মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রভাষক মনজুর হোসেন বাঁচতে চান

কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রভাষক মনজুর হোসেন বাঁচতে চান

যে মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন গড়েছেন, সেই শিক্ষকই আজ নিজ জীবনের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। শ্রেণিকক্ষে যাঁর কণ্ঠে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছে, আজ সেই কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে বেঁচে থাকার আকুতি। জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে  ডায়ালাইসিস আর অসহ্য শারীরিক অসুস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাঁর।

বলছিলাম চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নলুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং হাজীগঞ্জ উপজেলার ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচ. এম. মনজুর হোসেন (৫৫)-এর কথা।

তিনি দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এই মানুষটি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর হাত ধরে অনেক শিক্ষার্থী আজ প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু হঠাৎ করেই কঠিন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি। 

গত ১৯ আগস্ট শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্বস্তি বোধ ও  দূর্বলতা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় - তাঁর একটি কিডনি গুরুতরভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই দুশ্চিন্তা আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁর পরিবারে।


বর্তমানে কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাঁকে। কুমিল্লার মুন হাসপাতালে সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। প্রতিবার ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ভবিষ্যতে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন (কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট) প্রয়োজন । এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

মনজুর হোসেন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান,সহযোগী অধ্যাপক ও কিডনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বাবলু কুমার পাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে স্ত্রী,দুই মেয়ের এই পরিবারটির আয়ের প্রধান ভরসা ছিলেন শিক্ষক মনজুর হোসেন। অথচ আজ নিজের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। একদিকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ব্যয়, অন্যদিকে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিশাল চিকিৎসা ব্যয়—সব মিলিয়ে পরিবারটি যেন অসহায় হয়ে পড়েছে।

অসুস্থ শিক্ষক এইচ. এম. মনজুর হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসছি। আমার হাত ধরে অনেক শিক্ষার্থী আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আমার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা অর্থের প্রয়োজন, যা আমার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান মানুষ, প্রশাসন ও মানবিক হৃদয়ের মানুষের কাছে আমি সহযোগিতা চাই।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয় চালিয়ে যাওয়াও তাঁর পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষের সামান্য সামান্য সহযোগিতাই তাঁর চিকিৎসার পথকে এগিয়ে নিতে পারে।

একজন শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নন—তিনি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর। বছরের পর বছর অন্যের সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে যিনি নিজের সময় ও শ্রম দিয়েছেন, আজ সেই শিক্ষকই নিজের জীবন বাঁচাতে সমাজের মানুষের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:

বিকাশ:01912461579। কেউ চাইলে ব্যাংক হিসেবেও টাকা পাঠাতে পারেন। 

এইচ. এম. মনজুর হোসেন, জনতা ব্যাংক লিমিটেড,হাজীগঞ্জ শাখা, চাঁদপুর। হিসাব নম্বর: 0100039575820,রাউটিং নাম্বার-135130887।

তাঁর সহকর্মী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে তাঁর পরিবার। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় হয়তো আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারবেন এই মানুষ গড়ার কারিগর।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রভাষক মনজুর হোসেন বাঁচতে চান

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

যে মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন গড়েছেন, সেই শিক্ষকই আজ নিজ জীবনের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। শ্রেণিকক্ষে যাঁর কণ্ঠে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছে, আজ সেই কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে বেঁচে থাকার আকুতি। জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে  ডায়ালাইসিস আর অসহ্য শারীরিক অসুস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাঁর।

বলছিলাম চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নলুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং হাজীগঞ্জ উপজেলার ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচ. এম. মনজুর হোসেন (৫৫)-এর কথা।

তিনি দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এই মানুষটি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর হাত ধরে অনেক শিক্ষার্থী আজ প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু হঠাৎ করেই কঠিন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি। 

গত ১৯ আগস্ট শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্বস্তি বোধ ও  দূর্বলতা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় - তাঁর একটি কিডনি গুরুতরভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই দুশ্চিন্তা আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁর পরিবারে।


বর্তমানে কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাঁকে। কুমিল্লার মুন হাসপাতালে সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। প্রতিবার ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ভবিষ্যতে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন (কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট) প্রয়োজন । এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

মনজুর হোসেন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান,সহযোগী অধ্যাপক ও কিডনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বাবলু কুমার পাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে স্ত্রী,দুই মেয়ের এই পরিবারটির আয়ের প্রধান ভরসা ছিলেন শিক্ষক মনজুর হোসেন। অথচ আজ নিজের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। একদিকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ব্যয়, অন্যদিকে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিশাল চিকিৎসা ব্যয়—সব মিলিয়ে পরিবারটি যেন অসহায় হয়ে পড়েছে।

অসুস্থ শিক্ষক এইচ. এম. মনজুর হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসছি। আমার হাত ধরে অনেক শিক্ষার্থী আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আমার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা অর্থের প্রয়োজন, যা আমার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান মানুষ, প্রশাসন ও মানবিক হৃদয়ের মানুষের কাছে আমি সহযোগিতা চাই।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয় চালিয়ে যাওয়াও তাঁর পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষের সামান্য সামান্য সহযোগিতাই তাঁর চিকিৎসার পথকে এগিয়ে নিতে পারে।

একজন শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নন—তিনি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর। বছরের পর বছর অন্যের সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে যিনি নিজের সময় ও শ্রম দিয়েছেন, আজ সেই শিক্ষকই নিজের জীবন বাঁচাতে সমাজের মানুষের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:

বিকাশ:01912461579। কেউ চাইলে ব্যাংক হিসেবেও টাকা পাঠাতে পারেন। 


এইচ. এম. মনজুর হোসেন, জনতা ব্যাংক লিমিটেড,হাজীগঞ্জ শাখা, চাঁদপুর। হিসাব নম্বর: 0100039575820,রাউটিং নাম্বার-135130887।


তাঁর সহকর্মী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে তাঁর পরিবার। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় হয়তো আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারবেন এই মানুষ গড়ার কারিগর।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই