মুক্তির লড়াই

মতামত

রামিসা হত্যা: একটি পঙ্গু বিচারব্যবস্থা ও আমাদের মরণাপন্ন বিবেকের আর্তনাদ

রামিসা হত্যা: একটি পঙ্গু বিচারব্যবস্থা ও আমাদের মরণাপন্ন বিবেকের আর্তনাদ

​রামিসা হত্যার বিচার চেয়ে আজ রাজপথ প্রকম্পিত। কিন্তু এই গগনবিদারী চিৎকারের আড়ালে যে সত্যটি আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি তা হলো—এই নির্মমতার দায় কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এই দায় আমাদের পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থার, এই দায় রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তব্ধ হয়ে যাওয়া যন্ত্রের।

​১. দায় আমাদের সবার: সামাজিক প্রতিরোধের মৃত্যু

​আমরা অপরাধীকে ঘৃণা করতে ভুলে গেছি, আমরা আপস করতে শিখেছি। যখন একটি সমাজ অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ইস্পাতকঠিন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তখন রামিসাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি দিয়ে এই দায় এড়ানো সম্ভব নয়—এই ব্যর্থতা আমাদের সম্মিলিত।

​২. বিচারহীনতার সংস্কৃতি: রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা

​একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার পাওয়া কোনো করুণা নয়, বরং রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে:


​আদালতের বারান্দায় হাহাকার: ন্যায়বিচারের আশায় বিচারপ্রার্থীর বছরের পর বছর আদালতের চৌকাঠে পড়ে থাকা কেবল দুঃখজনক নয়, এটি বিচার ব্যবস্থার দেউলিয়াত্ব।

​প্রতিষ্ঠানিক অসারতা: আইন-আদালত আর রাষ্ট্রযন্ত্র আজ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। যখন অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা বিষে পরিণত হয়।

​সুশীল সমাজ ও ক্ষমতার দম্ভ: গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানো বুদ্ধিজীবী আর ক্ষমতার মদমত্ত শাসকেরা কখনোই সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হতে পারেনি। তাদের ব্যর্থতা আজ বিচারহীনতাকে এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

​৩. এবার দাবি হোক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের

​আমরা শুধু রামিসা হত্যার বিচার চাই না, আমরা বিচারপ্রক্রিয়ার একশ আশি ডিগ্রি পরিবর্তন চাই।

​আমূল সংস্কার: বিচার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে দীর্ঘসূত্রতা নামক বিষবৃক্ষটি উপড়ে ফেলা যায়।

​দ্রুততম ট্রাইব্যুনাল: বিশেষায়িত অপরাধের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের জন্য দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।


​রাষ্ট্রের মালিকানা: মনে রাখতে হবে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। যে রাষ্ট্র তার মালিকদের সুরক্ষা দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের "গণতান্ত্রিক" তকমা ধারণ করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

​শেষ কথা:

যদি এই মুহূর্তেই আমরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারি, তবে আজ যে কান্না রামিসার ঘরে, কাল তা আপনার কিংবা আমার ঘরে পৌঁছাবে। ন্যায়বিচারহীন স্বাধীনতা মূলত এক বিশাল প্রহসন।

​জেগে উঠুন! রামিসার রক্ত যেন বিচারহীনতার অতল গহ্বরে হারিয়ে না যায়। আমরা বিচার চাই, আমরা ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই!

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


রামিসা হত্যা: একটি পঙ্গু বিচারব্যবস্থা ও আমাদের মরণাপন্ন বিবেকের আর্তনাদ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

​রামিসা হত্যার বিচার চেয়ে আজ রাজপথ প্রকম্পিত। কিন্তু এই গগনবিদারী চিৎকারের আড়ালে যে সত্যটি আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি তা হলো—এই নির্মমতার দায় কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এই দায় আমাদের পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থার, এই দায় রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তব্ধ হয়ে যাওয়া যন্ত্রের।


​১. দায় আমাদের সবার: সামাজিক প্রতিরোধের মৃত্যু


​আমরা অপরাধীকে ঘৃণা করতে ভুলে গেছি, আমরা আপস করতে শিখেছি। যখন একটি সমাজ অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ইস্পাতকঠিন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তখন রামিসাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি দিয়ে এই দায় এড়ানো সম্ভব নয়—এই ব্যর্থতা আমাদের সম্মিলিত।


​২. বিচারহীনতার সংস্কৃতি: রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা


​একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার পাওয়া কোনো করুণা নয়, বরং রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে:


​আদালতের বারান্দায় হাহাকার: ন্যায়বিচারের আশায় বিচারপ্রার্থীর বছরের পর বছর আদালতের চৌকাঠে পড়ে থাকা কেবল দুঃখজনক নয়, এটি বিচার ব্যবস্থার দেউলিয়াত্ব।


​প্রতিষ্ঠানিক অসারতা: আইন-আদালত আর রাষ্ট্রযন্ত্র আজ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। যখন অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা বিষে পরিণত হয়।


​সুশীল সমাজ ও ক্ষমতার দম্ভ: গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানো বুদ্ধিজীবী আর ক্ষমতার মদমত্ত শাসকেরা কখনোই সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হতে পারেনি। তাদের ব্যর্থতা আজ বিচারহীনতাকে এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।


​৩. এবার দাবি হোক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের


​আমরা শুধু রামিসা হত্যার বিচার চাই না, আমরা বিচারপ্রক্রিয়ার একশ আশি ডিগ্রি পরিবর্তন চাই।


​আমূল সংস্কার: বিচার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে দীর্ঘসূত্রতা নামক বিষবৃক্ষটি উপড়ে ফেলা যায়।


​দ্রুততম ট্রাইব্যুনাল: বিশেষায়িত অপরাধের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের জন্য দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।


​রাষ্ট্রের মালিকানা: মনে রাখতে হবে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। যে রাষ্ট্র তার মালিকদের সুরক্ষা দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের "গণতান্ত্রিক" তকমা ধারণ করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।


​শেষ কথা:

যদি এই মুহূর্তেই আমরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারি, তবে আজ যে কান্না রামিসার ঘরে, কাল তা আপনার কিংবা আমার ঘরে পৌঁছাবে। ন্যায়বিচারহীন স্বাধীনতা মূলত এক বিশাল প্রহসন।


​জেগে উঠুন! রামিসার রক্ত যেন বিচারহীনতার অতল গহ্বরে হারিয়ে না যায়। আমরা বিচার চাই, আমরা ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই!


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই