মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

সবুজায়নের লক্ষ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বনজ ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ

সবুজায়নের লক্ষ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বনজ ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ

নওগাঁর আত্রাইয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়াতে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাঙ্গণকে সবুজ, ছায়াঘেরা ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগে বনজ ও ফলদ বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-এর অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ চারা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের প্রতিনিধিদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা প্রতিটি চারা যথাযথভাবে রোপণ, সংরক্ষণ ও পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বক্তারা বলেন, একটি বৃক্ষ শুধু ছায়া বা ফল দেয় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে। পাশাপাশি বৃক্ষ বায়ুদূষণ কমানো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয় রোধ, বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে ফলদ বৃক্ষ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। অন্যদিকে বনজ ও ছায়াদানকারী বৃক্ষ দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশকে শীতল রাখতে এবং স্থানীয়ভাবে সবুজ আচ্ছাদন বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে এসব বৃক্ষ রোপণ করা হলে তা একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

তারা বলেন, একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে কয়েকটি গাছ লাগানো হলেও তার প্রভাব হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি। মুসল্লিরা প্রতিদিন গাছগুলোর পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠা দেখবেন। এতে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। এভাবে প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সবুজায়নের আওতায় আনা গেলে পুরো উপজেলাজুড়ে একটি সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফলতা শুধু চারা বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রোপণের পর চারাগুলোকে গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি চারা যত্ন নিয়ে বড় করে তোলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের।

একটি চারা যখন পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত হবে, তখন সেটি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াবে না; বরং পথচারী, মুসল্লি ও স্থানীয় মানুষের জন্য ছায়া দেবে, পরিবেশকে শীতল রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ উত্তরাধিকার তৈরি করবে।

চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান সরদার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আকবর আলী, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে পরিবেশ রক্ষার এ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

আত্রাইয়ের মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাঙ্গণে বিতরণ করা চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বড় হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আজকের একটি চারা আগামী দিনের ছায়া, অক্সিজেন ও নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোর দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


সবুজায়নের লক্ষ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বনজ ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর আত্রাইয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়াতে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাঙ্গণকে সবুজ, ছায়াঘেরা ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগে বনজ ও ফলদ বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-এর অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ চারা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।


আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের প্রতিনিধিদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা প্রতিটি চারা যথাযথভাবে রোপণ, সংরক্ষণ ও পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বক্তারা বলেন, একটি বৃক্ষ শুধু ছায়া বা ফল দেয় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে। পাশাপাশি বৃক্ষ বায়ুদূষণ কমানো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয় রোধ, বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


বিশেষ করে ফলদ বৃক্ষ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। অন্যদিকে বনজ ও ছায়াদানকারী বৃক্ষ দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশকে শীতল রাখতে এবং স্থানীয়ভাবে সবুজ আচ্ছাদন বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে এসব বৃক্ষ রোপণ করা হলে তা একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য সুফল বয়ে আনবে।


মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন আয়োজকরা।


তারা বলেন, একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে কয়েকটি গাছ লাগানো হলেও তার প্রভাব হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি। মুসল্লিরা প্রতিদিন গাছগুলোর পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠা দেখবেন। এতে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। এভাবে প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সবুজায়নের আওতায় আনা গেলে পুরো উপজেলাজুড়ে একটি সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফলতা শুধু চারা বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রোপণের পর চারাগুলোকে গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি চারা যত্ন নিয়ে বড় করে তোলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের।


একটি চারা যখন পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত হবে, তখন সেটি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াবে না; বরং পথচারী, মুসল্লি ও স্থানীয় মানুষের জন্য ছায়া দেবে, পরিবেশকে শীতল রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ উত্তরাধিকার তৈরি করবে।

চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান সরদার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আকবর আলী, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে পরিবেশ রক্ষার এ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।


আত্রাইয়ের মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাঙ্গণে বিতরণ করা চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বড় হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আজকের একটি চারা আগামী দিনের ছায়া, অক্সিজেন ও নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোর দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই