মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণী হলেও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত বরুড়া পৌরবাসি

কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণী হলেও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত বরুড়া পৌরবাসি

কুমিল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম উপজেলা বরুড়া। এই উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বরুড়া পৌরসভা দীর্ঘ ৩ দশক পার করলেও এখনো আধুনিক নগরায়নের ছোঁয়া পায়নি। ২০২২ সালের শুরুতে পৌরসভাটিকে অত্যন্ত ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘ক’ বা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা হলেও গত চার বছরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বর্ধিত হারে কর (ট্যাক্স) ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেও নাগরিকরা ভুগছেন চরম বৈষম্য আর অবহেলায়। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং তীব্র যানজট এখন এই পৌরসভার নিত্যদিনের চিত্র। ভাঙাচোরা রাস্তা ও যানজট এখন নরকযন্ত্রণা। পৌরসভার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অধিকাংশ রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়।


এর সাথে যোগ হয়েছে তীব্র যানজট। বরুড়া বাজারে কোনো বাইপাস সড়ক না থাকায় চান্দিনা ও ঝলম রোড থেকে আসা শত শত যানবাহন প্রতিদিন বাজারের ওপর দিয়ে চলাচল করে। ফুটপাত দখল, অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। 


স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, একটি কার্যকর ‘বাইপাস রাস্তা’র পরিকল্পনা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কিন্তু বরুড়া পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন তো দূরের কথা, বিদ্যমান ড্রেনগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও বাসাবাড়িতে নোংরা পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ময়লা পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ না থাকায় সাধারণ মানুষকে নোংরা পানি মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য অপসারণাগার নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের গৃহস্থালি বর্জ্য এবং বাজারের ময়লা-আবর্জনা সড়কের পাশে কিংবা খোলা জায়গায় ফেলে রাখছেন। এর ফলে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রথম শ্রেণীর কর দিয়েও এমন নোংরা পরিবেশে বসবাস করাকে নাগরিকরা তাদের অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন।


পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, "পৌরসভা প্রথম শ্রেণী হওয়ার পর আমাদের হোল্ডিং ট্যাক্স ও বিভিন্ন সনদের ফি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আমরা নিয়মিত কর দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি গ্রামের চেয়েও খারাপ। না আছে ভালো রাস্তা, না আছে রাতে পর্যাপ্ত ল্যাম্প পোস্টের আলো। এটি প্রথম শ্রেণীর আড়ালে তৃতীয় শ্রেণীর চেয়েও নিম্নমানের সেবা।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা পৌরসভার এই বেহাল দশা ও নাগরিক সেবার চরম বিপর্যয় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। বাজেট স্বল্পতা বা নানা অজুহাতে বছরের পর বছর মৌলিক এই সমস্যাগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

একটি পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করার মূল উদ্দেশ্যই হলো নাগরিকদের উন্নত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু বরুড়া পৌরসভার ক্ষেত্রে এটি কেবলই একটি সরকারি কাগজে বন্দি তকমা। বরুড়া পৌরবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এবং ট্যাক্সের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আসাদুজ্জামান রনি বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। আরো গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি আস্বস্ত করেন। এছাড়া বাজারের ভাউকসার রোডস্থ সলিং অংশ সহ ট্রেন্ডার হয়েছে পৌরসভার অন্যান্য রাস্তা ঘাট, ডেনের যত রকমের সমস্যা আছে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বআরোপ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণী হলেও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত বরুড়া পৌরবাসি

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম উপজেলা বরুড়া। এই উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বরুড়া পৌরসভা দীর্ঘ ৩ দশক পার করলেও এখনো আধুনিক নগরায়নের ছোঁয়া পায়নি। ২০২২ সালের শুরুতে পৌরসভাটিকে অত্যন্ত ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘ক’ বা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা হলেও গত চার বছরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।


বর্ধিত হারে কর (ট্যাক্স) ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেও নাগরিকরা ভুগছেন চরম বৈষম্য আর অবহেলায়। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং তীব্র যানজট এখন এই পৌরসভার নিত্যদিনের চিত্র। ভাঙাচোরা রাস্তা ও যানজট এখন নরকযন্ত্রণা। পৌরসভার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অধিকাংশ রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়।


এর সাথে যোগ হয়েছে তীব্র যানজট। বরুড়া বাজারে কোনো বাইপাস সড়ক না থাকায় চান্দিনা ও ঝলম রোড থেকে আসা শত শত যানবাহন প্রতিদিন বাজারের ওপর দিয়ে চলাচল করে। ফুটপাত দখল, অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। 


স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, একটি কার্যকর ‘বাইপাস রাস্তা’র পরিকল্পনা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কিন্তু বরুড়া পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন তো দূরের কথা, বিদ্যমান ড্রেনগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও বাসাবাড়িতে নোংরা পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ময়লা পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ না থাকায় সাধারণ মানুষকে নোংরা পানি মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।


পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য অপসারণাগার নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের গৃহস্থালি বর্জ্য এবং বাজারের ময়লা-আবর্জনা সড়কের পাশে কিংবা খোলা জায়গায় ফেলে রাখছেন। এর ফলে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রথম শ্রেণীর কর দিয়েও এমন নোংরা পরিবেশে বসবাস করাকে নাগরিকরা তাদের অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন।


পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, "পৌরসভা প্রথম শ্রেণী হওয়ার পর আমাদের হোল্ডিং ট্যাক্স ও বিভিন্ন সনদের ফি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আমরা নিয়মিত কর দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি গ্রামের চেয়েও খারাপ। না আছে ভালো রাস্তা, না আছে রাতে পর্যাপ্ত ল্যাম্প পোস্টের আলো। এটি প্রথম শ্রেণীর আড়ালে তৃতীয় শ্রেণীর চেয়েও নিম্নমানের সেবা।


কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা পৌরসভার এই বেহাল দশা ও নাগরিক সেবার চরম বিপর্যয় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। বাজেট স্বল্পতা বা নানা অজুহাতে বছরের পর বছর মৌলিক এই সমস্যাগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।


একটি পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করার মূল উদ্দেশ্যই হলো নাগরিকদের উন্নত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু বরুড়া পৌরসভার ক্ষেত্রে এটি কেবলই একটি সরকারি কাগজে বন্দি তকমা। বরুড়া পৌরবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এবং ট্যাক্সের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আসাদুজ্জামান রনি বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। আরো গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি আস্বস্ত করেন। এছাড়া বাজারের ভাউকসার রোডস্থ সলিং অংশ সহ ট্রেন্ডার হয়েছে পৌরসভার অন্যান্য রাস্তা ঘাট, ডেনের যত রকমের সমস্যা আছে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বআরোপ করা হবে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই