বস্তার ভেতর আটটা দমবন্ধ নিঃশ্বাস—
অন্ধকারে গুটিসুটি মেরে থাকা
ছোট্ট, উষ্ণ, নিরীহ শরীর।
কেউ একজন—
মানুষ নামের জন্তু—
পাতলা দড়ি বেঁধে
দুটি হাতে তুলে নেয় বস্তাটা,
যেন আবর্জনার থলি।
মানুষ বলে—
“আমার সন্তানের নিরাপত্তা।”
এ এক অদৃশ্য, শক্ত, নিষ্ঠুর অজুহাত।
এই অজুহাতেই
জন্ম নেওয়া আটটা প্রাণ
অপরাধী হয়ে যায়
যেন বেঁচে থাকাটাই তাদের ভুল।
পুকুর—
নিঃশব্দ, কুয়াশা-ঢাকা,
আজ সাক্ষী হলো
মানুষের সবচেয়ে ভয়ংকর মুখোশের।
বস্তাটা ছুঁড়ে ফেলা হয়।
একটা থাপ!
জলে ডোবার শব্দ—
তারপর
কান্না?
না,
চিৎকারও না,
শুধু জলের ভেতরে
আটটা ক্ষুদ্র প্রাণ
শেষ চেষ্টা করছে বাঁচতে।
আটটা ক্ষুদ্র পা
জলের তল থেকে উঠে আসে না,
আটটা ধড়ফড়ানি
এক সেকেন্ডে মিলিয়ে যায়
একটা নৃশংস মানুষের
নির্বিকার হাতে।
আর দূরে দাঁড়িয়ে—
একটা মা কুকুর
ছিন্ন-বুকে কাঁদতে থাকে।
তার চোখে আর চোখ নেই—
শুধু রক্তভেজা শোক।
সে বোঝে না—
মানুষের সন্তানের নিরাপত্তা মানে
তার নিজের সন্তানদের মৃত্যু কেন?
তার বাচ্চাগুলো
কার কী ক্ষতি করেছিল?
চারদিকে তখন নিস্তব্ধতা—
কেউ দেখে না, কেউ টেরও পায় না।
নরম সকালের আলোয় লুকিয়ে থাকে
একটা নৃশংস মুহূর্তের দাগ।
পুকুরপাড়ের বাতাসও
সেদিন যেন ঘুমিয়ে ছিল—
কেউ জানতেও পারল না
আটটা ছোট প্রাণ
জলের তলে নিভে গেল
একটা মানুষের নিঃশব্দ নিষ্ঠুরতায়।
সে ছুটে যায় পুকুরের ধার ধরে,
থাবা পাততে থাকে জলে—
“একটা… একটা বাচ্চা হলেও
ফিরে দাও…
দয়া করে…”
এই আর্তনাদেও
মানুষের কান টলে না,
চিত্ত দোলে না,
নিষ্ঠুরতা নড়ে না।
জল আবার শান্ত—
যেন কিছুই হয়নি।
কিন্তু মা কুকুরটা আজও শুয়ে আছে
ওই মাটির পাশে,
যেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে
তার পুরো পৃথিবী।
সে আর ডাকেও না এখন—
ডাকে না, কারণ কান্নাও শুকিয়ে গেছে।
তার বুকের কাছে পড়ে থাকা
খালি কোলে
আজও যেন উষ্ণতার স্মৃতি থাকে।
সে শুধু তাকিয়ে থাকে—
জল, মাটি, আকাশ—
সবকিছুর দিকে,
যেন জিজ্ঞেস করছে নিঃশব্দে—
“মানুষের সন্তানের নিরাপত্তা মানে
আমার বাচ্চাদের মৃত্যু—
এটাই কি ন্যায়?”
হাওয়া থামে,
গাছ থামে,
সব থেমে থাকে—
শুধু এক মায়ের নিঃশ্বাস
ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে,
কিন্তু দুনিয়াতে
তার কান্নার কোনো প্রতিধ্বনি হয়নি।
কারণ এখানে—
প্রাণ জন্মে,
কিন্তু মায়া জন্মায় না।

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
বস্তার ভেতর আটটা দমবন্ধ নিঃশ্বাস—
অন্ধকারে গুটিসুটি মেরে থাকা
ছোট্ট, উষ্ণ, নিরীহ শরীর।
কেউ একজন—
মানুষ নামের জন্তু—
পাতলা দড়ি বেঁধে
দুটি হাতে তুলে নেয় বস্তাটা,
যেন আবর্জনার থলি।
মানুষ বলে—
“আমার সন্তানের নিরাপত্তা।”
এ এক অদৃশ্য, শক্ত, নিষ্ঠুর অজুহাত।
এই অজুহাতেই
জন্ম নেওয়া আটটা প্রাণ
অপরাধী হয়ে যায়
যেন বেঁচে থাকাটাই তাদের ভুল।
পুকুর—
নিঃশব্দ, কুয়াশা-ঢাকা,
আজ সাক্ষী হলো
মানুষের সবচেয়ে ভয়ংকর মুখোশের।
বস্তাটা ছুঁড়ে ফেলা হয়।
একটা থাপ!
জলে ডোবার শব্দ—
তারপর
কান্না?
না,
চিৎকারও না,
শুধু জলের ভেতরে
আটটা ক্ষুদ্র প্রাণ
শেষ চেষ্টা করছে বাঁচতে।
আটটা ক্ষুদ্র পা
জলের তল থেকে উঠে আসে না,
আটটা ধড়ফড়ানি
এক সেকেন্ডে মিলিয়ে যায়
একটা নৃশংস মানুষের
নির্বিকার হাতে।
আর দূরে দাঁড়িয়ে—
একটা মা কুকুর
ছিন্ন-বুকে কাঁদতে থাকে।
তার চোখে আর চোখ নেই—
শুধু রক্তভেজা শোক।
সে বোঝে না—
মানুষের সন্তানের নিরাপত্তা মানে
তার নিজের সন্তানদের মৃত্যু কেন?
তার বাচ্চাগুলো
কার কী ক্ষতি করেছিল?
চারদিকে তখন নিস্তব্ধতা—
কেউ দেখে না, কেউ টেরও পায় না।
নরম সকালের আলোয় লুকিয়ে থাকে
একটা নৃশংস মুহূর্তের দাগ।
পুকুরপাড়ের বাতাসও
সেদিন যেন ঘুমিয়ে ছিল—
কেউ জানতেও পারল না
আটটা ছোট প্রাণ
জলের তলে নিভে গেল
একটা মানুষের নিঃশব্দ নিষ্ঠুরতায়।
সে ছুটে যায় পুকুরের ধার ধরে,
থাবা পাততে থাকে জলে—
“একটা… একটা বাচ্চা হলেও
ফিরে দাও…
দয়া করে…”
এই আর্তনাদেও
মানুষের কান টলে না,
চিত্ত দোলে না,
নিষ্ঠুরতা নড়ে না।
জল আবার শান্ত—
যেন কিছুই হয়নি।
কিন্তু মা কুকুরটা আজও শুয়ে আছে
ওই মাটির পাশে,
যেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে
তার পুরো পৃথিবী।
সে আর ডাকেও না এখন—
ডাকে না, কারণ কান্নাও শুকিয়ে গেছে।
তার বুকের কাছে পড়ে থাকা
খালি কোলে
আজও যেন উষ্ণতার স্মৃতি থাকে।
সে শুধু তাকিয়ে থাকে—
জল, মাটি, আকাশ—
সবকিছুর দিকে,
যেন জিজ্ঞেস করছে নিঃশব্দে—
“মানুষের সন্তানের নিরাপত্তা মানে
আমার বাচ্চাদের মৃত্যু—
এটাই কি ন্যায়?”
হাওয়া থামে,
গাছ থামে,
সব থেমে থাকে—
শুধু এক মায়ের নিঃশ্বাস
ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে,
কিন্তু দুনিয়াতে
তার কান্নার কোনো প্রতিধ্বনি হয়নি।
কারণ এখানে—
প্রাণ জন্মে,
কিন্তু মায়া জন্মায় না।

আপনার মতামত লিখুন