মুক্তির লড়াই

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

সার্ভার জটে ‘অদৃশ্য’ শফিকপুর মৌজা, দীর্ঘদিন ধরে খাজনা-খারিজ বন্ধ

সার্ভার জটে ‘অদৃশ্য’ শফিকপুর মৌজা, দীর্ঘদিন ধরে খাজনা-খারিজ বন্ধ

ডিজিটাল ভূমি সেবার যুগে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শফিকপুর মৌজায় দীর্ঘ দিনের  ধরে এক অদ্ভুত অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে অনলাইন সার্ভারে মৌজাটি ‘অদৃশ্য’ হয়ে থাকায় জমি খারিজ (নামজারি) ও খাজনা প্রদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ  মানুষ। একদিকে যেমন সাধারণ জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব।

 ভুল জেএল নম্বরের খেসারত দিচ্ছে এলাকাবাসী

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি ডাটাবেজে শফিকপুর মৌজার প্রকৃত জেএল (জুডিশিয়াল লিস্ট) নম্বর ১০৪। কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেম তৈরির সময় ভুলবশত এটি ১০৬ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 


পরবর্তীতে পারইল-বড়গাছা ইউনিয়ন  ভূমি অফিস বিষয়টি শনাক্ত করে উপজেলা ভূমি অফিসকে অবহিত করে। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন সিস্টেমের প্রধান কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হলে, কর্তৃপক্ষ তথ্য সংশোধনের উদ্দেশ্যে শফিকপুর মৌজাটির অনলাইন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত বা 'ব্লক' করে দেয়। তবে সেই 'সাময়িক' স্থগিতাদেশ মাসের পর মাস পেরিয়ে  গেলেও  আজও তা সচল হয়নি।


বর্তমানে জমি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি করার কোনো সুযোগ নেই মৌজাবাসীর। স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল প্রামানিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন জমি খারিজ করতে না পারায় আমরা বড় বিপদে পড়েছি। খাজনা দিতে পারছি না, জমি কেনাবেচাও বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রির কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই।

একই সমস্যার কথা জানান আরেক বাসিন্দা ইসরাফিল ইসলাম তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও সরকারি সার্ভার জটিলতায় আবেদন করতে পারছেন না তিনি। 

ভাটকৈ বাজারের  ‘মা কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী   মিঠু প্রামানিক জানান, প্রতিদিন শফিকপুর মৌজার অনেক মানুষ জমি খারিজের আবেদনের জন্য আসেন, কিন্তু সার্ভারে মৌজাটি না থাকায় তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।

অপরদিকে বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনলাইন নির্ভর। শফিকপুর মৌজাটি সিস্টেমে খুঁজে না পাওয়ায় নাগরিকরা তাদের নিয়মিত কর পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা পড়ছে না, অন্যদিকে নাগরিকদের ওপরও বকেয়া খাজনার বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন জানান - আমরা বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য লিখিত আবেদনও পাঠানো হয়েছে। যেহেতু সার্ভারের ডাটাবেজ কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকছে না। তবে আমরা আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে শফিকপুর- ১০৪ নম্বর মৌজাটি পুনরায় সচল হবে।

ডিজিটাল ভূমি সেবার সুফল যেখানে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর কথা, সেখানে সামান্য একটি টাইপিং ভুলের কারণে একটি পুরো মৌজার কয়েক হাজার মানুষের নাগরিক অধিকার খর্ব হওয়া অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এই অচলাবস্থা নিরসনে এলাকাবাসী সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


সার্ভার জটে ‘অদৃশ্য’ শফিকপুর মৌজা, দীর্ঘদিন ধরে খাজনা-খারিজ বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

ডিজিটাল ভূমি সেবার যুগে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শফিকপুর মৌজায় দীর্ঘ দিনের  ধরে এক অদ্ভুত অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে অনলাইন সার্ভারে মৌজাটি ‘অদৃশ্য’ হয়ে থাকায় জমি খারিজ (নামজারি) ও খাজনা প্রদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ  মানুষ। একদিকে যেমন সাধারণ জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব।


 ভুল জেএল নম্বরের খেসারত দিচ্ছে এলাকাবাসী

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি ডাটাবেজে শফিকপুর মৌজার প্রকৃত জেএল (জুডিশিয়াল লিস্ট) নম্বর ১০৪। কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেম তৈরির সময় ভুলবশত এটি ১০৬ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 


পরবর্তীতে পারইল-বড়গাছা ইউনিয়ন  ভূমি অফিস বিষয়টি শনাক্ত করে উপজেলা ভূমি অফিসকে অবহিত করে। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন সিস্টেমের প্রধান কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হলে, কর্তৃপক্ষ তথ্য সংশোধনের উদ্দেশ্যে শফিকপুর মৌজাটির অনলাইন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত বা 'ব্লক' করে দেয়। তবে সেই 'সাময়িক' স্থগিতাদেশ মাসের পর মাস পেরিয়ে  গেলেও  আজও তা সচল হয়নি।



বর্তমানে জমি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি করার কোনো সুযোগ নেই মৌজাবাসীর। স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল প্রামানিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন জমি খারিজ করতে না পারায় আমরা বড় বিপদে পড়েছি। খাজনা দিতে পারছি না, জমি কেনাবেচাও বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রির কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই।


একই সমস্যার কথা জানান আরেক বাসিন্দা ইসরাফিল ইসলাম তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও সরকারি সার্ভার জটিলতায় আবেদন করতে পারছেন না তিনি। 


ভাটকৈ বাজারের  ‘মা কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী   মিঠু প্রামানিক জানান, প্রতিদিন শফিকপুর মৌজার অনেক মানুষ জমি খারিজের আবেদনের জন্য আসেন, কিন্তু সার্ভারে মৌজাটি না থাকায় তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।


অপরদিকে বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনলাইন নির্ভর। শফিকপুর মৌজাটি সিস্টেমে খুঁজে না পাওয়ায় নাগরিকরা তাদের নিয়মিত কর পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা পড়ছে না, অন্যদিকে নাগরিকদের ওপরও বকেয়া খাজনার বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে। 



স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।


এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন জানান - আমরা বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য লিখিত আবেদনও পাঠানো হয়েছে। যেহেতু সার্ভারের ডাটাবেজ কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকছে না। তবে আমরা আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে শফিকপুর- ১০৪ নম্বর মৌজাটি পুনরায় সচল হবে।


ডিজিটাল ভূমি সেবার সুফল যেখানে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর কথা, সেখানে সামান্য একটি টাইপিং ভুলের কারণে একটি পুরো মৌজার কয়েক হাজার মানুষের নাগরিক অধিকার খর্ব হওয়া অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 


এই অচলাবস্থা নিরসনে এলাকাবাসী সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই