নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে সরকারি ভিপি (অর্পিত/ভেস্টেড) সম্পত্তি থেকে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগে মিন্টু প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু প্রামাণিক সৈয়দপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর গ্রামের সরকারি সম্পত্তিতে থাকা চারটি গুটুল/গাবল গাছ অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মিন্টু প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ইউএনও মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি পরিদর্শন করেন। পরে প্রচলিত আইনের আওতায় তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারি সম্পত্তির কোনো ধরনের ক্ষতি করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা (মুচলেকা) দেন। পরে কেটে ফেলা গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় তহশিলদারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
দেশে সরকারি জমি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণপরিসর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার গাছ ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কেটে ফেলার সুযোগ নেই। বর্তমানে বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বন এবং বিভিন্ন গণপরিসরের গাছ কর্তন বা অপসারণের ক্ষেত্রে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদনের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কর্তন নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত গাছ কাটা যাবে না। আর অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য গাছ কাটতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রেও অনুমতিযোগ্য গাছ কাটার জন্য প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুকসমান উচ্চতায় বেড় এবং কর্তনের কারণ উল্লেখ করে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করার বিধান রয়েছে।
তবে ঝড়ে পড়ে যাওয়া, মৃত, রোগাক্রান্ত বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদনের ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
গাছ শুধু কাঠের উৎস নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয় রোধ, পানি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখায় বৃষ্টির পানি ও বাতাসের কারণে মাটির ক্ষয় কমে। গাছের ছায়া স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
এ ছাড়া গাছ কার্বন সংরক্ষণ করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে। বন ও বৃক্ষ বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল তৈরি করে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটির উর্বরতা কমা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া গাছ না কেটে সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে বৃক্ষ সংরক্ষণ ও নতুন করে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি সম্পত্তির গাছ বা অন্য কোনো সম্পদ অনুমতি ছাড়া কাটার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে সরকারি ভিপি (অর্পিত/ভেস্টেড) সম্পত্তি থেকে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগে মিন্টু প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু প্রামাণিক সৈয়দপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর গ্রামের সরকারি সম্পত্তিতে থাকা চারটি গুটুল/গাবল গাছ অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মিন্টু প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ইউএনও মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি পরিদর্শন করেন। পরে প্রচলিত আইনের আওতায় তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারি সম্পত্তির কোনো ধরনের ক্ষতি করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা (মুচলেকা) দেন। পরে কেটে ফেলা গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় তহশিলদারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
দেশে সরকারি জমি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণপরিসর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার গাছ ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কেটে ফেলার সুযোগ নেই। বর্তমানে বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বন এবং বিভিন্ন গণপরিসরের গাছ কর্তন বা অপসারণের ক্ষেত্রে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদনের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কর্তন নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত গাছ কাটা যাবে না। আর অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য গাছ কাটতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রেও অনুমতিযোগ্য গাছ কাটার জন্য প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুকসমান উচ্চতায় বেড় এবং কর্তনের কারণ উল্লেখ করে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করার বিধান রয়েছে।
তবে ঝড়ে পড়ে যাওয়া, মৃত, রোগাক্রান্ত বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদনের ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
গাছ শুধু কাঠের উৎস নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয় রোধ, পানি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখায় বৃষ্টির পানি ও বাতাসের কারণে মাটির ক্ষয় কমে। গাছের ছায়া স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
এ ছাড়া গাছ কার্বন সংরক্ষণ করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে। বন ও বৃক্ষ বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল তৈরি করে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটির উর্বরতা কমা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া গাছ না কেটে সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে বৃক্ষ সংরক্ষণ ও নতুন করে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি সম্পত্তির গাছ বা অন্য কোনো সম্পদ অনুমতি ছাড়া কাটার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন