বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের নোয়াখালীর সেনবাগ থানায় কর্মরত এসআই নোমান হোসেনের ছেলে। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“তিনজনেরই স্বপ্ন ছিল একসঙ্গে জাপানে যাবে। আইইএলটিএসও শেষ করেছিল। কিন্তু একটি বেপরোয়া বাস আমাদের সব স্বপ্ন কেড়ে নিল।”অপর আহত সিয়াম (২২) বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবু কাউসার ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।জানা গেছে, নিহত প্রান্ত ও আহত সিয়াম ক্যান্টনমেন্ট ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। অন্যদিকে নাহন ক্যান্টনমেন্ট বয়েজ স্কুল থেকে ২০২১ সালে এসএসসি এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তিন বন্ধুই একসঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে আইইএলটিএস সম্পন্ন করেছিলেন।স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই অব্যবস্থাপনার বলি হলো তিন তরুণের স্বপ্নভরা জীবন।নাহনের পিতা এসআই নোমান হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানা পুলিশ জব্দ করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।এদিকে, দুই তরুণের মৃত্যু এবং আরেকজনের সংকটাপন্ন অবস্থার খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে তিন বন্ধু একদিন একসঙ্গে জাপানের স্বপ্ন দেখেছিল, আজ তাদের সেই স্বপ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রক্তাক্ত পিচঢালা পথেই থেমে গেল।সৌরভ মাহমুদ হারুন বুড়িচং   কুমিল্লা ০১৭১৯৫৫২২৬৪ই-মেইল এ ছবি আছে। ক্যাপশন ১ নিহত  প্রান্ত,  ২ নিহত নাহন হোসেন ৩ আহত সিয়াম 

কুমিল্লায় বাসের চাপায় ঝরে গেল দুই তরুণের প্রাণ
বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তায়কোয়ানডো বিভাগের কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের আড়ালে নারী পাচার, উদীয়মান খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রতারণার পাহাড়সমান অভিযোগ উঠেছে। গত অক্টোবর ২০২৪-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত "The Global Think Tank Summit"-এ তায়কোয়ানডো সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে তাজনূর আক্তার ও ফারজানা জান্নাত রুমা নামের দুই নারীকে সাথে নিয়ে গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে রেখে আসার মাধ্যমে তিনি সরাসরি মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কোচ নিজেই কোরিয়ার আয়োজক কমিটির কাছে লিখিত চিঠিতে ওই দুই নারীর অবৈধ অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। কেবল বিদেশে লোক পাচারই নয়, আন্তর্জাতিক'কুক্কিয়ন ড্যান' সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সর্বমোট ৭১,৪৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার দাবি, টাকা নেওয়ার পর তিনি সনদ প্রদান করেননি এবং টাকা ফেরত চাইলে তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অশালীন আচরণ করেন।মোঃ রাশিদুল হাসানের অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তিনি তায়কোয়ানডো ইউনিয়নের  সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নানের ডিজিটাল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে। এই জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবং অপরাধের দায়ভার থেকে বাঁচতে মোঃ আব্দুল মান্নান ০৮ই মার্চ ২০২৬ইং তারিখে এবং মুমিত হাসান ১১ই মে ২০২৬ইং তারিখে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, বিকেএসপির একজন স্থায়ী বেতনভুক্ত কোচ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই 'বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ইউনিয়ন'-এর নীতিনির্ধারণী পদ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান পদবি ব্যবহার করে তিনি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বর্তমানে এই সকল অপকর্মের নথিপত্র তায়কোয়ানডো ফেডারেশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় মোঃ রাশিদুল হাসান কে ফেডারেশন থেকে ১বছর আগেই বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলি জানার পরে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন বিকেএসপি কোচের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা ধুলিসাৎ করছে এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে চীনের প্রভাব বাড়ছে: পাকিস্তানি গণমাধ্যম

সম্প্রতি, 'পাকিস্তান সেন্টার ফর নলেজ অ্যান্ড পাবলিক পলিসি'-এর চেয়ারম্যান মাহমুদ উল হাসান খান 'দ্য পাকিস্তান অবজারভার' পত্রিকায় "নতুন বিশ্ব বিশৃঙ্খলা: চীনের নিরাপত্তা লভ্যাংশ" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব বর্তমানে শান্তি ও অব্যাহত অস্থিতিশীলতার মাঝে এক অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে চীন তার আর্থিক সংযোগ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পশক্তির অনন্য সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। "বৈশ্বিক নিরাপত্তা লভ্যাংশ" হিসেবে চীনের ভূমিকা কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং একটি বাস্তব সত্য।প্রবন্ধটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, চীন বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন কাঠামোর নেতৃত্ব দিচ্ছে। আধুনিক বন্দর ও লজিস্টিক করিডোর দ্বারা সমর্থিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগ (বিআরআই) বিশ্বের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সংযোগ সমাধান প্রদান করছে। 'আরএমবি আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা'র দ্রুত উন্নয়ন বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে, যা প্রমাণ করে যে একক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে একটি বহুকেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে সরে যাচ্ছে।প্রবন্ধটিতে বিশেষভবে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সৌর, বায়ু এবং ব্যাটারি প্রযুক্তি বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের জন্য কার্যকর ও ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সরবরাহ করছে। যে দেশগুলো এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করছে, তারা কেবল পণ্যই কিনছে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, সামর্থ্য এবং জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের ওঠানামা থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সরবরাহ শৃঙ্খল একটি বৈশ্বিক জীবনরেখায় পরিণত হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব—উভয়কেই সমর্থন করছে।প্রবন্ধটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সমন্বিত শিল্প ইকোসিস্টেম শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে। একটি সুগঠিত সরবরাহ শৃঙ্খল, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ধারাবাহিক নীতিগত সমর্থন—চীনকে বৈশ্বিক সংকটের সময়েও উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম করেছে। এই নির্ভরযোগ্যতাই চীনকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য একটি চমৎকার গন্তব্যে পরিণত করেছে।প্রবন্ধটির সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক ব্যবস্থা, টেকসই জ্বালানি সমাধান এবং একটি স্থিতিস্থাপক শিল্প নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চীন বর্তমানের খণ্ডিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা প্রদান করছে। এটি কেবল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ঝুঁকিই হ্রাস করছে না, বরং আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলের ভিত্তিও স্থাপন করছে। তাই 'বৈশ্বিক নিরাপত্তার লভ্যাংশ' হিসেবে চীনের ভূমিকা ক্রমশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।সূত্র:লিলি-তৌহিদ-স্বর্ণা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদ দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া নাইমুর রহমান মাসুমের নাম। স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তার পরিবারের একাধিক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকলেও তাকে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তৃণমূল বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।রায়পুরা থানা কৃষক ধলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল রোব সরকার ও রায়পুরা থানা কৃষক ধলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল রোব সরকার বলেন, মাসুমের ছোট ভাই জিসান মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তার চাচা মুকুল উদ্দিন রায়পুরা থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। মাসুমের মা অতীতে উত্তর মির্জানগর ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও মিছিলেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।এমন রাজনৈতিক পটভূমির একজনকে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করাকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মনে করছেন বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন, “যাদের পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারা কীভাবে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসে?”তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করা ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে ভবিষ্যতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।নেতাকর্মীরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে আনা হলে সেটি সংগঠনের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াবে।”এ বিষয়ে নাইমুর রহমান মাসুম বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তায়কোয়ানডো বিভাগের কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের আড়ালে নারী পাচার, উদীয়মান খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রতারণার পাহাড়সমান অভিযোগ উঠেছে। গত অক্টোবর ২০২৪-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত "The Global Think Tank Summit"-এ তায়কোয়ানডো সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে তাজনূর আক্তার ও ফারজানা জান্নাত রুমা নামের দুই নারীকে সাথে নিয়ে গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে রেখে আসার মাধ্যমে তিনি সরাসরি মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কোচ নিজেই কোরিয়ার আয়োজক কমিটির কাছে লিখিত চিঠিতে ওই দুই নারীর অবৈধ অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। কেবল বিদেশে লোক পাচারই নয়, আন্তর্জাতিক'কুক্কিয়ন ড্যান' সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সর্বমোট ৭১,৪৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার দাবি, টাকা নেওয়ার পর তিনি সনদ প্রদান করেননি এবং টাকা ফেরত চাইলে তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অশালীন আচরণ করেন।মোঃ রাশিদুল হাসানের অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তিনি তায়কোয়ানডো ইউনিয়নের  সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নানের ডিজিটাল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে। এই জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবং অপরাধের দায়ভার থেকে বাঁচতে মোঃ আব্দুল মান্নান ০৮ই মার্চ ২০২৬ইং তারিখে এবং মুমিত হাসান ১১ই মে ২০২৬ইং তারিখে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, বিকেএসপির একজন স্থায়ী বেতনভুক্ত কোচ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই 'বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ইউনিয়ন'-এর নীতিনির্ধারণী পদ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান পদবি ব্যবহার করে তিনি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বর্তমানে এই সকল অপকর্মের নথিপত্র তায়কোয়ানডো ফেডারেশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় মোঃ রাশিদুল হাসান কে ফেডারেশন থেকে ১বছর আগেই বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলি জানার পরে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন বিকেএসপি কোচের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা ধুলিসাৎ করছে এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

প্রধান শিক্ষিকার উদাসীনতায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সিয়াম

প্রধান শিক্ষিকার উদাসীনতায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সিয়াম

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার উদাসীনতার কারণে চতুর্থ বিষয় না পাওয়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ সেশনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ইয়ামিন হাসান সিয়াম। ইয়ামিন হাসান সিয়াম ও তার বোন জামাই জাকির হোসেন জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে সিয়াম যথাসময়ে চতুর্থ বিষয় কৃষি শিক্ষাসহ রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ করে। পরীক্ষার কিছুদিন পূর্বে সে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে দেখে চতুর্থ বিষয় রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত হয়নি। তার রোল ৫১৩৯৯২ ও রেজিষ্ট্রেশন ২৩১০৮১২৬১০। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ মাহাবুবা বেগমকে অবহিত করলে তিনি সংশোধন করবেন বলে আশ^াস দেন। কিন্তু মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে সিয়াম কালীগঞ্জ আর.আর.এন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চতুর্থ বিষয় কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা দিতে গেলে কেন্দ্র সচিব কেএম নুরুল ইসলাম আল মোশাররফ ইবনে কাদির প্রবেশপত্রে চতুর্থ বিষয় না আসায় তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি। বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ মাহাবুবা বেগম জানান, শিক্ষার্থীর অভিযোগ পেয়ে আমি কেন্দ্র সচিবের সাথে কথা বলি। প্রবেশপত্রে চতুর্থ বিষয় না আসায় সিয়ামকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। চতুর্থ বিষয়ে পরীক্ষা না দিলেও কোন সমস্যা হয় না। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-ই-জান্নাত জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। পরীক্ষার আগে তথ্য পেলে হয়তো সংশোধন করা যেত। প্রধান শিক্ষিকার উদাসীনতার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যমুনা ফিউচার পার্কে ‘ঈদ বাজার’ উৎসব

যমুনা ফিউচার পার্কে ‘ঈদ বাজার’ উৎসব

পোশাক কেনার সঙ্গে ঘোরাঘুরি ক্রেতাদের আনন্দে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে যমুনায় আসছেন সব বয়সি মানুষ। মা-বাবার হাত ধরে আসছে পরিবারের ছোট সদস্যও। বাহারি ডিজাইনের পোশাকের সঙ্গে কিনছে রং-বেরংয়ের খেলনা। চড়ছে নানা রাইডে। দিনভর কেনাকাটা শেষে রসনা তৃপ্তিতে ফুডকোর্টে লোভনীয় মজাদার খাবারও রয়েছে। সবশেষে সিনেমা দেখে খুশি মনে সবাই ফিরছেন বাড়ি। সব মিলিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটা করতে আসা সবাই ঈদের আগেই যেন ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন।শপিংমল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের কেনাকাটার সেরা গন্তব্য হিসাবে যমুনা ফিউচার পার্কে ১৫শর বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড নিয়ে এবারের ‘ঈদ বাজার’ উৎসব সাজানো হয়েছে। যেখানে থাকছে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, ডিজাইনার কালেকশন, ইলেকট্রনিক্স, এক্সেসরিজ, জুতা, পারফিউম, হোম ডেকরসহ আরও অনেক কিছু। ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং টেক ক্যাটাগরিতে থাকছে বিশেষ ঈদ ছাড়, এক্সক্লুসিভ লঞ্চ এবং আকর্ষণীয় বান্ডেল অফার। এছাড়াও বিকাশ, নগদ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ব্যাংক কার্ডে থাকছে বিশেষ ক্যাশব্যাক ও ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট অফার। যা ঈদের কেনাকাটাকে করবে আরও সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক।পছন্দের পণ্য কিনতে সর্ববৃহৎ শপিংমলে সকাল থেকেই সব শ্রেণির ক্রেতা ভিড় করছেন। এক শোরুম থেকে আরেক শোরুম ঘুরে কিনছেন হাল ফ্যাশনের বৈচিত্র্যময় পোশাক। পোশাক কেনা শেষ করে ক্রেতারা যাচ্ছেন জুতার শোরুমে। সেখান থেকে গহনার দোকানে। এছাড়া কসমেটিকস, ক্রোকারিজ, পারফিউমসহ সব ধরনের পণ্য থাকায় ঈদ ঘিরে জমজমাট যমুনা ফিউচার পার্ক। সঙ্গে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্সের শোরুমগুলোতেও ঈদ ঘিরে বিক্রি বেড়েছে। এতে খুশি বিক্রেতারা।শনিবার ইনফিনিটি, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, আড়ং, জিন্স অ্যান্ড কোম্পানি, টুয়েলভ, রেড, জেন্টল পার্ক, টিনস ক্লাব, প্লাস পয়েন্ট, কান্ট্রি বয়, রেঞ্জ, লা রিভ, আর্টিসান, টপ টেন পোশাকের ব্র্যান্ড ও শপগুলোতে প্রচুর ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।শপিংমলের বুটিক্স ল্যাবের স্বত্বাধিকারী সুমাইয়া আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ক্রেতাদের আস্থার কথা চিন্তা করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে আমাদের আরেকটি আউটলেট উদ্বোধন করা হয়েছে। যেখানে ঈদ বাজার উপলক্ষ্যে ৫ জুন পর্যন্ত সব ধরনের পোশাকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পণ্য বিক্রি হবে। এছাড়া শনিবার প্রত্যেকটি পোশাকে ৩০০ টাকা করে ডিসকাউন্টে বিক্রি হচ্ছে।

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

প্রথমত, উচ্চ রক্তচাপ কখন হয় এবং এটি আসলে কী তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায়, এটি এমন একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে রক্ত পাম্প করার জন্য হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে, শিরাগুলির উপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার কারণে তাদের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। গুরুতর ক্ষেত্রে, শিরা ফেটে যেতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে।উচ্চ রক্তচাপের পরিসীমা কতযদি শরীরের রক্তচাপের পরিসীমা ১২০/৮০ মিমি এইচজি হয় তবে তাকে স্বাভাবিক রক্তচাপ বলা হয়। কিন্তু যখন এই পরিসীমা সিস্টোলিক ১৩০/১৩৯ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ থেকে ৯০ মিমি এইচজি-র মধ্যে পড়ে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপের অবস্থা বলা হয়।রক্তচাপের কোন স্তরটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও হার্টঅ্যাটাকের জন্য অনেকাংশে দায়ী। পরিসরের কথা বলতে গেলে, যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমিএইচজি-র উপরে পৌঁছায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত যাতে অবস্থা গুরুতর না হয়।দৃশ্যমান লক্ষণগুলি কী কীরক্তচাপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি কোনও গুরুতর লক্ষণ দেখায় না। এজন্যই একে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখ লাল হওয়া, বুকে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারেন। অতএব, যদি আপনার রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত আপনার রিডিং পরীক্ষা করে দেখুন এবং গুরুতর অবস্থার ক্ষেত্রে, অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

প্রথমত, উচ্চ রক্তচাপ কখন হয় এবং এটি আসলে কী তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায়, এটি এমন একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে রক্ত পাম্প করার জন্য হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে, শিরাগুলির উপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার কারণে তাদের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। গুরুতর ক্ষেত্রে, শিরা ফেটে যেতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে।উচ্চ রক্তচাপের পরিসীমা কতযদি শরীরের রক্তচাপের পরিসীমা ১২০/৮০ মিমি এইচজি হয় তবে তাকে স্বাভাবিক রক্তচাপ বলা হয়। কিন্তু যখন এই পরিসীমা সিস্টোলিক ১৩০/১৩৯ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ থেকে ৯০ মিমি এইচজি-র মধ্যে পড়ে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপের অবস্থা বলা হয়।রক্তচাপের কোন স্তরটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও হার্টঅ্যাটাকের জন্য অনেকাংশে দায়ী। পরিসরের কথা বলতে গেলে, যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমিএইচজি-র উপরে পৌঁছায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত যাতে অবস্থা গুরুতর না হয়।দৃশ্যমান লক্ষণগুলি কী কীরক্তচাপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি কোনও গুরুতর লক্ষণ দেখায় না। এজন্যই একে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখ লাল হওয়া, বুকে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারেন। অতএব, যদি আপনার রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত আপনার রিডিং পরীক্ষা করে দেখুন এবং গুরুতর অবস্থার ক্ষেত্রে, অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ কী? কেন এ সমস্যায় পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি ভোগেন?

‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ কী? কেন এ সমস্যায় পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি ভোগেন?

তবে যখন আঘাত লাগে, হাড় ভাঙে বা হাড়ে চিড় ধরে, তখন কষ্টের শেষ থাকে না। আর যত্নআত্তির প্রয়োজনও সেই সময়েই পড়ে। তখন সাবধানে থাকতে কী করা উচিত, হাড় ভাল রাখার কী কী ব্যায়াম আছে, কী খেলে হাড় মজবুত হবে— ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। হাড় কীভাবে ভাঙে, কখন ভাঙে, কাদের বেশি হয়— এই নিয়ে সচেতনতা কম মানুষেরই আছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা আঘাত লাগা ছাড়াও কিন্তু হাড় ভাঙে বা হাড়ে চিড় ধরে, যাকে ‘বোন ফ্র্যাকচার’ বল হয়। তেমনই একটি হল ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ যেই সমস্যাটি নারীদেরই বেশি হয়।‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ’ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরুষের চেয়ে নারীরাই হাড়ের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে বেশি ভোগেন। যারা খেলাধূলা বেশি করেন, জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়ন, জগিং বা ওয়েট ট্রেনিং করেন, অথবা নাচ, অ্যারোবিক্স করেন, তাদের এই ফ্র্যাকচার বেশি হয়।‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ কীভাবে হয়?হাড়ের অনেক স্তর থাকে। একেবারে বাইরে একটা পর্দা থাকে, যাকে পেরিঅস্টিয়াম বলা হয়, তারপর থাকে কর্টিকাল বোন, তার মাঝে থাকে মজ্জা। এটি অনেকটা রডের মতো, ত্রিমাত্রিক গঠনের। ওই অংশটি যদি ভেঙে যায় বা থেঁতলে যায়, তখন বলা হয় হাড়ে ‘ফ্র্যাকচার’ হয়েছে। এই বিষয়ে অস্থি চিকিৎসক সুব্রত গড়াই জানাচ্ছেন, প্রধানত ফ্র্যাকচার হয় কোনো ট্রমা বা ইনজুরি থেকে। তাতে হয় হাড় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় বা তাতে চিড় ধরতে পারে। হাড়ের সঙ্গে যে পেশি জুড়ে থাকে, সেগুলোতে ক্ষত হয়, হাড়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারে। শরীরের কোনো একটি অংশের হাড় ও পেশিতে ক্রমাগত চাপ পড়ার কারণে যখন ওই অংশের পেশি দুর্বল হয় ও হাড়ে চিড় ধরে, তখন তাকে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার বলে। এটি গোড়ালি মচকে যাওয়া বা হাত ভেঙে যাওয়ার মতো হঠাৎ করে ঘটা দুর্ঘটনা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে হাড়ে চাপ পড়তে পড়তে বা আঘাত লেগে হাড় দুর্বল হয়ে গিয়ে ফ্র্যাকচার হয়।এটি খেলোয়াড়দের বেশি হয়, তবে যারা খুব বেশি দৌড়োদৌড়ি বা ভারি ব্যায়াম করেন, তাদেরও হতে পারে। অস্টিয়োপোরোসিস থেকেও ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ হতে পারে। হাড়ের ভিতরে টিউমার বা কোনো সংক্রমণের কারণে হাড়ের শক্তি কমে গিয়েও এমন হতে পারে। নারীদের রজোনিবৃত্তির পরে ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ ওই সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে, ফলে শরীরের প্রতিরোধ শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।