ঢাকা   বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

শিক্ষককে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ

দেবিদ্বারে ‘হানিট্র্যাপ’ অভিযোগ: পর্নোগ্রাফি মামলায় নারী কারাগারে



দেবিদ্বারে ‘হানিট্র্যাপ’ অভিযোগ: পর্নোগ্রাফি মামলায় নারী কারাগারে

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক স্কুলশিক্ষককে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে লাইলি আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভুক্তভোগী শিক্ষক মোকবল হোসেন মাস্টার বাদী হয়ে লাইলি আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন নারী ও পাঁচ পুরুষকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।


মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাদীর এক আত্মীয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত লাইলি আক্তারের গাড়ি বিক্রিকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ মীমাংসার কথা বলে সোমবার আসরের নামাজের পর দেবিদ্বার পৌরসভার মোল্লাবাড়ি মসজিদের পাশের একটি ভাড়া বাসায় শিক্ষককে ডেকে নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন নারী-পুরুষ শিক্ষককে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও ধারণের মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে আরও ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি পরবর্তীতে আরও এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগও উঠে এসেছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। পরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লাইলি আক্তারকে আটক করা হয় এবং শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত লাইলি আক্তার দাবি করেছেন, ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের জের ধরেই এই ঘটনার সূত্রপাত।


দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িত সকলের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


দেবিদ্বারে ‘হানিট্র্যাপ’ অভিযোগ: পর্নোগ্রাফি মামলায় নারী কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক স্কুলশিক্ষককে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে লাইলি আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভুক্তভোগী শিক্ষক মোকবল হোসেন মাস্টার বাদী হয়ে লাইলি আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন নারী ও পাঁচ পুরুষকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।


মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাদীর এক আত্মীয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত লাইলি আক্তারের গাড়ি বিক্রিকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ মীমাংসার কথা বলে সোমবার আসরের নামাজের পর দেবিদ্বার পৌরসভার মোল্লাবাড়ি মসজিদের পাশের একটি ভাড়া বাসায় শিক্ষককে ডেকে নেওয়া হয়।


অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন নারী-পুরুষ শিক্ষককে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও ধারণের মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে আরও ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি পরবর্তীতে আরও এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগও উঠে এসেছে।


ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। পরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লাইলি আক্তারকে আটক করা হয় এবং শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়।


অভিযুক্ত লাইলি আক্তার দাবি করেছেন, ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের জের ধরেই এই ঘটনার সূত্রপাত।


দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”


এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িত সকলের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত