মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

আত্রাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে ৫ যুবকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

আত্রাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে ৫ যুবকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

নওগাঁর আত্রাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেলে উপজেলার বেওলা ও খোলাপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের সময় তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে ওই রাতেই নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোঁপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করে নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।

অভিযানের প্রথমে উপজেলার বেওলা পাকা রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবনরত অবস্থায় বেওলা গ্রামের সাইফুল মোল্লা (৩২) ও রুবেল সরদার (২৬)-কে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।


অন্যদিকে, উপজেলার খোলাপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে শ্রী উজ্জ্বল কুমার (৩২) ও ভড়-তেতুলিয়া গ্রামের মাসুম আকন্দ (৪৭)-কে মাদক সেবনের সময় আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।

একই অভিযানে ভড়-তেতুলিয়া গ্রামের ফরিদ (৫০)-কে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

আদালতের কার্যক্রম শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, আত্রাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে পাঁচজনের কারাদণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নষ্ট করে না, এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লে তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান ও শাস্তি দিলেই হবে না, এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের চলাফেরা ও বন্ধুবান্ধবের বিষয়ে খোঁজখবর রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, মাদক সেবনকারীদের পাশাপাশি মাদক বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ মাদক সহজলভ্য থাকলে নতুন করে অনেক তরুণ এতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মাদকের উৎস, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে না তুলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় বা হয়রানি না করে যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ যথাযথ চিকিৎসা, পারিবারিক সহযোগিতা ও সামাজিক সহায়তা পেলে অনেক মাদকাসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

আত্রাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, প্রচার-প্রচারণা ও সামাজিক কর্মসূচি আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন স্থানীয়রা।


তাদের মতে, পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক ও প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনিরুজ্জামান জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদকের উৎস, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধে অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে তারা।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


আত্রাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে ৫ যুবকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর আত্রাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেলে উপজেলার বেওলা ও খোলাপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের সময় তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে ওই রাতেই নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোঁপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করে নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।


অভিযানের প্রথমে উপজেলার বেওলা পাকা রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবনরত অবস্থায় বেওলা গ্রামের সাইফুল মোল্লা (৩২) ও রুবেল সরদার (২৬)-কে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।


অন্যদিকে, উপজেলার খোলাপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে শ্রী উজ্জ্বল কুমার (৩২) ও ভড়-তেতুলিয়া গ্রামের মাসুম আকন্দ (৪৭)-কে মাদক সেবনের সময় আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।


একই অভিযানে ভড়-তেতুলিয়া গ্রামের ফরিদ (৫০)-কে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।


আদালতের কার্যক্রম শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।


এদিকে, আত্রাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে পাঁচজনের কারাদণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নষ্ট করে না, এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লে তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান ও শাস্তি দিলেই হবে না, এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের চলাফেরা ও বন্ধুবান্ধবের বিষয়ে খোঁজখবর রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।


স্থানীয়দের দাবি, মাদক সেবনকারীদের পাশাপাশি মাদক বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ মাদক সহজলভ্য থাকলে নতুন করে অনেক তরুণ এতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মাদকের উৎস, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


তবে মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে না তুলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় বা হয়রানি না করে যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।


সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ যথাযথ চিকিৎসা, পারিবারিক সহযোগিতা ও সামাজিক সহায়তা পেলে অনেক মাদকাসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।


আত্রাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, প্রচার-প্রচারণা ও সামাজিক কর্মসূচি আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন স্থানীয়রা।


তাদের মতে, পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক ও প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনিরুজ্জামান জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদকের উৎস, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধে অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে তারা।





মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই