রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারির সেই অমর প্রভাতে যে প্রভাতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন বীর সন্তানেরা। সেই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এক অনন্য আয়োজন করেছে লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।
শনিবার সকালে রাজধানীর মুগদায় অসহায় ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই শিশুরাই ভোরের আলো ফোটার আগেই নিজেদের হাতে তৈরি ছোট্ট শহীদ মিনারের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। কাঁপা কাঁপা হাতে ফুল অর্পণ করে তারা জানায় বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তারা আজও আমাদের হৃদয়ে অম্লান।
এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শিশুদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে গভীর আবেগ ও গর্ব। যেন তাদের ছোট্ট হৃদয়ে স্পন্দিত হচ্ছিল ১৯৫২ সালের সেই অগ্নিঝরা দিনের ইতিহাস।
মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা। শিশুদের আঁকা ছবিতে ভেসে ওঠে শহীদ মিনার, রক্তাক্ত একুশ, আর লাল-সবুজের স্বপ্ন। আলোচনা সভায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিশুদের বোঝানো হয় ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার প্রতীক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিডোর সমাজকর্মী সাহেলা খান রিমু, মাহফুজুর রহমান এবং মাসুদ মাহাতাব। তারা বলেন, “এই শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। ভাষার ইতিহাস ও আত্মত্যাগের শিক্ষা তাদের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে পারলে তারা মানবিক, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
লিডো বিশ্বাস করে শুধু ফুলে নয়, মূল্যবোধে ও মানবিকতায় শহীদদের স্মরণই হতে পারে প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন প্রমাণ করে, ভাষার প্রতি ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির নয়; এটি সবার, এটি সমগ্র জাতির।
ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ চির অম্লান হোক। বাংলা ভাষা বেঁচে থাকুক প্রতিটি হৃদয়ে।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারির সেই অমর প্রভাতে যে প্রভাতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন বীর সন্তানেরা। সেই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এক অনন্য আয়োজন করেছে লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।
শনিবার সকালে রাজধানীর মুগদায় অসহায় ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই শিশুরাই ভোরের আলো ফোটার আগেই নিজেদের হাতে তৈরি ছোট্ট শহীদ মিনারের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। কাঁপা কাঁপা হাতে ফুল অর্পণ করে তারা জানায় বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তারা আজও আমাদের হৃদয়ে অম্লান।
এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শিশুদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে গভীর আবেগ ও গর্ব। যেন তাদের ছোট্ট হৃদয়ে স্পন্দিত হচ্ছিল ১৯৫২ সালের সেই অগ্নিঝরা দিনের ইতিহাস।
মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা। শিশুদের আঁকা ছবিতে ভেসে ওঠে শহীদ মিনার, রক্তাক্ত একুশ, আর লাল-সবুজের স্বপ্ন। আলোচনা সভায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিশুদের বোঝানো হয় ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার প্রতীক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিডোর সমাজকর্মী সাহেলা খান রিমু, মাহফুজুর রহমান এবং মাসুদ মাহাতাব। তারা বলেন, “এই শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। ভাষার ইতিহাস ও আত্মত্যাগের শিক্ষা তাদের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে পারলে তারা মানবিক, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
লিডো বিশ্বাস করে শুধু ফুলে নয়, মূল্যবোধে ও মানবিকতায় শহীদদের স্মরণই হতে পারে প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন প্রমাণ করে, ভাষার প্রতি ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির নয়; এটি সবার, এটি সমগ্র জাতির।
ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ চির অম্লান হোক। বাংলা ভাষা বেঁচে থাকুক প্রতিটি হৃদয়ে।

আপনার মতামত লিখুন