নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু রামিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ১২ দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে ক্ষোভ, হতাশা ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে।
নিহত শিশুর ছবি বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার খালা বিলকিস বেগম। বারবার চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন,“আমার রামিম আর ‘খালা’ বলে ডাকবে না… এই কথাটা আমি কিছুতেই মানতে পারি না। ও আমার কাছে আসতো, হাসতো, গল্প করতো। এখন শুধু এই ছবিটাই আছে… এই ছবির দিকেই তাকিয়ে থাকি। যারা ওর সাথে এমন করলো, তাদের কি একটুও মায়া লাগলো না? ১২ দিন হয়ে গেল—কেউ ধরা পড়লো না! আমরা কি বিচার পাব না?”
গত বুধবার গজারিয়া বাজারের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত রামিম উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চড়কারারদী গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট্ট রামিম প্রতিদিনের মতো সেদিনও দাদা আমজাদ হোসেনের দোকানে সময় কাটাতে বাজারে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খেলাচ্ছলে পাশের একটি গ্যারেজে গিয়ে রিকশাচালক সবুজ মিয়ার সঙ্গে মিশে পড়ে রামিম। একপর্যায়ে অভিযুক্ত সবুজ মিয়া টিউবে বাতাস দেওয়ার মেশিন দিয়ে শিশুটির পায়ুপথে জোরে বাতাস প্রবেশ করায়। এতে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেদিন বিকেলেই রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাকিব আসকারী বলেন, “উচ্চচাপে বাতাস প্রবেশের ফলে অন্ত্রের কোনো অংশ ছিদ্র হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এতে শ্বাসকষ্টসহ জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।”
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মাজিদুল ইসলাম চারজনকে আসামি করে পলাশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম হতাশায় ভুগছে পরিবারটি।
নিহতের বাবা মাজিদুল ইসলাম ভাঙা কণ্ঠে বলেন,
“আমার ছেলেটা তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু যারা আমার বুক খালি করে দিল, তাদের কি কোনো বিচার হবে না? ১২ দিন হয়ে গেল—একজন আসামিও ধরা পড়লো না। আমি শুধু চাই, এমন বিচার হোক—যাতে আর কোনো বাবা এভাবে কাঁদতে না হয়।সন্তান হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিচার পাওয়ার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, থানায় মামলা করেছি —তবুও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে পলাশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুতই অগ্রগতি আসবে বলে আশা করছি।”
এদিকে, এমন নৃশংস ঘটনার পরও দীর্ঘ সময় আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু রামিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ১২ দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে ক্ষোভ, হতাশা ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে।
নিহত শিশুর ছবি বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার খালা বিলকিস বেগম। বারবার চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন,“আমার রামিম আর ‘খালা’ বলে ডাকবে না… এই কথাটা আমি কিছুতেই মানতে পারি না। ও আমার কাছে আসতো, হাসতো, গল্প করতো। এখন শুধু এই ছবিটাই আছে… এই ছবির দিকেই তাকিয়ে থাকি। যারা ওর সাথে এমন করলো, তাদের কি একটুও মায়া লাগলো না? ১২ দিন হয়ে গেল—কেউ ধরা পড়লো না! আমরা কি বিচার পাব না?”
গত বুধবার গজারিয়া বাজারের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত রামিম উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চড়কারারদী গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট্ট রামিম প্রতিদিনের মতো সেদিনও দাদা আমজাদ হোসেনের দোকানে সময় কাটাতে বাজারে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খেলাচ্ছলে পাশের একটি গ্যারেজে গিয়ে রিকশাচালক সবুজ মিয়ার সঙ্গে মিশে পড়ে রামিম। একপর্যায়ে অভিযুক্ত সবুজ মিয়া টিউবে বাতাস দেওয়ার মেশিন দিয়ে শিশুটির পায়ুপথে জোরে বাতাস প্রবেশ করায়। এতে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেদিন বিকেলেই রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাকিব আসকারী বলেন, “উচ্চচাপে বাতাস প্রবেশের ফলে অন্ত্রের কোনো অংশ ছিদ্র হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এতে শ্বাসকষ্টসহ জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।”
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মাজিদুল ইসলাম চারজনকে আসামি করে পলাশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম হতাশায় ভুগছে পরিবারটি।
নিহতের বাবা মাজিদুল ইসলাম ভাঙা কণ্ঠে বলেন,
“আমার ছেলেটা তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু যারা আমার বুক খালি করে দিল, তাদের কি কোনো বিচার হবে না? ১২ দিন হয়ে গেল—একজন আসামিও ধরা পড়লো না। আমি শুধু চাই, এমন বিচার হোক—যাতে আর কোনো বাবা এভাবে কাঁদতে না হয়।সন্তান হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিচার পাওয়ার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, থানায় মামলা করেছি —তবুও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে পলাশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুতই অগ্রগতি আসবে বলে আশা করছি।”
এদিকে, এমন নৃশংস ঘটনার পরও দীর্ঘ সময় আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন