ঢাকা   শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

বালিয়াডাঙ্গীতে মারামারির ঘটনায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু



বালিয়াডাঙ্গীতে মারামারির ঘটনায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারামারিতে আহত মোমিনা বেওয়া (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

শুক্রবার (১৬ই জানুয়ারি) বৃদ্ধা মোমিনা বেওয়া কে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঠাকুরগাঁও নেওয়ার পথে মারা যায় বৃদ্ধা মোমিনা। 


নিহত মোমিনা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বিশ্রামপুর (আগাটলা) গ্রামের মৃত সজির উদ্দিন এর স্ত্রী।

নিহত বৃদ্ধার নাতি খাদেমুল জানা, গতকাল ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে আমরা লোন (ঋন) এর টাকা তুলে বাসায় আসছিলাম। আমি, আমার মা আর বাবা বাড়ির কাছাকাছি আসলে মৃত কলিমউদ্দিনের ছেলে জব্বার, জব্বারের স্ত্রী আঞ্জু, জব্বারের ভাই আনোয়ার, তার স্ত্রী নুরজাহান ও ছেলে নুরসাদ আমাদের পথ আটকিয়ে ঋনের টাকা গুলো ছিনতাই করে নেয়। আমার বাবা কে মারধর করে। আমাদের চিৎকার শুনে আমার দাদী আসলে তাঁকেও কোদালে হাতল দিয়ে প্রচন্ড মারধর করে। ঘটনাস্থলে আমার দাদী প্রসাব ও পায়খানা করে দেয়। তৎক্ষনাৎ আমরা দাদীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আগে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশকে দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। আজকে হাসপাতাল থেকে ঠাকুরগাঁও রেফার্ড করে দেয়। ঠাকুরগাঁও নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় আমার দাদী মারা যায়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, তাঁদের জমি নিয়ে পূর্বের বিরোধ ছিল। জমির ফসল ছাগল খেয়ে ফেলা নিয়ে গতকাল তাঁদের মারামারি হয়। তবে এই মারামারির ঘটনায় এলাকার কয়েকজন এর উস্কানী রয়েছে।

নিহত বৃদ্ধার মেয়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা আমার মা এর ওপর নির্যাতন করে আসছে এবং কিছুদিন আগে হত্যার উদ্দেশ্যে রাত ১০ টার সময় বাড়ির পাশের একটি পুকুর (দিঘীতে) ফেলে দেয় মৃত কলিমউদ্দিনের ছেলে জব্বার, জব্বারের স্ত্রী আঞ্জু, জব্বারের ভাই আনোয়ার, তার স্ত্রী নুরজাহান ও ছেলে নুরসাদ। পরে আমার মা এর চিৎকার চেঁচামেচিতে আমার ভাই ইউনুস ও ভাতিজা খাদেমুল মাকে উদ্ধার করে। 

এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন স্থানীয়রা ও বৃদ্ধার স্বজনরা।


বালিয়াডাঙ্গী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


বালিয়াডাঙ্গীতে মারামারির ঘটনায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারামারিতে আহত মোমিনা বেওয়া (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।


শুক্রবার (১৬ই জানুয়ারি) বৃদ্ধা মোমিনা বেওয়া কে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঠাকুরগাঁও নেওয়ার পথে মারা যায় বৃদ্ধা মোমিনা। 


নিহত মোমিনা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বিশ্রামপুর (আগাটলা) গ্রামের মৃত সজির উদ্দিন এর স্ত্রী।


নিহত বৃদ্ধার নাতি খাদেমুল জানা, গতকাল ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে আমরা লোন (ঋন) এর টাকা তুলে বাসায় আসছিলাম। আমি, আমার মা আর বাবা বাড়ির কাছাকাছি আসলে মৃত কলিমউদ্দিনের ছেলে জব্বার, জব্বারের স্ত্রী আঞ্জু, জব্বারের ভাই আনোয়ার, তার স্ত্রী নুরজাহান ও ছেলে নুরসাদ আমাদের পথ আটকিয়ে ঋনের টাকা গুলো ছিনতাই করে নেয়। আমার বাবা কে মারধর করে। আমাদের চিৎকার শুনে আমার দাদী আসলে তাঁকেও কোদালে হাতল দিয়ে প্রচন্ড মারধর করে। ঘটনাস্থলে আমার দাদী প্রসাব ও পায়খানা করে দেয়। তৎক্ষনাৎ আমরা দাদীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আগে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশকে দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। আজকে হাসপাতাল থেকে ঠাকুরগাঁও রেফার্ড করে দেয়। ঠাকুরগাঁও নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় আমার দাদী মারা যায়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, তাঁদের জমি নিয়ে পূর্বের বিরোধ ছিল। জমির ফসল ছাগল খেয়ে ফেলা নিয়ে গতকাল তাঁদের মারামারি হয়। তবে এই মারামারির ঘটনায় এলাকার কয়েকজন এর উস্কানী রয়েছে।


নিহত বৃদ্ধার মেয়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা আমার মা এর ওপর নির্যাতন করে আসছে এবং কিছুদিন আগে হত্যার উদ্দেশ্যে রাত ১০ টার সময় বাড়ির পাশের একটি পুকুর (দিঘীতে) ফেলে দেয় মৃত কলিমউদ্দিনের ছেলে জব্বার, জব্বারের স্ত্রী আঞ্জু, জব্বারের ভাই আনোয়ার, তার স্ত্রী নুরজাহান ও ছেলে নুরসাদ। পরে আমার মা এর চিৎকার চেঁচামেচিতে আমার ভাই ইউনুস ও ভাতিজা খাদেমুল মাকে উদ্ধার করে। 


এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন স্থানীয়রা ও বৃদ্ধার স্বজনরা।


বালিয়াডাঙ্গী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত