দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন সংকট এবং খাল দখল-ভরাটের সমস্যা মোকাবিলায় ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে সরকারি খাল খনন করতে পারবে এবং খননকৃত মাটি ও বালি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার বা বিক্রি করার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশলী ও কৃষি কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা এবং কতটুকু মাটি উত্তোলন করা যাবে—তার একটি প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হবে। একই খালের জন্য একাধিক আবেদন হলে আলোচনা অথবা লটারির মাধ্যমে আবেদনকারী নির্বাচন করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, খননকাজ শেষে খালের নাব্যতা বজায় রাখতে এবং পরিবেশ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। খননকৃত মাটি, বালি ও আগাছা নির্ধারিত দূরত্বে অপসারণ করতে হবে এবং অতিরিক্ত খননের ফলে কারও জমি বা স্থাপনার ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পুরো কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে পরিচালিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু খাল দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে নাব্যতা হারিয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনে বাধা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করার ফলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমবে, দ্রুত খাল পুনঃখনন সম্ভব হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজে প্রয়োজনীয় মাটি ও বালির চাহিদাও পূরণ হবে। তবে এই সুযোগ যেন অবৈধ মাটি বা বালু ব্যবসার মাধ্যম না হয়ে ওঠে, সেজন্য কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে খালের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি, কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর মডেল গড়ে উঠতে পারে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন সংকট এবং খাল দখল-ভরাটের সমস্যা মোকাবিলায় ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে সরকারি খাল খনন করতে পারবে এবং খননকৃত মাটি ও বালি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার বা বিক্রি করার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশলী ও কৃষি কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা এবং কতটুকু মাটি উত্তোলন করা যাবে—তার একটি প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হবে। একই খালের জন্য একাধিক আবেদন হলে আলোচনা অথবা লটারির মাধ্যমে আবেদনকারী নির্বাচন করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, খননকাজ শেষে খালের নাব্যতা বজায় রাখতে এবং পরিবেশ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। খননকৃত মাটি, বালি ও আগাছা নির্ধারিত দূরত্বে অপসারণ করতে হবে এবং অতিরিক্ত খননের ফলে কারও জমি বা স্থাপনার ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পুরো কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে পরিচালিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু খাল দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে নাব্যতা হারিয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনে বাধা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করার ফলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমবে, দ্রুত খাল পুনঃখনন সম্ভব হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজে প্রয়োজনীয় মাটি ও বালির চাহিদাও পূরণ হবে। তবে এই সুযোগ যেন অবৈধ মাটি বা বালু ব্যবসার মাধ্যম না হয়ে ওঠে, সেজন্য কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে খালের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি, কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর মডেল গড়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন