ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে স্ত্রী ও ৪০ দিন বয়সী কন্যাসন্তানকে বাসায় রেখে শুক্রবার সকালে ঢাকার হেমায়েতপুরে কারখানার কাজে যোগ দেন আব্দুল হাকিম (২৪)। কয়েক ঘণ্টা বাদেই কারখানার ভেতরে দুর্ঘটনার শিকার হন হাকিমসহ পাঁচ শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বেলা ৩টার দিকে মারা যান হাকিম।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কেরিয়াতি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আব্দুল হাকিম। জীবিকার তাগিদে ঢাকার হেমায়েতপুর তেঁতুলপাড়া লিলি অয়েলস লিমিটেড ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বেঘোরে প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।
শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়িতে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। পরে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।
স্বজনেরা জানায়, তিন বছর আগে বিয়ে করেন শ্রমিক হাকিম। মাত্র ৪০ দিন আগে একটি কন্যাসন্তান কোল আলোকিত করেছে দুজনের। ঈদের তিন দিন আগে ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসেন আব্দুল হাকিম। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী-সন্তানকে রেখে চলে যান ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিতে। শুক্রবার সকালে ফ্যাক্টরিতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শ্রমিকেরা। শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাকিমসহ ৫ জনকে ভর্তি করা হয় এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আব্দুল হাকিমের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ‘মেয়েকে প্রথমবার কোলে নিয়েছিল ওর বাবা। বলেছিল, এরপর আমাদেরও নিয়ে যাবে ঢাকায়। এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, এটা মেনে নিতে পারছি না। কী হবে এখন আমাদের, আমরা কীভাবে বাঁচব?’
নিহত হাকিমের মামা শুভ জানান, পুরোনো মোবিল রিফাইন করে নতুন মোবিল তৈরির সেকশনে সহকারী সুপারভাইজর হিসেবে কাজ করতেন আব্দুল হাকিম। প্রতিবছরের মতো এ বছরও পুরোনো মবিল রাখার আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস পরিষ্কারের কাজ নির্ধারণ করা হয় শুক্রবার। কাজ করতে নেমে একজন শ্রমিক অক্সিজেনের অভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে উদ্ধার করতে হাকিমসহ চার শ্রমিক মই দিয়ে হাউসের নিচে নামেন। এ সময় তাঁরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে পাশের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হলে হাকিম মারা যান। বাকি শ্রমিকেরা সুস্থ আছেন বলে মালিকপক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
লিলি অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ রানা বলেন, ‘পরিবারটিকে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আসলে বুঝে উঠতে পারিনি, ছোট একটা দুর্ঘটনায় জীবন চলে যাবে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, তারপরও পরিবারটির পাশে আমরা থাকব।’

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে স্ত্রী ও ৪০ দিন বয়সী কন্যাসন্তানকে বাসায় রেখে শুক্রবার সকালে ঢাকার হেমায়েতপুরে কারখানার কাজে যোগ দেন আব্দুল হাকিম (২৪)। কয়েক ঘণ্টা বাদেই কারখানার ভেতরে দুর্ঘটনার শিকার হন হাকিমসহ পাঁচ শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বেলা ৩টার দিকে মারা যান হাকিম।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কেরিয়াতি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আব্দুল হাকিম। জীবিকার তাগিদে ঢাকার হেমায়েতপুর তেঁতুলপাড়া লিলি অয়েলস লিমিটেড ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বেঘোরে প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।
শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়িতে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। পরে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।
স্বজনেরা জানায়, তিন বছর আগে বিয়ে করেন শ্রমিক হাকিম। মাত্র ৪০ দিন আগে একটি কন্যাসন্তান কোল আলোকিত করেছে দুজনের। ঈদের তিন দিন আগে ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসেন আব্দুল হাকিম। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী-সন্তানকে রেখে চলে যান ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিতে। শুক্রবার সকালে ফ্যাক্টরিতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শ্রমিকেরা। শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাকিমসহ ৫ জনকে ভর্তি করা হয় এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আব্দুল হাকিমের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ‘মেয়েকে প্রথমবার কোলে নিয়েছিল ওর বাবা। বলেছিল, এরপর আমাদেরও নিয়ে যাবে ঢাকায়। এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, এটা মেনে নিতে পারছি না। কী হবে এখন আমাদের, আমরা কীভাবে বাঁচব?’
নিহত হাকিমের মামা শুভ জানান, পুরোনো মোবিল রিফাইন করে নতুন মোবিল তৈরির সেকশনে সহকারী সুপারভাইজর হিসেবে কাজ করতেন আব্দুল হাকিম। প্রতিবছরের মতো এ বছরও পুরোনো মবিল রাখার আন্ডারগ্রাউন্ড হাউস পরিষ্কারের কাজ নির্ধারণ করা হয় শুক্রবার। কাজ করতে নেমে একজন শ্রমিক অক্সিজেনের অভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে উদ্ধার করতে হাকিমসহ চার শ্রমিক মই দিয়ে হাউসের নিচে নামেন। এ সময় তাঁরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে পাশের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হলে হাকিম মারা যান। বাকি শ্রমিকেরা সুস্থ আছেন বলে মালিকপক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
লিলি অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ রানা বলেন, ‘পরিবারটিকে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আসলে বুঝে উঠতে পারিনি, ছোট একটা দুর্ঘটনায় জীবন চলে যাবে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, তারপরও পরিবারটির পাশে আমরা থাকব।’

আপনার মতামত লিখুন