বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের ‘পরবর্তী স্বর্ণযুগ’-এর ভিত্তি আরও শক্ত করবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের একটি নিবন্ধ দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেখানে বলা হয়, চীন সবসময়ই আকার, ক্ষমতা বা অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সব দেশকে সমান হিসেবে দেখে এবং পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও লাভজনক সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাস করে।
কূটনৈতিক বন্ধন ও ঐতিহাসিক পটভূমি:১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একাধিকবারের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক অনন্য গভীরতা দিয়েছিল। চীন মনে করে, বাংলাদেশ সবসময় তাদের স্বাধীনতা ও উন্নয়ন যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দুই দেশই পরস্পরের মূল স্বার্থের ক্ষেত্রে সবসময় সমর্থন দিয়ে এসেছে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব :বিগত ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীন যে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, তা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, টেক্সটাইল, আইসিটি ও জ্বালানি খাতে প্রায় সাতশ’র বেশি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে, যা দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশে এক গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে ও দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যত সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রসমূহ:
নিবন্ধে তিনি দুই দেশের কিছু সহযোগিতার ক্ষেত্র তুলে ধরেছেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
উচ্চ প্রযুক্তি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আইসিটি খাতে সহযোগিতা।
সবুজ উন্নয়ন: পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং সবুজ উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।
সামাজিক খাত: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি বিনিময়ে নতুন উদ্যোগ।
বৈশ্বিক রাজনীতি ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম
উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায়, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামীতে জাতিসংঘ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
ইয়াও ওয়েন মনে করেন, রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ—এই তিন ক্ষেত্রের অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চূড়ান্তভাবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বের বন্ধন আরও গভীর করবে।
তথ্য ও ছবি: চীনা দূতাবাস।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের ‘পরবর্তী স্বর্ণযুগ’-এর ভিত্তি আরও শক্ত করবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের একটি নিবন্ধ দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেখানে বলা হয়, চীন সবসময়ই আকার, ক্ষমতা বা অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সব দেশকে সমান হিসেবে দেখে এবং পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও লাভজনক সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাস করে।
কূটনৈতিক বন্ধন ও ঐতিহাসিক পটভূমি:১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একাধিকবারের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক অনন্য গভীরতা দিয়েছিল। চীন মনে করে, বাংলাদেশ সবসময় তাদের স্বাধীনতা ও উন্নয়ন যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দুই দেশই পরস্পরের মূল স্বার্থের ক্ষেত্রে সবসময় সমর্থন দিয়ে এসেছে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব :বিগত ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীন যে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, তা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, টেক্সটাইল, আইসিটি ও জ্বালানি খাতে প্রায় সাতশ’র বেশি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে, যা দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশে এক গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে ও দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যত সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রসমূহ:
নিবন্ধে তিনি দুই দেশের কিছু সহযোগিতার ক্ষেত্র তুলে ধরেছেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
উচ্চ প্রযুক্তি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আইসিটি খাতে সহযোগিতা।
সবুজ উন্নয়ন: পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং সবুজ উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।
সামাজিক খাত: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি বিনিময়ে নতুন উদ্যোগ।
বৈশ্বিক রাজনীতি ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম
উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায়, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামীতে জাতিসংঘ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
ইয়াও ওয়েন মনে করেন, রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ—এই তিন ক্ষেত্রের অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চূড়ান্তভাবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বের বন্ধন আরও গভীর করবে।
তথ্য ও ছবি: চীনা দূতাবাস।

আপনার মতামত লিখুন