রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আগুনঝরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখা। মব সন্ত্রাসে নিহত আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচার, মাদরাসা পাঠ্যবইয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা পুনঃসংযোজন, দেশের স্বার্থবিরোধী বন্দর ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ৩টায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে এবং হাফেজ মোহাম্মদ শাহজালালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতাকর্মীদের উত্তাল উপস্থিতিতে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
'মব সন্ত্রাস সভ্য রাষ্ট্রে চলতে পারে না'
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার। তিনি বলেন, মব কালচার কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মব সন্ত্রাসীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছে। ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে পরিকল্পিতভাবে ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রকে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ও অবিচল অবস্থান নিতে হবে।
ছয় দফা দাবি
সমাবেশে বক্তারা সুস্পষ্ট ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
প্রথম দাবি: মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আকাইদ ও ফিকহ পাঠ্যপুস্তকে ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা পুনঃসংযোজন করতে হবে। একই সঙ্গে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া মহানবী (সা.)-এর রওজা জিয়ারত ও উসিলা গ্রহণ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবিলম্বে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয় দাবি: মব সন্ত্রাসে নির্মমভাবে নিহত আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয় দাবি: মব সন্ত্রাসের অজুহাতে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারদের অবিলম্বে স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বহাল করতে হবে।
চতুর্থ দাবি: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত দেশের স্বার্থবিরোধী বন্দর চুক্তি ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
পঞ্চম দাবি: আউলিয়া কেরামের পবিত্র মাজার শরিফে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাজার শরিফগুলো সরকারি অর্থায়নে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
ষষ্ঠ দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুস্পষ্ট ও দৃঢ় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নির্যাতিত ইরানের জনগণের প্রতি আনুষ্ঠানিক সংহতি প্রকাশ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের নির্যাতিত জনগণের প্রতি তাঁরা গভীর সংহতি ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মানবতার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
উত্তাল মিছিলে প্রকম্পিত রাজপথ
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল ও উত্তাল মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দৈনিক বাংলা মোড়ে এসে শেষ হয়। শত শত নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি শাহেদুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলম জালালী, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মাসউদ হোসাইন, আলম ফরাজী, হাফেজ জাবের হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার আলম এবং কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন জনিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আগুনঝরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখা। মব সন্ত্রাসে নিহত আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচার, মাদরাসা পাঠ্যবইয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা পুনঃসংযোজন, দেশের স্বার্থবিরোধী বন্দর ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ৩টায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল হাকিমের সভাপতিত্বে এবং হাফেজ মোহাম্মদ শাহজালালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতাকর্মীদের উত্তাল উপস্থিতিতে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
'মব সন্ত্রাস সভ্য রাষ্ট্রে চলতে পারে না'
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার। তিনি বলেন, মব কালচার কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মব সন্ত্রাসীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছে। ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে পরিকল্পিতভাবে ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রকে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ও অবিচল অবস্থান নিতে হবে।
ছয় দফা দাবি
সমাবেশে বক্তারা সুস্পষ্ট ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
প্রথম দাবি: মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আকাইদ ও ফিকহ পাঠ্যপুস্তকে ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা পুনঃসংযোজন করতে হবে। একই সঙ্গে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া মহানবী (সা.)-এর রওজা জিয়ারত ও উসিলা গ্রহণ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবিলম্বে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয় দাবি: মব সন্ত্রাসে নির্মমভাবে নিহত আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয় দাবি: মব সন্ত্রাসের অজুহাতে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারদের অবিলম্বে স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বহাল করতে হবে।
চতুর্থ দাবি: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত দেশের স্বার্থবিরোধী বন্দর চুক্তি ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
পঞ্চম দাবি: আউলিয়া কেরামের পবিত্র মাজার শরিফে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাজার শরিফগুলো সরকারি অর্থায়নে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
ষষ্ঠ দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুস্পষ্ট ও দৃঢ় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নির্যাতিত ইরানের জনগণের প্রতি আনুষ্ঠানিক সংহতি প্রকাশ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের নির্যাতিত জনগণের প্রতি তাঁরা গভীর সংহতি ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মানবতার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
উত্তাল মিছিলে প্রকম্পিত রাজপথ
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল ও উত্তাল মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দৈনিক বাংলা মোড়ে এসে শেষ হয়। শত শত নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি শাহেদুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলম জালালী, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মাসউদ হোসাইন, আলম ফরাজী, হাফেজ জাবের হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার আলম এবং কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন জনিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন