কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিলে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইকবাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বিলের আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। এতে হেক্টরের পর হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন রাত নামলেই ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমি কাটা শুরু হয়। খণ্ড খণ্ড করে পুরো বিলের বুক চিরে মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন জমি কেটে গভীর গর্তে পরিণত করা হয়েছ। রাতভর ড্রাম ট্রাকে করে সেই মাটি আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভেকু মেশিনের বিকট শব্দ ও ভারী যানবাহনের চলাচলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিল এলাকার জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর। প্রতিবছর এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে এসব জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অবৈধভাবে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে এলাকাবাসী বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, খণ্ড খণ্ড ভাবে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে শুধু যে নির্দিষ্ট জমিটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, বরং আশপাশের জমিগুলোর উর্বর টপসয়েল সামান্য বৃষ্টির পানিতেই ধুয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলোর উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি জমি রক্ষা করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই অবাধে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ যদি কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিলে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইকবাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বিলের আবাদি জমি থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। এতে হেক্টরের পর হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন রাত নামলেই ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমি কাটা শুরু হয়। খণ্ড খণ্ড করে পুরো বিলের বুক চিরে মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন জমি কেটে গভীর গর্তে পরিণত করা হয়েছ। রাতভর ড্রাম ট্রাকে করে সেই মাটি আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভেকু মেশিনের বিকট শব্দ ও ভারী যানবাহনের চলাচলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিল এলাকার জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর। প্রতিবছর এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে এসব জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অবৈধভাবে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে এলাকাবাসী বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পীরকাশিমপুর পশ্চিম বিলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, খণ্ড খণ্ড ভাবে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে শুধু যে নির্দিষ্ট জমিটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, বরং আশপাশের জমিগুলোর উর্বর টপসয়েল সামান্য বৃষ্টির পানিতেই ধুয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলোর উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি জমি রক্ষা করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই অবাধে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ যদি কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন