মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

২৪ ঘণ্টায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন গোপালগঞ্জ

তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, হামলার আশঙ্কায় এসপির কাছে নিরাপত্তা চাইল বিদ্যুৎ অফিস

তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, হামলার আশঙ্কায় এসপির কাছে নিরাপত্তা চাইল বিদ্যুৎ অফিস

গরমের তীব্রতায় যখন একটু স্বস্তির জন্য বিদ্যুতের অপেক্ষায় নগরবাসী, তখনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে ডুবে থাকছে গোপালগঞ্জ শহর। দিন-রাত সমানতালে চলছে লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহকেরা।

একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সম্ভাব্য হামলা, নাশকতা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে দপ্তর, বিদ্যুৎ স্থাপনা, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউজ, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের জীবনযাত্রায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্ষুদ্র শিল্প ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

ওজোপাডিকোর চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কোনো অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বা জনসাধারণ দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন। এমনকি যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা বা নাশকতার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জ দপ্তরের সব স্থাপনা এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহল রুটের আওতায় আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের দপ্তরসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় শহরে লোডশেডিং হচ্ছে। গোপালগঞ্জে আমাদের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু বরাদ্দ পাচ্ছি ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এতে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা আমাদের অফিস বা উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই দপ্তর, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “আমি এখনো চিঠিটি হাতে পাইনি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।”

তবে গোপালগঞ্জের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের প্রশ্ন—লোডশেডিংয়ের দায় যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বরাদ্দ সংকটে, তখন তার খেসারত কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থেকে গ্রাহকদের দিতে হবে?

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, আর সেই ক্ষোভের সম্ভাব্য বহিঃপ্রকাশ ঠেকাতে এখন নিরাপত্তা চাইছে বিদ্যুৎ অফিস। ফলে গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎ সংকট শুধু জনদুর্ভোগেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

গ্রাহকদের দাবি, নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় তীব্র গরম, দীর্ঘ লোডশেডিং ও জনঅসন্তোষ—এই তিনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, হামলার আশঙ্কায় এসপির কাছে নিরাপত্তা চাইল বিদ্যুৎ অফিস

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গরমের তীব্রতায় যখন একটু স্বস্তির জন্য বিদ্যুতের অপেক্ষায় নগরবাসী, তখনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে ডুবে থাকছে গোপালগঞ্জ শহর। দিন-রাত সমানতালে চলছে লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহকেরা।

একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সম্ভাব্য হামলা, নাশকতা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে দপ্তর, বিদ্যুৎ স্থাপনা, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউজ, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের জীবনযাত্রায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্ষুদ্র শিল্প ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

ওজোপাডিকোর চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কোনো অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বা জনসাধারণ দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন। এমনকি যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা বা নাশকতার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জ দপ্তরের সব স্থাপনা এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহল রুটের আওতায় আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের দপ্তরসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় শহরে লোডশেডিং হচ্ছে। গোপালগঞ্জে আমাদের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু বরাদ্দ পাচ্ছি ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এতে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা আমাদের অফিস বা উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই দপ্তর, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “আমি এখনো চিঠিটি হাতে পাইনি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।”

তবে গোপালগঞ্জের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের প্রশ্ন—লোডশেডিংয়ের দায় যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বরাদ্দ সংকটে, তখন তার খেসারত কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থেকে গ্রাহকদের দিতে হবে?

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, আর সেই ক্ষোভের সম্ভাব্য বহিঃপ্রকাশ ঠেকাতে এখন নিরাপত্তা চাইছে বিদ্যুৎ অফিস। ফলে গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎ সংকট শুধু জনদুর্ভোগেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

গ্রাহকদের দাবি, নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় তীব্র গরম, দীর্ঘ লোডশেডিং ও জনঅসন্তোষ—এই তিনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।



মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই