মুক্তির লড়াই

আর্কাইভ দেখুন

ভোলাহাটে কিস্তি তুলতে গিয়ে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: এনজিওকর্মী গ্রেফতার

ভোলাহাটে কিস্তি তুলতে গিয়ে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: এনজিওকর্মী গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ছয় বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামের এক এনজিওর মাঠকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে ঘরে অভিভাবকহীন শিশুকে একা পেয়ে তিনি এই পাশবিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।​গত সোমবার (জুলাই, ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাধানগর কলোনী এলাকায় এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।​গ্রেফতারকৃত রাকিবুল ইসলাম পিরোজপুর সদর উপজেলার কালিটাটি বটতলা (পশ্চিম ডুবুরি তলা) গ্রামের মো. দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে। তিনি ভোলাহাটে ‘রিক’ (Resource Integration Centre) নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে শিশুটি নিজ বাড়িতে একা ছিল। এ সময় ঋণের কিস্তির টাকা তোলার উদ্দেশ্যে রাকিবুল ওই বাড়িতে যান। ঘরে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত রাকিবুল শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।​বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এনজিওকর্মীকে আটক করে।​ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।​ওসি আরও জানান, এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


ডব্লিউএআইসিও গঠনে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলো লেসোথো

ডব্লিউএআইসিও গঠনে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলো লেসোথো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই উন্নয়নে কোন দেশের পিছিয়ে থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। শনিবার শাংহাইয়ে লেসোথোর পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রী লিম্ফো তাউয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।  ওয়াং ই বলেন, এআই উন্নয়নে কোন দেশকে পিছিয়ে রাখা যাবে না।ওয়াং ই জানান, বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে এবং লেসোথো সরকারের পক্ষে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা-ডব্লিউএআইসিও প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চীনে এসেছেন লিম্ফো তাউ।ডব্লিউএআইসিও প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের লক্ষ্য হল বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, এআইয়ের ইতিবাচক বিকাশে সহায়তা এবং মানবজাতির কল্যাণ নিশ্চিত করা। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লেসোথোতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও ব্যবসা শুরুর বিষয়ে উৎসাহ দেবে চীন। পাশাপাশি লেসোথোর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আরও পণ্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক আরও বাড়ানো ক্ষেত্র ও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত হবে বলে আশা করেন।লিম্ফো তাউ বলেন, ডব্লিউএআইসিওর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে লেসোথো সম্মানিত। সংগঠনটির নির্মাণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অভিন্ন অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি


জাতিসংঘের অবস্থান ও কর্তৃত্ব রক্ষার আহ্বান সি চিন পিংয়ের

জাতিসংঘের অবস্থান ও কর্তৃত্ব রক্ষার আহ্বান সি চিন পিংয়ের

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং শাংহাইয়ে, ১৭ই জুলাই, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন।গুতেরেস ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন, ২০২৬’ তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে চীন এসেছেন। বৈঠকে সিন চিন পিং বলেন, জনাব আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ১০ বছরে তাঁর নেতৃত্বে, জাতিসংঘ দৃঢ়ভাবে বহুপাক্ষিকতা রক্ষা করেছে, ইতিবাচকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমতাসহ নতুন উদীয়মান খাতের বৈশ্বিক প্রসাশনকে উন্নত করেছে, এবং জাতিসংঘের সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চীন তাঁর কাজের প্রশংসা করে। চলতি বছর হচ্ছে, নয়া চীনের জাতিসংঘের বৈধ আসন পুনরুদ্ধারের ৫৫তম বার্ষিকী। ৫৫ বছরে চীন দৃঢ়ভাবে, বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন, এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। চীন সবসময় দৃঢ়ভাবে জাতিসংঘকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, আমি মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলার ধরণা ও চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ উত্থাপন করেছি, যার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, জাতিসংঘের অবস্থান ও কর্তৃত্ব  রক্ষা করা। চীন আগের মতো ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সাথে সহযোগিতা জোরদার করবে, বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেবে, এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলার কাজে গতি সঞ্চার করবে। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বতর্মানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও দ্রুত পরিবর্তনশীল। আমাদের উচিত, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা বাস্তবায়ন করা এবং জাতিসংঘের অবস্থান ও ভূমিকা পূনরুদ্ধার করা। তিনি বলেন, প্রথমত, সততা ও ন্যায্যতায় অবিচল থাকতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ সনদের চেতনা মেনে নিতে হবে এবং জাতিসংঘের সংস্কারকাজ উন্নত করতে হবে; তৃতীয়ত, দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সকল দেশ একটি অভিন্ন ভাগ্যের জাহাজে বসে আছে। এজন্য একযোগে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, চীন সবসময় বাস্তব কার্যকলাপের মাধ্যমে, নতুন যুগে বড় দেশগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু সহাবস্থান বজায় রাখার পদ্ধতি অনুসন্ধান করছে, যা বিশ্বে আরও বেশি স্থিতিশীলতার যোগান দিয়েছে।সূত্র:আকাশ-আলিম-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।


বিশ্ব এআই সম্মেলনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো

বিশ্ব এআই সম্মেলনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো

১৯জুলাই, (রোববার) সকালে, "২০২৬ বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন"-এর অংশ হিসেবে শাংহাইয়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ "ফ্রন্টিয়ার এআই এবং এজেন্ট সেফটি ফোরাম" অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিশেষ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের ২০ জনেরও বেশি শীর্ষস্থানীয় এআই বিজ্ঞানী, গবেষক এবং নীতিনির্ধারক মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা খাতের বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিবেদন ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য যৌথভাবে উন্মোচন করেছেন এবং ফ্রন্টিয়ার এআই-এর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বৈশ্বিক শিল্প শাসন নিয়ে গভীর ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পরিচালনা করেছেন।ফোরামটি মূলত তিনটি মূল ও কেন্দ্রীয় বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে ফোকাস করেছে: "ফ্রন্টিয়ার এআই ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ", "এআই এজেন্টের নিয়ন্ত্রণহীনতার ঝুঁকি ও জরুরি ব্যবস্থাপনা" এবং "ফ্রন্টিয়ার এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি" । এই লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখে দিনভর একাধিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ফোরামের মঞ্চ থেকে একযোগে পাঁচটি নির্দেশক গবেষণা ফলাফল বিশ্ববাসীর সামনে পেশ করা হয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত টুলস, এআই প্রযুক্তির স্তরভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ ও মানদণ্ড, জরুরি সংকটকালীন সাড়াদান পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সমগ্র এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ প্যানোরামিক মূল্যায়ন—সবকিছুর সমন্বয়ে এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ণ ও সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।সূত্র: শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।


রেলপথে ইউরোপের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্প্রসারণ

রেলপথে ইউরোপের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্প্রসারণ

উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত  অঞ্চলের আলাশানখৌ ও খোরগোস রেলবন্দর দিয়ে চলতি বছরে ১০ হাজারের বেশি চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেন চলাচল করেছে। ২০১১ সালে এই রেলসেবা চালু হওয়ার পর একই সময়ে এটিই সর্বোচ্চ ট্রেন চলাচলের রেকর্ড।১০ হাজারতম ট্রেনটি শুক্রবার যাত্রা শুরু করে। যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক পণ্য নিয়ে এটি পোল্যান্ডের মালাশেভিচে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এখন বন্দর দুটির কাজ অনেক দ্রুত হচ্ছে। আগে আমদানি করা পণ্যের ছাড়পত্র পেতে দুই থেকে তিন দিন লাগত। এখন তা ১৬ ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে। আর রপ্তানি পণ্যের কাগজপত্রের কাজ ছয় ঘণ্টার বদলে এখন মাত্র এক ঘণ্টায় শেষ হচ্ছে।বর্তমানে আলাশানখৌ ও খোরগোস রেলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০টির বেশি চীন-ইউরোপ ও মধ্য এশিয়াগামী মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। এতে চীন ও ইউরোপের মধ্যে স্থলপথে বাণিজ্য আরও দ্রুত ও সহজ হয়েছে।আলাশানখৌ রেলবন্দর থেকে এখন ২১টি দেশের সঙ্গে ১২৯টি ট্রেন রুট চালু রয়েছে। আর খোরগোস রেলবন্দর থেকে ১৮টি দেশের সঙ্গে ৯১টি রুটে ট্রেন চলাচল করছে।এই দুই বন্দর দিয়ে ২০০টিরও বেশি ধরনের পণ্য পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক পণ্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য।তথ্য ও ছবি-সিনহুয়া।


সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ (ইমো) কল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. ইকবালের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রথমে এক জাতীয় দৈনিকের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারকে মোবাইল ফোনে কল করে সংবাদটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।পরে একই বিষয়ে আরেকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক ও প্রকাশকের সঙ্গেও একাধিকবার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ (ইমো) কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংবাদ অপসারণ না করলে “খেলা হবে” বলে হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেক আইডি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মানহানিকর প্রচারণা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ইকবালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।


প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরার) বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে ও অর্থ বাণিজ্যসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিস্ট দপ্তরে বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আর প্রশাসন বলছেন, ক্ষমতা স্বল্পতা থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কার্যত প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে নতুন করে সতেরো জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই সতেরো জন শিক্ষক-কর্মচারির কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্যিকরণ, সময়মত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের দেয়া বেশকিছু লেপটপ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, সরকারের দেয়া বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।শুধু তাই নয় প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনা ও সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সাথে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত কোনমতে দায়সারছেন প্রতিষ্ঠানের। একের পর এক অভিযোগ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট দপ্তরে জমা পড়লেও কার্যত ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃষ্টির পাশাপাশি মারমুখি আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। অভিযোগকারীদের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বেশকয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) একজন মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী। সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এলাকায় জেলা শহরে অবস্থিত এই প্রতিবন্ধী স্কুলে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কেক কাটেন এমন অভিযোগ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়। স্কুলটিতে তার ভাই-ভাবিসহ পরিবারের ৯ জনকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। আর সেকারণেই রাজত্ব কায়েম করছিল। তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতিত হয় অন্যান্য শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে বাঁধা প্রদান করছেন। উপায় না পেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকের সংশ্লিস্ট দপ্তরে। তারপরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ না নিলে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবরে পরার আশঙ্কার পাশাপাশি শিক্ষক কর্মচারিরা পথে বসবে বলে জানান প্রতিষ্ঠান সংশ্লিস্টরা।অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) সব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা যদি পারে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) দায়িত্বে থাকা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি কোন কথাই কর্নপাত করছেন না। ক্ষমতা স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে লিখিত জবাব প্রেরণের। দ্রুতেই সময়ের মধ্যে না দিলে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হবে।


একটি দুর্ঘটনায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে শ্রাবন্তীর স্বপ্ন;

একটি দুর্ঘটনায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে শ্রাবন্তীর স্বপ্ন;

বাবার অসমাপ্ত স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে এখনও পড়ার টেবিলে বসে শ্রাবন্তী। অভাব তাকে থামিয়ে দিতে চাইলেও তার চোখে এখনও জ্বলজ্বল করছে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন। এখন শুধু প্রয়োজন সমাজ ও রাষ্ট্রের সহানুভূতির হাত, যাতে একটি মেধার স্বপ্ন অকালেই ঝরে না যায়।বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করার স্বপ্ন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের মুরাদপুর পোনসাইর গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী আক্তারের। বাবারও ইচ্ছে ছিল শ্রাবন্তীকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখতে । অভাব-অনটনের সংসারে রাত জেগে বাজার পাহারা দিয়ে উপার্জন করা অর্থে সংসার চালাতেন পাঁচ কন্যা সন্তানের জনক ছালাম মিয়া । সীমিত আয়ের মধ্যেই তিনি বড় তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট দুই মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্বও তিনি সাধ্যমতো পালন করে আসছিলেন। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যুর পর সেই স্বপ্ন আজ ম্লান হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে ।গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে গৌরীপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুটুম্বপুর বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার পরপরই একটি দ্রুতগামী লরি (ভেহিকল) গাড়ি ছালাম মিয়াকে চাপা দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে তিনটার দিকে তিনি মারা যান।ছালাম মিয়ার স্ত্রী রুবি আক্তার বলেন, আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই, শুধু পাঁচটি মেয়ে। আমার স্বামীই ছিল আমাদের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি বাজার পাহারা দিয়ে যে বেতন পেতেন, তা দিয়েই কোনো রকমে আমাদের সংসার চলত। স্বামী মারা যাওয়ার পর আমাদের সংসার চালানোর মতো কেউ নেই। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় অনেক কষ্টে দিন কাটছে। সরকার যদি আমাদের কিছু অনুদান দেয় এবং আমার মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে শ্রাবন্তী তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।বর্তমানে শ্রাবন্তী কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর পর অর্থাভাবে তার ছোট বোন সেঁজুতির পড়ালেখা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে শত কষ্ট ও অভাব-অনটনের মধ্যেও আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের সহৃদয়বান মানুষের সহযোগিতায় নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে শ্রাবন্তী।শ্রাবন্তী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার হওয়া। আমার বাবারও অনেক স্বপ্ন ছিল আমাকে পড়ালেখা শিখিয়ে সরকারি চাকরিতে দেখতে। বাবা সব সময় আমাকে পড়াশোনা করতে উৎসাহ দিতেন। বাবাকে হারানোর পর আমাদের সংসারে অনেক কষ্ট নেমে এসেছে। অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। তারপরও আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।মুরাদপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুল বাতেন মেম্বার বলেন “ছালাম ভাইয়ের পরিবার বর্তমানে অসহায় অবস্থায় রয়েছে। শ্রাবন্তী একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটের কারণে যদি তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজের জন্যও ক্ষতির কারণ হবে। আমরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।পুনসাইর গ্রামের মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ছালাম মিয়া অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। সব সময় তার মেয়েদের শিক্ষিত করার কথা বলতেন। তিনি চাইতেন অন্তত একজন মেয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সরকারি চাকরি করুক। তার মৃত্যুর পর সেই স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, সে জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।শ্রাবন্তীর পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, মেধাবী শিক্ষার্থী শ্রাবন্তীর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সরকারি বৃত্তি, আর্থিক অনুদান কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির স্থায়ীভাবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিশেষ সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


কোটচাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

কোটচাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ভবন ভাঙার কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইয়ানুর হোসেন (২৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভাঙার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত ইয়ানুর হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলার হেলাই গ্রামের জামির আলীর ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, সকালে কোটচাঁদপুর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ করছিলেন ইয়ানুরসহ কয়েকজন শ্রমিক। ভবন ভাঙার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ইয়ানুরের হাতে থাকা একটি রড পাশে থাকা বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সংস্পর্শে আসে। এতে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।পরে স্থানীয়রা সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আনসার উল্লাহ হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। অসাবধানতাবশত রড বিদ্যুতের মেইন লাইনে লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব

বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ ও হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুহাম্মদ নাহিদ হোসাইনের কাছে লিখিত কৈফিয়ত তলব করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আনজার শাহ। এ সময় নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পরও ডাঃ নাহিদ হোসাইন তাঁর সাথে যথাযথ আচরণ না করে অসদাচরণ করেন এবং তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা বিষয়টি মৌখিক ও লিখিতভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ আকারে দাখিল করেন।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আচরণ একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার সম্পর্কিত পরিপন্থী। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডাঃ নাহিদ হোসাইনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক কৈফিয়ত তলব পত্র প্রেরণ করেন। চিঠিতে ঘটনার বিষয়ে সুস্পষ্ট, বিস্তারিত ও লিখিত ব্যাখ্যা পত্র প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে দপ্তরে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই কৈফিয়ত তলব পত্রের অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং কুমিল্লার সিভিল সার্জন বরাবর।স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সিভিল সার্জন সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল গেট ও আশপাশে ভাসমান ডাস্টবিন নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধারাবাহিকতায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের সাথে ঘটে এই অনভিপ্রেত ঘটনা।স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সুশীল সমাজ এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের সৌজন্যমূলক ও শালীন আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে অনেকে মনে করছেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে এ ধরনের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লিখিত কৈফিয়ত পর্যালোচনা করবে কর্তৃপক্ষ।


কক্সবাজার ঘিরে কেন এত আগ্রহ পরাশক্তিদের

কক্সবাজার ঘিরে কেন এত আগ্রহ পরাশক্তিদের

নীল সমুদ্র, দীর্ঘ বালুকাবেলা, পাহাড় আর পর্যটনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত কক্সবাজার। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালে গত কয়েক বছরে বদলে গেছে জেলার কৌশলগত গুরুত্ব। এখন কক্সবাজার শুধু পর্যটনের শহর নয়; এটি একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল, মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট, মাদক ও সীমান্ত অপরাধের কেন্দ্র এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন রেল যোগাযোগ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশকে যুক্ত করার সম্ভাব্য আঞ্চলিক করিডোর। ফলে কক্সবাজার এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৌশলগত হিসাব-নিকাশেরও অংশ হয়ে উঠেছে।উদ্বাস্তু পুনর্বাসন থেকে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকক্সবাজারের ইতিহাসের সঙ্গে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের সম্পর্ক বহু পুরনো। আঠারো শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স আরাকানি উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়ে এ অঞ্চলে আসেন।চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলে উদ্বাস্তুদের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও কক্স বেছে নেন বাঁকখালী ও নাফ নদীর মধ্যবর্তী দক্ষিণাঞ্চল। বাঁকখালী নদীর তীরে বসতি স্থাপনের পাশাপাশি তিনি একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারেই ‘কক্সের বাজার’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।কক্সের উদ্যোগের পেছনে মানবিকতার পাশাপাশি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্বার্থ। বনভূমি আবাদ, কৃষি সম্প্রসারণ, রাজস্ব আদায় এবং পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বলয় তৈরির পরিকল্পনাও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।দুই শতাব্দীর বেশি সময় পর কক্সবাজারের গুরুত্ব যেন আবারও সেই ইতিহাসের দিকে ফিরে গেছে। উদ্বাস্তু, সীমান্ত ও নিরাপত্তার পুরনো বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বন্দর, বাণিজ্য, জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা।কুনমিং থেকে কক্সবাজার—নতুন করিডোরের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর কক্সবাজারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক যোগাযোগ করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছে।প্রস্তাবিত করিডোরটি চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে ইয়াঙ্গুন এবং রাখাইনের কিয়াকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে এর সঙ্গে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।এই ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের গুরুত্ব বোঝার জন্য শুধু বাংলাদেশের মানচিত্র দেখলেই হবে না। এর পূর্বে মিয়ানমারের রাখাইন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং কাছাকাছি রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে অঞ্চলটি বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।মাতারবাড়ী বদলে দিচ্ছে কক্সবাজারের অর্থনৈতিক পরিচয়দীর্ঘদিন কক্সবাজারের অর্থনীতি পর্যটননির্ভর হলেও এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠছে বৃহৎ জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো।বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালুর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে। সম্প্রসারণ করা হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরও।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের অর্থনীতি শুধু পর্যটননির্ভর থাকবে না। বন্দর, লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করা হলে বড় প্রকল্পগুলোই ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ববাসীর নজর২০১৬ সালের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে বলে সরকারি তথ্য রয়েছে।রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানব পাচার, মাদক এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি।তাদের মতে, দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে সংকটের প্রভাব শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো অঞ্চলের ওপর পড়তে পারে।মানব পাচারের ভয়ংকর রুটকক্সবাজারের আরেকটি বড় বাস্তবতা মানব পাচার। সীমান্তবর্তী অবস্থান, সমুদ্রপথ এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নারী, শিশু ও তরুণদের দেশের বাইরে পাঠানোর নামে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। কখনো সমুদ্রপথে, কখনো স্থলপথে তাদের পাচারের চেষ্টা করা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানব পাচার বড় সমস্যা। বাস্তুচ্যুত বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এ বিষয়ে অভিযান জোরদার করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মানব পাচার বন্ধে শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পাচারকারীদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, স্থানীয় দালালচক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পথ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।কক্সবাজারে নিরাপত্তার নতুন সমীকরণকক্সবাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন বহুমাত্রিক। একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত, অন্যদিকে সমুদ্রপথ। এর সঙ্গে রয়েছে শরণার্থী ক্যাম্প, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বন্দর, পর্যটন, সীমান্ত ও শরণার্থী—প্রতিটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।সেন্টমার্টিন—রাজনীতি ও ভূরাজনীতির আলোচনায়কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপও গত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেন্টমার্টিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর দ্বীপটির পর্যটন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।বিশ্লেষকদের মতে, সেন্টমার্টিনের গুরুত্বকে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই দ্বীপকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয় জড়িত।রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়কক্সবাজারের রাজনৈতিক গুরুত্বও দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকেই এ জেলা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।চকরিয়ার হারবাং এলাকার খান বাহাদুর মৌলভি জালালুদ্দীন আহমদ বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন এবং অবিভক্ত বাংলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রামুর রশিদনগরের সন্তান মৌলভি ফরিদ আহমদ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী ছিলেন।বর্তমান সময়েও জাতীয় রাজনীতিতে কক্সবাজারের প্রভাব রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক শিকড় এ জেলায়।ফলে কক্সবাজারের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সীমান্তনীতি এখন জাতীয় রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণে কক্সবাজারকক্সবাজারের সামনে এখন একদিকে বিপুল সম্ভাবনা, অন্যদিকে বড় চ্যালেঞ্জ।পর্যটন, বন্দর, জ্বালানি, রেল, বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক বাণিজ্য—সব মিলিয়ে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ব্যাপক। কিন্তু একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, মানব পাচার, মাদক, সীমান্ত অপরাধ ও পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জাতীয় কৌশল।পর্যটন উন্নয়নকে যেমন পরিবেশবান্ধব করতে হবে, তেমনি বন্দর ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুক্ত করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, মানব পাচার দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাও সমান জরুরি।কারণ কক্সবাজার এখন আর শুধু পর্যটনের শহর নয়।এটি একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী সংকটের কেন্দ্র, অন্যদিকে মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট। একই সঙ্গে এটি বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।আর এ কারণেই কক্সবাজারের ওপর এখন শুধু বাংলাদেশের নয়—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোরও নজর।


বরুড়ায় বেপরোয়া সিএনজির ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুল শিক্ষার্থীর

বরুড়ায় বেপরোয়া সিএনজির ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুল শিক্ষার্থীর

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার উত্তর খোশবাস ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের প্রয়াত আব্দুল বাতেন বাকীর মেজো ছেলে তানিম আহমেদ (১৭) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেল আনুমানিক ৪ টা ৩০ মিনিটে চান্দিনা থেকে রামমোহন বাজারে আসার পথে বানিয়াচং গ্রামের পাশে একটি বেপরোয়া গতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তানিম মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিলেন। মোটরসাইকেলের চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।নিহত তানিম আহমেদ ২০২৬ সালের রামমোহন তমিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। স্বপ্নভরা এক কিশোরের এমন অকাল মৃত্যুতে নবীপুরসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, চান্দিনা-রামমোহন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে যাত্রী ও সিরিয়াল নিয়ে প্রায়ই বেপরোয়া প্রতিযোগিতা চলে। কার আগে কে যাবে—এমন প্রতিযোগিতার কারণে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই বেপরোয়া প্রতিযোগিতারই বলি হয়েছেন তানিম আহমেদ। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে, নিহত তানিম আহমেদের জানাজার নামাজ আজ রাত ৯টায় নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।


এক দলিলে দ্বৈত রূপ: মোহাম্মদপুরে ভূমি নথির ‘জাদুকরী’ জালিয়াতি ও রহস্যের হাতছানি

এক দলিলে দ্বৈত রূপ: মোহাম্মদপুরে ভূমি নথির ‘জাদুকরী’ জালিয়াতি ও রহস্যের হাতছানি

​ঢাকার মোহাম্মদপুরে ভূমি মালিকানা নিয়ে এক অদ্ভুত ও ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে, যা কেবল নথিপত্রের অসংগতি নয়, বরং পরিকল্পিত অপরাধের এক অনন্য নজির। একই দলিল নম্বর (১৪৩৩) এবং একই তারিখের (০৫/০৩/২০০৮) বিপরীতে একটি ‘হেবা’ এবং অন্যটি ‘সাব-কবলা’ দলিলের অস্তিত্ব এখন ভূমি প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এই কারসাজি কি কেবল clerical error, নাকি সরকারি নথিপত্রকে হাতের মোয়া বানিয়ে কোনো অদৃশ্য সিন্ডিকেটের ভূমি দখলের মহোৎসব?*​জালিয়াতির অংকশাস্ত্র: যখন একটি দলিলে দুই স্বত্ত্বা*​২০০৮ সালের ৫ মার্চ সম্পাদিত ১৪৩৩ নং দলিলটি রহস্যময়ভাবে দুই ধরণের পরিচয় ধারণ করছে। একদিকে আদালতে বিচারাধীন একটি মামলায় এটি কুতুবউদ্দিনের নামে ‘হেবা’ দলিল হিসেবে প্রদর্শিত। অন্যদিকে, একই নম্বর ও তারিখ ব্যবহার করে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের পক্ষ দাবি করছে এটি তাদের ‘সাব-কবলা’। একটি দলিলে দুই রূপ ধারণ করার এই ঘটনা কি বালাম বই টেম্পারিং বা নথিপত্র জালিয়াতির কোনো সুপরিকল্পিত মডেল? আমাদের অনুসন্ধান বলছে, এই অসংগতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ঢাকার ভূমির মালিকানা নিয়ে প্রচলিত এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।*​অদৃশ্য নোটিশ ও নামজারির ‘জাদুকরী’ গতি*​সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো নামজারি প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা। যেখানে জোবায়ের হোসেন গত দেড় দশক ধরে ওই জমিতে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে আইনগতভাবে ভোগদখলে আছেন, সেখানে তাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই কীভাবে নামজারি সম্পন্ন হলো? নামজারি প্রক্রিয়ার আইনি ধাপ হিসেবে 'নোটিশ সার্ভ' করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা কি এই বিশেষ ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে? আইনি বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী মহলের মতে, প্রকৃত মালিককে অন্ধকারে রেখে নামজারি সম্পন্ন করার এই প্রক্রিয়া স্পষ্টতই একতরফা ও অপরাধমূলক।*​উন্নয়নের দোহাই নাকি দখলের মহোৎসব?*​যদি ১৪৩৩ নং সাব-কবলা দলিলটিই আসল হতো, তবে জোবায়ের হোসেনের ৮ তলা ভবন নির্মাণের সময় এই তথাকথিত মালিকরা কোথায় ছিলেন? কেন তারা নির্মাণের সময় বাধা দেননি? ভবন নির্মাণের পর হঠাৎ করে এই দলিল প্রদর্শনের মাধ্যমে নামজারি সম্পন্ন করাটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও দখলবাজির চূড়ান্ত নীল নকশা।*​প্রশাসনের ভূমিকা ও আমাদের প্রত্যাশা*​আমরা বর্তমান দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে চাই। এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা অদৃশ্য সিন্ডিকেটকে খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি এবং রাজস্ব সার্কেল কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোরালো আহ্বান—বালাম বইয়ের অসংগতিগুলো খতিয়ে দেখা হোক। কোন দলিলে কার স্বাক্ষর রয়েছে, এবং কেন নোটিশ ছাড়াই নামজারি সম্পন্ন হলো—এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।*​শেষ কথা*​ভূমি মালিকানা কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি হরণের হাতিয়ার হতে পারে না। এই জালিয়াতির সাথে জড়িত রথী-মহারথীদের চিহ্নিত করা না হলে ঢাকার বুকে ভূমির নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তথ্যের প্রতিটি স্তর উন্মোচন করে আমরা এই ভূমি জালিয়াতির কুশীলবদের মুখোশ খুলে দিতে বদ্ধপরিকর।​জনস্বার্থে এবং প্রকৃত মালিকের অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠায় আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—সময় এসেছে এই অশুভ চক্রের যবনিকা টানার।


কানাডার স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা

কানাডার স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা

বরুড়ায় কিশোর লাবিবকে নৃশংস ভাবে হত্যার চেষ্টা, আটক দুই

বরুড়ায় কিশোর লাবিবকে নৃশংস ভাবে হত্যার চেষ্টা, আটক দুই

বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জনি, সম্পাদক ইলিয়াছ ও সাংগঠনিক মহসিন নির্বাচিত

বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জনি, সম্পাদক ইলিয়াছ ও সাংগঠনিক মহসিন নির্বাচিত

বরুড়ায় বিভিন্ন দল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগদান

বরুড়ায় বিভিন্ন দল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগদান

তালের শাঁসের বাম্পার ফলন বরুড়ায়, খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

তালের শাঁসের বাম্পার ফলন বরুড়ায়, খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

এজেএম আজহারুল ইসলাম ফাহিম এর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ

এজেএম আজহারুল ইসলাম ফাহিম এর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ

রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

লাব্বাইক ধ্বনিতে কাঁপছে আরাফাত: ১৬ লাখ মুসল্লির অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

লাব্বাইক ধ্বনিতে কাঁপছে আরাফাত: ১৬ লাখ মুসল্লির অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদ দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদ দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক

ডিবি পুলিশের পোষাক পড়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বরুড়ায় গ্রেফতার ৮

ডিবি পুলিশের পোষাক পড়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বরুড়ায় গ্রেফতার ৮

ভোলাহাটে কিস্তি তুলতে গিয়ে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: এনজিওকর্মী গ্রেফতার

ভোলাহাটে কিস্তি তুলতে গিয়ে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: এনজিওকর্মী গ্রেফতার

ডব্লিউএআইসিও গঠনে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলো লেসোথো

ডব্লিউএআইসিও গঠনে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলো লেসোথো

জাতিসংঘের অবস্থান ও কর্তৃত্ব রক্ষার আহ্বান সি চিন পিংয়ের

জাতিসংঘের অবস্থান ও কর্তৃত্ব রক্ষার আহ্বান সি চিন পিংয়ের

বিশ্ব এআই সম্মেলনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো

বিশ্ব এআই সম্মেলনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো

রেলপথে ইউরোপের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্প্রসারণ

রেলপথে ইউরোপের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্প্রসারণ

সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

একটি দুর্ঘটনায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে শ্রাবন্তীর স্বপ্ন;

একটি দুর্ঘটনায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে শ্রাবন্তীর স্বপ্ন;

কোটচাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

কোটচাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব

বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব