ঢাকা   শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

তদন্তে গড়িমসিতে মুরাদনগর ক্ষোভ

দূর্গা রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ



দূর্গা রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দুর্গারাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একইসঙ্গে তারা কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কার্যালয়েও সরাসরি উপস্থিত হয়ে অভিযোগ প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীদের।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিধিবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষার বেঞ্চ মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার না করে আত্মসাৎ এবং টিসি ও মূল সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার মতো নানা অনিয়মে জড়িত।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পিয়ন দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো এবং বিদ্যালয় চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য শিক্ষকদের বাসায় যেতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।


শিক্ষকরা জানান, তার স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জন পাস করলেও ৪০ জন অকৃতকার্য হয় এবং মাত্র দুইজন জিপিএ-৫ অর্জন করে। চলতি বছরের প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় ৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক এবং অফিস সহকারী পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পিয়নও নেই। এমন পরিস্থিতিতে একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এভাবে অবহেলায় নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “আমি অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে আমি যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত আছি।”


কুমিল্লা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেখবেন।

তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


দূর্গা রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দুর্গারাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।


জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একইসঙ্গে তারা কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কার্যালয়েও সরাসরি উপস্থিত হয়ে অভিযোগ প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীদের।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিধিবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষার বেঞ্চ মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার না করে আত্মসাৎ এবং টিসি ও মূল সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার মতো নানা অনিয়মে জড়িত।


এছাড়া তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পিয়ন দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো এবং বিদ্যালয় চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য শিক্ষকদের বাসায় যেতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।


শিক্ষকরা জানান, তার স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জন পাস করলেও ৪০ জন অকৃতকার্য হয় এবং মাত্র দুইজন জিপিএ-৫ অর্জন করে। চলতি বছরের প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় ৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।


এদিকে, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক এবং অফিস সহকারী পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পিয়নও নেই। এমন পরিস্থিতিতে একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এভাবে অবহেলায় নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “আমি অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে আমি যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত আছি।”


কুমিল্লা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেখবেন।


তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত