মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

সাংবাদিকতা আজ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়, আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে: পিআইবির মহাপরিচালক

সাংবাদিকতা আজ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়, আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে: পিআইবির মহাপরিচালক

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকতা বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা যদি তার হারানো মর্যাদা, সততা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশ আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট চেকিং দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী জেলা সমবায় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী জেলার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ফারুক ওয়াসিফ বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে দেশের সাংবাদিকতা গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করার প্রবণতায় অনেক ক্ষেত্রে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।" তিনি এ ধরনের প্রবণতাকে "শিকারি সাংবাদিকতা" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি এখন সাংবাদিকতা শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক সময় মূলধারার গণমাধ্যমও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুল তথ্য প্রকাশ করছে। এর অন্যতম কারণ "কনফার্মেশন বায়াস", যেখানে মানুষ আগে থেকে বিশ্বাস করা তথ্যকেই সহজে সত্য হিসেবে গ্রহণ ও প্রচার করে। এর ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে নারী নেত্রীরা নানা ধরনের অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।

পিআইবির মহাপরিচালক বলেন, একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ সংগ্রহকারী নন; তিনি সমাজের পর্যবেক্ষক, গবেষক এবং ইতিহাসের দলিল রচনার অন্যতম অংশীদার। তাই তথ্য যাচাই, পেশাগত নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা ও সত্য অনুসন্ধানের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক সাংবাদিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট চেকিং দক্ষতার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই দশক ধরে নতুন জনবল নিয়োগ না হলেও নিজস্ব সক্ষমতায় পিআইবি দেশব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পিআইবিকে একটি একাডেমিক এক্সিলেন্স সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার ওপর মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সাংবাদিকতার ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সহজ, সাবলীল ও প্রাঞ্জল বাংলায় লেখা সংবাদই পাঠকের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। একটি ভালো প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্যের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ মতামত, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শক্তিশালী বয়ানেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কার্টুন বিতর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, শৈল্পিক স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। ক্ষমতা, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্টুন হতে পারে; তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করা নৈতিক সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন এবং রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত।


প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


সাংবাদিকতা আজ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়, আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে: পিআইবির মহাপরিচালক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকতা বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা যদি তার হারানো মর্যাদা, সততা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশ আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট চেকিং দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী জেলা সমবায় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী জেলার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ফারুক ওয়াসিফ বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে দেশের সাংবাদিকতা গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করার প্রবণতায় অনেক ক্ষেত্রে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।" তিনি এ ধরনের প্রবণতাকে "শিকারি সাংবাদিকতা" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি এখন সাংবাদিকতা শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক সময় মূলধারার গণমাধ্যমও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুল তথ্য প্রকাশ করছে। এর অন্যতম কারণ "কনফার্মেশন বায়াস", যেখানে মানুষ আগে থেকে বিশ্বাস করা তথ্যকেই সহজে সত্য হিসেবে গ্রহণ ও প্রচার করে। এর ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে নারী নেত্রীরা নানা ধরনের অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।

পিআইবির মহাপরিচালক বলেন, একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ সংগ্রহকারী নন; তিনি সমাজের পর্যবেক্ষক, গবেষক এবং ইতিহাসের দলিল রচনার অন্যতম অংশীদার। তাই তথ্য যাচাই, পেশাগত নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা ও সত্য অনুসন্ধানের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক সাংবাদিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট চেকিং দক্ষতার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই দশক ধরে নতুন জনবল নিয়োগ না হলেও নিজস্ব সক্ষমতায় পিআইবি দেশব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পিআইবিকে একটি একাডেমিক এক্সিলেন্স সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার ওপর মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সাংবাদিকতার ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সহজ, সাবলীল ও প্রাঞ্জল বাংলায় লেখা সংবাদই পাঠকের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। একটি ভালো প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্যের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ মতামত, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শক্তিশালী বয়ানেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কার্টুন বিতর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, শৈল্পিক স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। ক্ষমতা, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্টুন হতে পারে; তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করা নৈতিক সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন এবং রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত।


প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই