মুক্তির লড়াই

রাজধানী

বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন

পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

প্রকাশ্যে দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা ও তাণ্ডব সংঘটিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে ঘটা এই বর্বরোচিত হামলাকে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ।

​পুলিশের সামনেই সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী তাণ্ডব: ​প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রবাসী জুবায়ের আহমেদের মালিকানাধীন সম্পদ দখলচেষ্টায় ভূমিদস্যু চক্রের জালিয়াতির দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই বাড়ির সিকিউরিটি ইনচার্জ সোহাগ বিন সাইফুল্লাহ। খবর পেয়ে মোহনা টিভি, দেশ টিভি, গ্রীন টিভি, এশিয়ান টিভি, পাক্ষিক অপরাধ জগত, দৈনিক মুক্তির লড়াই, দৈনিক লাল সবুজের দেশ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার এবং দৈনিক ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ২৫-৩০ জন সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।

​সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সিকিউরিটি ইনচার্জ জালিয়াতির কাগজপত্র প্রদর্শন শুরু করা মাত্রই রাজেশের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী চক্রের ক্যাডাররা সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক, নিরাপত্তা কর্মী ও ভাড়াটিয়াদের উদ্ধার করে।


​মামলার পরও অধরা আসামিরা, প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া: ​অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে হামলা ও জখমের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ১১) দায়ের করা হয়।

​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এবং গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। মামলা সত্ত্বেও থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাদের অপরাধমূলক তাণ্ডব আরও বেড়ে যায়। গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমদের নেতৃত্বে প্রশাসনের সামনেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় মহড়া ও হামলা চালানো হয়।

​দিনের আলোয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে চিহ্নিত চক্রের এমন মুক্ত বিচরণ ও তাণ্ডবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি তবে ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?

​স্থানীয় ও সাধারণ মানুষের ৩ দফা দাবি: ​এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন: ​জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত: ভুয়া বালাম বইয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাতের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেনসিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।


​মদদদাতা ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার: জমি দখল ও হামলায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে তাণ্ডব চালানো গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া ও রেজাউল করিমসহ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

​এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা: চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের অস্ত্র মহড়া বন্ধ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে হবে এবং সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রকাশ্যে দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা ও তাণ্ডব সংঘটিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে ঘটা এই বর্বরোচিত হামলাকে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ।


​পুলিশের সামনেই সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী তাণ্ডব: ​প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রবাসী জুবায়ের আহমেদের মালিকানাধীন সম্পদ দখলচেষ্টায় ভূমিদস্যু চক্রের জালিয়াতির দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই বাড়ির সিকিউরিটি ইনচার্জ সোহাগ বিন সাইফুল্লাহ। খবর পেয়ে মোহনা টিভি, দেশ টিভি, গ্রীন টিভি, এশিয়ান টিভি, পাক্ষিক অপরাধ জগত, দৈনিক মুক্তির লড়াই, দৈনিক লাল সবুজের দেশ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার এবং দৈনিক ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ২৫-৩০ জন সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।


​সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সিকিউরিটি ইনচার্জ জালিয়াতির কাগজপত্র প্রদর্শন শুরু করা মাত্রই রাজেশের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী চক্রের ক্যাডাররা সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক, নিরাপত্তা কর্মী ও ভাড়াটিয়াদের উদ্ধার করে।


​মামলার পরও অধরা আসামিরা, প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া: ​অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে হামলা ও জখমের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ১১) দায়ের করা হয়।

​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এবং গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। মামলা সত্ত্বেও থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাদের অপরাধমূলক তাণ্ডব আরও বেড়ে যায়। গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমদের নেতৃত্বে প্রশাসনের সামনেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় মহড়া ও হামলা চালানো হয়।


​দিনের আলোয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে চিহ্নিত চক্রের এমন মুক্ত বিচরণ ও তাণ্ডবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি তবে ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?


​স্থানীয় ও সাধারণ মানুষের ৩ দফা দাবি: ​এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন: ​জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত: ভুয়া বালাম বইয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাতের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেনসিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।


​মদদদাতা ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার: জমি দখল ও হামলায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে তাণ্ডব চালানো গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া ও রেজাউল করিমসহ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।


​এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা: চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের অস্ত্র মহড়া বন্ধ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে হবে এবং সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই