ঢাকা   শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
মুক্তির লড়াই

বরুড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের খাল: অবহেলায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ



বরুড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের খাল: অবহেলায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও অযত্নের শিকার হয়ে আছে। খালটিতে জমে থাকা অপরিষ্কার ও নোংরা পানির কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশা-মাছির উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে খালের আশপাশের বাড়িঘরে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে উঠছে এবং মশাবাহিত নানা রোগ-ব্যাধির ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।


উল্লেখ্য, বরুড়া বাজারসহ পৌর এলাকার একটি বড় অংশের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম এই খালটি। পৌরসভার সাহারপদুয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মৌলভীবাজার ও পাঠানপাড়া হয়ে থানার দক্ষিণাংশে  কালভার্টের কাছে এসে  খালটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি শাখা ভোমুরী হয়ে শাকপুর দিয়ে কার্জন খালে এবং অপর শাখা থানার পেছন দিক দিয়ে পৌরসভার মালি বাড়ি, অর্জুনতলা ও দেওড়া গ্রাম অতিক্রম করে কার্জন খালে গিয়ে মিশেছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এ পর্যন্ত বরুড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে খালটির পূর্ণাঙ্গ খনন, সংস্কার কিংবা নিয়মিত পরিষ্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যদিও কয়েক মাস আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নু এমং মারমা মং পাট বাজার কালভার্টের দুই পাশে সীমিত পরিসরে পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য।


আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটির বিভিন্ন অংশ দখলের মুখে পড়ছে। খালের সীমানা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ না থাকায় ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও জনভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বরুড়াকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই খালটির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দ্রুত খনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এ বিষয় পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ পাভেল হোসেন বলেন, পাঠানপাড়া ব্রীজের পাশে পৌরসভার গরুর জবাইয়ের ঘর, দুঃখ জনক হলেও সত্য পৌরসভা এ এ থেকে আয় করছে সংস্কার করছে না। অনেক দূর গন্ধ। রাস্তায় চলাচলে পথচারীরা কষ্ট পাচ্ছে।   ওরাই আপনজন সামাজিক সংগঠন এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুকুল ইসলাম বলেন, এ খাল ট বরুড়া সৌন্দর্যের প্রাণ, সরকারি চাকরি শেষ করে অবসরে বাড়িতে আসলাম। এ খাল ট কখনো সংস্কার দেখেনি। পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বরুড়া পাঠানপাড়ার আসাদুজ্জামান নূর ভূঁইয়া বলেন, খালের পাশে আমাদের ভূঁইয়া বাড়ি। খাল আশীর্বাদ হলে এখন অভিশাপের মাঝে আছি। এতো দূর গন্ধ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সীমানা নির্দ্বারণ ও খনন জরুরী। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসীর জোর দাবি—জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬


বরুড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের খাল: অবহেলায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও অযত্নের শিকার হয়ে আছে। খালটিতে জমে থাকা অপরিষ্কার ও নোংরা পানির কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশা-মাছির উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে খালের আশপাশের বাড়িঘরে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে উঠছে এবং মশাবাহিত নানা রোগ-ব্যাধির ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।



উল্লেখ্য, বরুড়া বাজারসহ পৌর এলাকার একটি বড় অংশের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম এই খালটি। পৌরসভার সাহারপদুয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মৌলভীবাজার ও পাঠানপাড়া হয়ে থানার দক্ষিণাংশে  কালভার্টের কাছে এসে  খালটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি শাখা ভোমুরী হয়ে শাকপুর দিয়ে কার্জন খালে এবং অপর শাখা থানার পেছন দিক দিয়ে পৌরসভার মালি বাড়ি, অর্জুনতলা ও দেওড়া গ্রাম অতিক্রম করে কার্জন খালে গিয়ে মিশেছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এ পর্যন্ত বরুড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে খালটির পূর্ণাঙ্গ খনন, সংস্কার কিংবা নিয়মিত পরিষ্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যদিও কয়েক মাস আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নু এমং মারমা মং পাট বাজার কালভার্টের দুই পাশে সীমিত পরিসরে পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য।


আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটির বিভিন্ন অংশ দখলের মুখে পড়ছে। খালের সীমানা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ না থাকায় ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও জনভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বরুড়াকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই খালটির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দ্রুত খনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এ বিষয় পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ পাভেল হোসেন বলেন, পাঠানপাড়া ব্রীজের পাশে পৌরসভার গরুর জবাইয়ের ঘর, দুঃখ জনক হলেও সত্য পৌরসভা এ এ থেকে আয় করছে সংস্কার করছে না। অনেক দূর গন্ধ। রাস্তায় চলাচলে পথচারীরা কষ্ট পাচ্ছে।   ওরাই আপনজন সামাজিক সংগঠন এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুকুল ইসলাম বলেন, এ খাল ট বরুড়া সৌন্দর্যের প্রাণ, সরকারি চাকরি শেষ করে অবসরে বাড়িতে আসলাম। এ খাল ট কখনো সংস্কার দেখেনি। পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বরুড়া পাঠানপাড়ার আসাদুজ্জামান নূর ভূঁইয়া বলেন, খালের পাশে আমাদের ভূঁইয়া বাড়ি। খাল আশীর্বাদ হলে এখন অভিশাপের মাঝে আছি। এতো দূর গন্ধ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সীমানা নির্দ্বারণ ও খনন জরুরী। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসীর জোর দাবি—জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত