ঢাকা   বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
মুক্তির লড়াই

চান্দিনায় বকেয়া বেতন এর দাবীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ



চান্দিনায় বকেয়া বেতন এর দাবীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতন এর দাবীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ নামের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌঁনে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাসে মহাসড়ক থেকে সরে যায় শ্রমিকরা। ততক্ষণে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।


চান্দিনার বেলাশহরস্থ ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ এর একাধিক শ্রমিক জানান- জানুয়ারীর বেতন এখন পর্যন্ত পায়নি তারা। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি দুই মাসের বকেয়া বেতন এমনকি ঈদ বোনাস কিছুই দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।

জেসমিন আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক জানান- পেটের দায়ে গার্মেন্টসে কাজ করি। দুই মাস বেতন দেয় না। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না। রোজায় ঠিকভাবে বাজারও করতে পারিনি। প্রতি বছরই আমরা বেতনের জন্য রাস্তায় নামতে হয়।


খবর পেয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (যুগ্ম সচিব) আরিফ আহমেদ খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল হক, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মো. ফয়সার তানভীর, চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে আসেন এবং শ্রমিকদের কথা শুনে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত বেতন ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেন।

সকাল পৌঁনে ১০টায় শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যানবাহনের চাকা ঘুরতে থাকে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে দুপুর ১২টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল হক জানান- আমরা গার্মেন্টসটির কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। ১২ মার্চ শ্রমিকদের জানুয়ারী মাসের বেতন এবং ১৬ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন পরিশোধ করবে এবং ঈদের ছুটির আগেই বোনাস দিবে। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ যদি তাদের কমিটমেন্ট রক্ষা না করে তাহলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ ব্যাপারে জানতে ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ এর পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন জানান- দেশের জাতীয় নির্বাচন সহ আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতায় আমাদের মতো অনেক গার্মেন্টসের বিল আটকে আছে। আমরা ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকে শ্রমিকদের ডিসেম্বরের বেতন পরিশোধ করে মার্চ মাসের ১০ তারিখে জানুয়ারীর এবং ১৫ তারিখে ফেব্রুয়ারীর বেতন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমাদের কিছু সমস্যায় ১০ তারিখের বেতন ১২ তারিখে দিতে বলি। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তির প্ররোচনায় শ্রমিকদের একটি অংশ মহাসড়কে অবরোধ করে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬


চান্দিনায় বকেয়া বেতন এর দাবীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতন এর দাবীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ নামের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা।


মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌঁনে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাসে মহাসড়ক থেকে সরে যায় শ্রমিকরা। ততক্ষণে মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।


চান্দিনার বেলাশহরস্থ ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ এর একাধিক শ্রমিক জানান- জানুয়ারীর বেতন এখন পর্যন্ত পায়নি তারা। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি দুই মাসের বকেয়া বেতন এমনকি ঈদ বোনাস কিছুই দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।


জেসমিন আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক জানান- পেটের দায়ে গার্মেন্টসে কাজ করি। দুই মাস বেতন দেয় না। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না। রোজায় ঠিকভাবে বাজারও করতে পারিনি। প্রতি বছরই আমরা বেতনের জন্য রাস্তায় নামতে হয়।


খবর পেয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (যুগ্ম সচিব) আরিফ আহমেদ খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল হক, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মো. ফয়সার তানভীর, চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে আসেন এবং শ্রমিকদের কথা শুনে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত বেতন ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেন।


সকাল পৌঁনে ১০টায় শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যানবাহনের চাকা ঘুরতে থাকে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে দুপুর ১২টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল হক জানান- আমরা গার্মেন্টসটির কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। ১২ মার্চ শ্রমিকদের জানুয়ারী মাসের বেতন এবং ১৬ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন পরিশোধ করবে এবং ঈদের ছুটির আগেই বোনাস দিবে। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ যদি তাদের কমিটমেন্ট রক্ষা না করে তাহলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


এ ব্যাপারে জানতে ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ এর পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন জানান- দেশের জাতীয় নির্বাচন সহ আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতায় আমাদের মতো অনেক গার্মেন্টসের বিল আটকে আছে। আমরা ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকে শ্রমিকদের ডিসেম্বরের বেতন পরিশোধ করে মার্চ মাসের ১০ তারিখে জানুয়ারীর এবং ১৫ তারিখে ফেব্রুয়ারীর বেতন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমাদের কিছু সমস্যায় ১০ তারিখের বেতন ১২ তারিখে দিতে বলি। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তির প্ররোচনায় শ্রমিকদের একটি অংশ মহাসড়কে অবরোধ করে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত